বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: ঠিকাকর্মীর অস্বাভাবিক মৃত্যুর প্রায় দু’মাস পর থানায় খুনের অভিযোগ দায়ের করল পরিবার। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বরানগর থানা। ঘটনাটি ঘটেছিল সেপ্টেম্বর মাসে। নোয়াপাড়া মেট্রো কারশেডে। বিশ্বকর্মা পুজোর প্রসাদ খেয়ে অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে হঠাৎই মৃত্যু হয় এক ঠিকাকর্মীর। পরিবারকে তেমনই জানিয়েছিলেন সহকর্মীরা। কিন্তু ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, মৃতের দু’দিকের পাঁজরে পাঁচটি হাড় ভাঙা ছিল। ফুসফুসেও ক্ষত রয়েছে। ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠছে ঠিকাকর্মী রঞ্জিতকুমার জানা’কে (৪৯) খুন করা হয়েছে, না কি দুর্ঘটনাজনিত কারণে মৃত্যু। পরিবারের তরফে বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ খুনের মামলা দায়ের করে নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে।
মৃত রঞ্জিতকুমার জানা বরানগরের বাসিন্দা। স্ত্রী মণিকা জানা। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। রঞ্জিতবাবু ২০ বছর ধরে নোয়াপাড়া মেট্রো কারশেডে ঠিকাকর্মী হিসেবে কাজ করছেন। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে কর্মস্থলে গিয়েছিলেন। দুপুর ১২টা নাগাদ তাঁর ছেলেকে কারশেডের এক কর্মী ফোন করে বলেন, রঞ্জিতবাবুর অসুস্থ। তাঁকে বরানগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দ্রুত রঞ্জিতবাবুর স্ত্রী ও পুত্র হাসপাতালে যান। তাঁরা জানতে পারেন, রঞ্জিতবাবুকে হাসপাতালে আনা হলে চিকিৎসক পরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেছেন। একমাত্র রোজগেরের মৃত্যুতে ভেঙে পড়ে পরিবার। সম্প্রতি ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেয়ে পরিবার জানতে পারে, রিপোর্টে গ্যাসট্রাইটিস বা স্ট্রোকে মৃত্যুর কথা বলা নেই। বলা হয়েছে, মৃতের বাম দিকের পাঁজরের তৃতীয় ও চতুর্থ হাড় ও ডান দিকের পাঁজরের তিন, চার ও পাঁচ নম্বর হাড় ভাঙা রয়েছে। এছাড়া ফুসফুসেও ক্ষত রয়েছে। এনিয়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাহলে কি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ গোপন করা হয়েছে? ২২ নভেম্বর মণিকাদেবী বরানগর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
মৃতের স্ত্রী বলেন, আমার স্বামী সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় কাজে গিয়েছিলেন। অথচ, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে অসুস্থ হয়ে মারা যান। কারশেডের মধ্যে মেডিকেল ইউনিট ছিল। সেখানে চিকিৎসা না করে নিয়ে আসা হয়েছিল স্টেট জেনারেল হাসপাতালে। মৃত্যুর কারণ হিসেবে, কেউ বলছেন প্রসাদ খেয়ে অ্যাসিড হয়ে স্ট্রোক হয়েছে। কেউ বলছে, টলতে টলতে মাটিতে পড়ে মারা গিয়েছে। আমি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ চাইলেও দেওয়া হয়নি। ছেলেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। পরে কারশেডে গেলে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে দেখছি, বুকে মারাত্মক আঘাত আছে। পাঁজরের বেশ কয়েকটি হাড় ভাঙা। এই মৃত্যু স্বাভাবিক নয়। আমি স্বামীর মৃত্যুর প্রকৃত সত্য জানতে চাই। কলকাতা মেট্রো রেলওয়ে প্রগতিশীল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সমীর বেরা বলেন, আমরাও চাই মৃত্যু রহস্যের কিনারা হোক। উনি ঠিকাকর্মী হলেও মেট্রো রেলকে পরিষেবা দিয়েছেন। তাই ওঁর পরিবারকে সরকারি নিয়ম মেনে সঠিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবিও আমরা জানাচ্ছি।