সংবাদদাতা, বহরমপুর: এক মরশুমে দু’বার পাট চাষের দিশা দেখাচ্ছেন নওদা, হরিহরপাড়া ব্লকের কিছু চাষি। বাড়তি লাভের আশায় এবার মুর্শিদাবাদে বহু চাষি একই জমিতে দু’বার পাট ফলিয়েছেন। বড়ঞা ব্লকের বহু চাষি একই জমিতে দু’বার আলু চাষ করে থাকেন। তবে এক মরশুমে দু’বার পাট চাষ জেলায় এই প্রথম। মরশুমের শুরুতে উচ্চ দামে পাট বিক্রি করে মোটা লাভ হওয়ায় চাষিরা সেই জমিতেই ফের পাটের চাষ করেছেন। কিন্তু দিনকয়েকের মধ্যে পাটের দাম অনেকটা নেমে আসায় চাষিদের কপালে ভাঁজ পড়তে শুরু করেছে। যদিও তাতে আশাহত না হয়ে চাষিরা অংক কষে দাবি করেছেন, দাম যাই হোক ধান চাষ অপেক্ষা লাভজনক পাট। এই পাট মজুত রাখতে পারলে চড়া দামেই বেচতে পারবেন বলে জানাচ্ছেন চাষিরা। জেলা কৃষি দপ্তরের ডেপুটি ডিরেক্টর (উন্নয়ন) উৎপল মণ্ডল বলেন, দ্বিতীয়বার পাট চাষে জলের সমস্যা হবে না। তবে ফলন কিছু কম হবে। চাষিরা এবার পরীক্ষামূলকভাবে সেটা দেখছেন।
মুর্শিদাবাদ জেলার অর্থনীতি অনেকটাই পাট চাষের উপর নির্ভর করে। জেলায় প্রায় ১ লক্ষ ২০ হেক্টর জমিতে পাটের চাষ হয়। চাষিদের দাবি, পাট চাষে বীজ রোপণ থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়িয়ে ঘরে তুলতে বিঘা প্রতি ২০ হাজার টাকা খরচা হয়। তিন মাসের ফসলে ভালো ফলন হলে বিঘা প্রতি চার কুইন্টাল হারে ফলন পাওয়া যায়। আরও কিছু সময় দিতে পারলে ফলন সাড়ে চার কুইন্টাল পর্যন্ত হয়।
এবার মরশুমের শুরুর দিকে পাটের বাজার কুইন্টাল প্রতি ১৮ হাজার টাকায় খুলেছিল। সেই হিসাবে একজন চাষি বিঘা প্রতি ৫০-৫২ হাজার টাকা লভ্যাংশ ঘরে তুলেছেন। এই লাভই চাষিদের একই জমিতে দ্বিতীয়বার পাট চাষে আগ্রহী করে তুলেছে।
হরিহরপাড়া, নওদা ব্লকের বহু চাষি পাট কেটে ফের সেই জমিতে পাট চাষ করেছেন। নিরান দেওয়ার পর গাছের উচ্চতা আড়াই থেকে তিন ফুট হয়েছে। নওদা ব্লকের চাষি আজিমুদ্দিন মণ্ডল বলেন, এবারের মতো পাটে লাভ কখনও দেখিনি। তিনবিঘা জমি থেকে দেড় লক্ষ টাকা আয় করেছি। সেই আশায় ধান চাষ না করে ঝুঁকি নিয়ে পাটই বুনেছি। তবে পাটের দাম হু-হু করে নিচে নামতে শুরু করেছে।
হরিহরপাড়া ব্লকের আরএক চাষি আফজল শেখ বলেন, হিসাব করে দেখেছি বিঘা প্রতি সাড়ে তিন কুইন্টাল ফলন হলেও ধান অপেক্ষা বেশি লাভ হবে। পাটের চাহিদাও ভাল। ঘরে কিছুদিন মজুত করে রাখতে পারলে চড়া দামেই বেচতে পারব।