নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: প্রায় ৩৫ কাঠা জমি। জবরদখল হয়েছিল এতদিন। সেই সরকারি জমি থেকে দখলদার হটাল কলকাতা পুরসভা। শনিবার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডের উপর লর্ডস মোড়ের সেই জমিতে গজিয়ে ওঠা ৪৮টি বেআইনি দোকান পে লোডার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, গত বছর নভেম্বর মাসে এই জমির একাংশে আগুন লাগে। পুড়ে ছারখার হয়ে যায় একাধিক দোকান। তারপরেও এই জমি দখলমুক্ত করা যায়নি। অবশেষে এদিন দখলদারমুক্ত করা হয়েছে রাজ্য সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের মালিকানাধীন ওই জমি।
গত বছর ১৩ নভেম্বর আগুন লাগে লর্ডস মোড়ের এই জায়গায়। সেখানে সান্ধ্য বাজারের ঠিক পিছনের ফাঁকা জমিতে গ্যারেজ, ঝুপড়ি সহ একাধিক গুমটি গজিয়ে উঠেছিল। দমকলের ১৬টি ইঞ্জিন সেই ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তখন ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, রাসবিহারীর বিধায়ক দেবাশিস কুমার। স্থানীয় ৯৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মৌসুমি দাস ক্ষতিগ্রস্তদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেছিলেন অস্থায়ী শিবিরে। সরকারি জমির যে অংশে আগুন লেগেছিল, তা ঘিরে দেওয়া হয়েছিল। তবুও দখলদার সরানো যায়নি পুরোপুরি। অবশেষে কড়া পদক্ষেপ করে প্রশাসন। এলাকায় কয়েকদিন আগে থেকেই মাইকিং করে বলে দেওয়া হয় যে উচ্ছেদ করা হবে। সেই মতো এদিন দখলদারদের সরানোর কাজ শুরু হয়। ঘটনাস্থলে সর্বক্ষণ মোতায়েন ছিল বিশাল পুলিস বাহিনী। পুরসভার জঞ্জাল সাফাই এবং কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তরফে পে লোডার দিয়ে একের পর এক বেআইনি দোকানঘর ভাঙা হয়।
স্থানীয় সূত্রে খবর, যে বেআইনি নির্মাণগুলি এদিন ভাঙা হয়েছে, তার মালিকদের দু’-একজন ছাড়া সবাই কলকাতার বাইরের বাসিন্দা। জয়নগর, ফলতা, নামখানা কিংবা ডায়মন্ডহারবারে নিজস্ব বাড়ি রয়েছে অনেকের। তারপরেও কলকাতায় সরকারি জমি দখল করেছেন বলে অভিযোগ।
এমনকী, তাঁদের মধ্যে এমন একজন মহিলা রয়েছেন, যিনি পেশায় ফুল বিক্রেতা। কিন্তু তাঁর নিজের তিনটি বেআইনি দোকান রয়েছে, যা ভাড়া দিয়ে মাসে তিনি ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা রোজগার করেন বলে দাবি। এসব খবর প্রশাসনের শীর্ষ মহলে পৌঁছতেই ওই জমি দখলমুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিন বিকেলের মধ্যেই সম্পূর্ণ জমি খালি করা হয়। জমিটি আজকালের মধ্যে পুরসভা ঘিরে দেবে বলেই জানা গিয়েছে।