


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট কে দেবে? এসআইআর-পর্বে তা নিয়ে নতুন করে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুসারে, কোনও জনপ্রতিনিধির দেওয়া গতানুগতিক রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট ভোটার লিস্টে নাম তুলতে গ্রাহ্য হবে না। লাগবে সরকারি তরফে দেওয়া সার্টিফিকেট। কিন্তু কে সেই আধিকারিক বা কোথায় যেতে হবে, ভোটারদের এই সব প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে কাউন্সিলারদের। কেউ বাড়ি চলে আসছেন, কেউ আবার হত্যে দিচ্ছেন ওয়ার্ড অফিসে। ভূরি ভূরি ফোনে হিমশিম খাচ্ছেন কাউন্সিলাররা। এই পরিস্থিতিতে সোমবার কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম ঘোষণা করেছেন, পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট কলকাতা পুরসভা থেকেই মিলবে।
এসআইআরে যে ভোটারদের শুনানিতে ডাকা হচ্ছে, তাঁদের ১৩টি নথির মধ্যে কোনও একটি জমা করতে হবে। সেই তালিকায় রয়েছে পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট। স্বাভাবিক নিয়মে সেই সার্টিফিকেট স্থানীয় কাউন্সিলাররাই বাসিন্দাদের দিয়ে থাকেন। এছাড়া বিধায়ক, সাংসদও সেই সার্টিফিকেট দেন। কিন্তু, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া সার্টিফিকেট গ্রাহ্য নয়। সরকারি সার্টিফিকেট প্রয়োজন। ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার শান্তিরঞ্জন কুণ্ডু বলেন, গরিব, নিন্মবিত্ত মানুষ, যাঁদের জন্ম শংসাপত্র নেই, তা নতুন করে তৈরি করাও সম্ভব নয়। তাঁদের পার্মানেন্ট রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট লাগছে। আমার কাছে অনেকেই এসেছেন। আমাদের দেওয়া সার্টিফিকেট দিয়ে বিভিন্ন জায়গায় কাজ হয়ে যায়। কিন্তু, কমিশন সেটা নিচ্ছে না। যাঁদের পড়াশোনা সংক্রান্ত ডোমিসাইল সার্টিকেট দরকার, তাঁরা আমাদের থেকে সার্টিফিকেট নেওয়ার পর টাউন হলে গিয়ে ডোমিসাইল নেন। কিন্তু, এক্ষত্রেও সেটা হবে কি না, আমাদের জানা নেই। তাই আমরা সঠিকভাবে কিছু বলতে পারছি না ভোটারদের। মেয়র অবশ্য জানিয়েছেন, এতদিন টাউন হল থেকে দেওয়া হত। এবার পুরসভা থেকেই মিলবে। অনেক বয়স্ক ভোটার রয়েছেন, যাঁদের পক্ষে পুরসভায় আসা সম্ভব নয়। তাঁরা বরো অফিসে আবেদন জানাতে পারবেন। সেখানেই কাগজপত্র জমা দেবেন। পরে বরো অফিস থেকেই মিলবে সার্টিফিকেট।
অন্যদিকে, এদিন নির্বাচন কমিশনের বাইরে ফের বিক্ষোভ দেখায় বিএলও অধিকার মঞ্চ। দিনের পর দিন বিএলও অ্যাপে নতুন ফিচার বা অপশন দিয়ে তাঁদের কাজের ফরমান জারি করছে নির্বাচন কমিশন। বিএলওদের দাবি, আগে আমাদের কিছুই বলা হয়নি। ট্রেনিংয়ের সময় সঠিকভাবে কী করতে হবে, তা জানায়নি। এখন যত দিন যাচ্ছে, নতুন কাজ করতে হচ্ছে। তাঁদের আরও দাবি, যে বিএলওদের মৃত্যু হয়েছে, তাঁদের ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।