Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

অভিযুক্ত রাজগঞ্জ বিডিও’র বিরুদ্ধে খুন-অপহরণের মামলা, শুরু তদন্ত

সল্টলেক থেকে নীলবাতির গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়েছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে। তাঁর দেহ মিলেছিল নিউটাউনের নির্জন এলাকায়।

অভিযুক্ত রাজগঞ্জ বিডিও’র বিরুদ্ধে খুন-অপহরণের মামলা, শুরু তদন্ত
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর ও সংবাদদাতা, বাগডোগরা: সল্টলেক থেকে নীলবাতির গাড়িতে করে অপহরণ করা হয়েছিল স্বর্ণ ব্যবসায়ী স্বপন কামিল্যাকে। তাঁর দেহ মিলেছিল নিউটাউনের নির্জন এলাকায়। ওই ঘটনায় জলপাইগুড়ির রাজগঞ্জের বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে অপহরণ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করেছিলেন মৃতের পরিবার। ওই কাণ্ডে অভিযুক্ত বিডিও’র বিরুদ্ধে খুন ও অপহরণের মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এদিকে, মঙ্গলবার ঘটনাটি চাউর হওয়ার পর বুধবার  অফিসে যাননি বিডিও প্রশান্ত বর্মণ। তিনি রাজগঞ্জ থেকে চলে গিয়েছেন শিলিগুড়ির মাটিগাড়া শিবমন্দির এলাকায়। এতবড় অভিযোগ উঠলেও, মুখে কুলুপ এঁটেছেন তিনি।

Advertisement

প্রসঙ্গত, সল্টলেক দত্তবাদে স্বপনবাবুর সোনা-রুপোর দোকান ছিল। ভাড়ায় চালাতেন। পরিবারের অভিযোগ, বিডিও প্রশান্ত বর্মণের নাকি কোনও সোনার জিনিস চুরি হয়েছিল। অভিযোগ, সেই চোরাই সোনা বিক্রি হয়েছে স্বপনবাবুর দোকানে। তার জন্যই বিডিও গত ২৮ অক্টোবর নীলবাতির গাড়িতে করে এসে স্বপনকে তুলে নিয়ে চলে যান। পরদিন ২৯ অক্টোবর নিউটাউনে যাত্রাগাছির নির্জন এলাকা থেকে তাঁর ক্ষত বিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। ৩১ অক্টোবর স্বপনবাবুর স্ত্রীর দাদা বিধাননগর দক্ষিণ থানায় বিডিও’র বিরুদ্ধে অপহরণ করে খুনের লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বিধাননগর কমিশনারেটের এক আধিকারিক বলেন, ‘বিডিও প্রশান্ত বর্মণের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে অপহরণ ও খুনের মামলা রুজু করে আমরা তদন্ত শুরু করেছি। সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীঘ্রই আমরা পুরো বিষয়টি সামনে আনতে পারব’।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, স্বপনবাবুকে গাড়িতে তুলে নিউটাউনের একটি বহুতলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করছে পুলিশ। সোনা চুরির ঘটনায় পুলিশের উপর ভরসা না করে বিডিও কেন নিজেই উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতা, মেদিনীপুর এলেন, তা নিয়েও জট কাটেনি। অন্যদিকে, খুনের মতো ধারায় অভিযোগ হওয়ার পর নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তিনি যুক্ত থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে, খুন ও অপহরণে অভিযোগ ওঠার পরই রাজগঞ্জ ছেড়ে মাটিগাড়ার শিবমন্দিরে ‘আত্মগোপন’ করেছেন অভিযুক্ত বিডিও। আঠারোখাই শিবমন্দিরের ইউনিভার্সিটি অ্যাভিনিউ পাড়ায় বিডিওর নিজের বাড়ি রয়েছে বলে সূত্রের খবর। মঙ্গলবার রাতে এলাকা ছেড়ে শিবমন্দিরের ওই বাড়িতে পৌঁছন তিনি। তবে প্রতিবেশীরা এতদিন জানতেনই না তাঁদের পাড়ায় কোনও বিডিওর বাড়ি রয়েছে। বিডিওর ওই বাড়ির উপরে টিনের চাল থাকলেও বাইরে বড় গ্রিলের গেট, এসি ও সিসি ক্যামেরা রয়েছে। বুধবার বাড়ির উঠোনে নম্বরবিহীন পুলিশ লেখা একটি বাইক দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এছাড়াও শিবমন্দির এসপি মুখার্জি রোডে ওই বিডিও’র বিলাসবহুল বাড়ি রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান। মাঝে মধ্যে বিডিও সেখানে আসা-যাওয়া করতেন। শিবমন্দির এলাকায় তাঁকে বাজার করতেও দেখা গিয়েছিল। মঙ্গলবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের চাপে তিনি বলেছিলেন, আমার কোথাও বাড়ি নেই। তাহলে শিবমন্দিরের বাড়িটি কার? এদিন সেই শিবমন্দিরের বাড়িতে বিডিওকে প্রশ্ন করা হলে তিনি ফের মেজাজ হারিয়ে সাংবাদিকদের বলেন, ‘ফাজলামো হচ্ছে’! 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ