নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া শহরে নিকাশি ব্যবস্থার বেহাল অবস্থা। বর্ষায় রাতের ঘুম উড়ে যাওয়ার জোগাড় হাওড়ার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের। শুধু বর্ষাকালে নয়, জলযন্ত্রণা থেকে রেহাই মেলে না শীতকালেও। তাই এবার শহরের নিকাশি ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে একাধিক পদক্ষেপ নিচ্ছে হাওড়া পুরসভা। সম্প্রতি নিকাশিনালা সংস্কারের জন্য ৯ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। নিকাশির হাল ফেরার ইঙ্গিত মেলায় জলযন্ত্রণা থেকে মুক্তির আশায় দিন গুনতে শুরু করেছেন বাসিন্দারা।
হাওড়া শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে ২০২৩ সালের বর্ষার সময় নিকাশি নিয়ে যে সমস্যা ছিল, তা গত বছরে কয়েক গুণ বেড়ে গিয়েছে। পুরসভার দাবি, বেলগাছিয়া ও শৈলেন মান্না সরণির বিস্তীর্ণ এলাকা জলের তলায় চলে যাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল বেলগাছিয়া ভাগাড়ের মূল নর্দমাটি সঙ্কীর্ণ হয়ে যাওয়া। পাশাপাশি উত্তর হাওড়ার বহু ওয়ার্ডও সামান্য বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে। সে কারণে বিভিন্ন ওয়ার্ডে নতুন নর্দমা, স্পেশাল পাইপলাইন, পাম্প হাউস, ‘অক্সিডেশন পন্ড’ তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে হাওড়া পুরসভা। সব মিলিয়ে খরচ হবে ৯ কোটি টাকা। চলতি মাসেই শুরু হবে কাজ। আগামী তিন মাসের মধ্যে এই প্রকল্পের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী গোটা পরিকল্পনার বিষয়টি তুলে ধরেন।
জানা গিয়েছে, ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে তিনটি পাম্প হাউস তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ক্রিকেট অ্যাকাডেমি থেকে নতুন রাস্তার মোড় পর্যন্ত বসবে স্পেশাল পাইপলাইন। ফলে দ্রুত এই ওয়ার্ডের জমা জল সরাসরি ডাবল ব্যারেলে ফেলা সম্ভব হবে। অন্যদিকে, উত্তর হাওড়ার মহীনাথ পোড়েল লেন, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের বিবির বাগান, টিকিয়াপাড়া এলাকায় স্পেশাল পাম্পিং স্টেশন তৈরি করা হবে। বেনারস রোডে তৈরি হবে নতুন স্যুয়ারেজ লাইন। পাশাপাশি ইস্ট ওয়েস্ট বাইপাস, মোতিঝিল, সাতকড়ি চ্যাটার্জি লেনে নিকাশিনালা সংস্কারের কাজ করা হবে। শুধু তাই নয়, ৭৫ লক্ষ টাকা খরচ করে ৮ নম্বর ওয়ার্ডে একটি অক্সিডেশন পুকুর তৈরি করবে পুরসভা।
ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী বলেন, ‘এই কাজের পাশাপাশি আগামী মাস থেকে প্রতিটি ওয়ার্ডে নিয়মিত নিকাশিনালা পরিষ্কারের কাজ হবে। ওয়ার্ডে জমে থাকা আবর্জনা যাতে নর্দমায় মিশতে না পারে, সেজন্য জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজেও গতি আনা হবে।’ নিজস্ব চিত্র