Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের পুলিস মর্গে দেহ রাখার জায়গা নেই, বিপাকে হাসপাতাল

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালের পুলিস মর্গে দেহ রাখার জায়গা নেই, বিপাকে হাসপাতাল
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের পুলিস মর্গে লাশের পাহাড়। বেওয়ারিশ লাশ রাখার আর জায়গা নেই। গরমের সময় পচা লাশের গন্ধে নাজেহাল অবস্থা সাধারণ মানুষের। মেডিক্যাল কলেজের পিছনে বহরমপুর কোর্ট রেল স্টেশন সংলগ্ন একটি ঘরে জেলার বেওয়ারিশ লাশ মজুত রাখা হয়। গত ১০ বছর ধরে সেখানে লাশ জমছে। প্রায় ৭০০ লাশ সেখানে রয়েছে বলেই জানা গিয়েছে। অধিকাংশ দেহ ও দেহাংশ পচে গিয়েছে। তার থেকে তীব্র পচা গন্ধ বের হচ্ছে। প্রতিদিনই দাবিহীন মৃতদেহের সংখ্যা বাড়ছে হাসপাতালের মর্গে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সেগুলির সৎকারের কোনও ব্যবস্থা হচ্ছে না, অভিযোগ এমনটাই। এদিকে, প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ বহরমপুর কোর্ট স্টেশন থেকে ট্রেন ধরার জন্য মেডিক্যাল কলেজের পিছনের রাস্তা ব্যবহার করেন। পাশেই বেওয়ারিশ লাশ রাখার ঘর থেকে আসা পচা গন্ধে নাজেহাল হতে হয় সাধারণ মানুষকে। নাকে ও মুখে রুমাল দিয়ে যাতায়াত করতে হয় পথচলতি বাসিন্দাদের। দুর্গন্ধে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। দিনের পর দিন আইনি গেরোয় সেইসব দেহের সৎকার করা হয়নি। বছর খানেকেরও বেশি সময় ধরে পড়ে রয়েছে দাবিদারহীন দেহগুলি। এখন পরিস্থিতি এমনই শোচনীয় যে, নতুন করে মৃতদেহ রাখার জায়গা নেই ওই মর্গে। 

Advertisement

মেডিক্যাল কলেজের সুপার অনাদি রায় চৌধুরী বলেন, ১০ বছর ধরে লাশ জমছে। প্রায় পাঁচশো থেকে সাতশো দাবিদারহীন লাশ আছে ওখানে। কীভাবে আইন মেনে সেগুলি ডিকম্পোজ করা যায়, তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মেডিক্যাল কলেজ ও পুলিস সূত্রের খবর, কোথাও ভবঘুরের মৃত্যু হলে বা কোথা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির দেহ উদ্ধার হলে সেগুলির পুলিসি তদন্ত হয়। ময়নাতদন্ত করে সেই দেহ মর্গেই রাখা হয়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী মর্গের বেওয়ারিশ দেহ সৎকারের ব্যবস্থা করে পুরসভা। কিন্তু এর আগেও পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিঠি পাঠিয়ে বহরমপুর পুরসভাকে ওই বেওয়ারিশ লাশ সৎকারের জন্য আর্জি জানিয়েছিল। কিন্তু পুরসভা পত্রপাঠ ওই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিল। তবে এবার বেওয়ারিশ লাশের সৎকারের উপযুক্ত ব্যবস্থা হবে বলেই আশাবাদী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মর্গের এক কর্মী বলেন, এত বড় জেলায় প্রতিদিনই দু’একটি করে বেওয়ারিশ লাশ মর্গে আসে। সেগুলি রাখার জায়গা হচ্ছে না। বেশ কিছুদিন পরেও কেউ যদি এসে দেহ দাবি করে, সেক্ষেত্রে পুলিস আইন মেনে তা পরিবারের হাতে তুলে দেয়। তাই লাশ সংরক্ষণ করে রাখতে হয়। কিন্তু এখন লাশঘরের যা পরিস্থিতি, পাহাড়ের আকার নিয়েছে। নতুন দেহ রাখার জায়গা নেই। বছর দশেক আগেকার দেহ পচে গলে দূষণ ছড়াচ্ছে। 
বহরমপুরের বাসিন্দা গৌতমকুমার রায় বলেন, আমি প্রায়শই সাইকেল চালিয়ে বহরমপুর কোর্ট স্টেশনে যাই। লাশঘরের পচা গন্ধে মেডিক্যালের পিছনের ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করাই অসম্ভব হয়ে পড়ছে। প্রশাসন আইন মেনে এই লাশগুলো উপযুক্ত ব্যবস্থা করুক। নাহলে রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করায় মুশকিল হয়ে যাচ্ছে। খাওয়া দাওয়া করে ওই রাস্তা দিয়ে যেতে গেলে বমি উঠে আসে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ