নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: বৈদ্যবাটি শহরের একাধিক গঙ্গার ঘাট সংস্কারের পরিকল্পনা নিয়েছে স্থানীয় পুরসভা। গুরুত্ব ও জনপ্রিয়তার বিচারে ঘাটগুলিকে একাধিক দফায় সংস্কার করা হবে। প্রথম দফায় রাজবংশী ঘাট ও ছাতুগঞ্জের ঘাট সারিয়ে তোলা হবে। ওই ঘাটগুলিতে রোজ বহু সাধারণ মানুষ এবং পুণ্যার্থী যাতায়াত করেন। জেলার বিভিন্ন জায়গা তো বটেই, জেলার বাইরে থেকেও মানুষ ঘাটগুলিতে যাতায়াত করে। ছাতুগঞ্জ বাজারের গঙ্গার ঘাট স্নানের জন্য স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেই খুব জনপ্রিয়। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বহু বছর পরে ঘাটগুলি সংস্কারের কাজ করা হচ্ছে। কেএমডিএ-র মাধ্যমে ওই কাজ করা হবে। উন্নতি প্রযুক্তির সাহায্যে স্থায়ী ও সুন্দর পরিকাঠামো গড়তে চাইছে পুরসভা।
পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, ওই দু’টি ঘাটের সংস্কারের জন্য ইতিমধ্যেই প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাতুগঞ্জের ঘাটের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৯৮ লক্ষ টাকা। অন্যদিকে, রাজবংশী ঘাটের সংস্কার কাজের জন্য ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়েছে। পুরকর্তারা দ্রুত কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা রেখেছেন। এনিয়ে পুরসভার চেয়ারম্যান পিন্টু মাহাত বলেন, নাগরিক মহল থেকে ওই ঘাটগুলি সংস্কারের দাবি বহুদিন ধরেই উঠছিল। বৈদ্যবাটি শহরের মানুষের কাছে ওই ঘাটগুলি যেমন জনপ্রিয় তেমনই জেলা ও জেলার বাইরে থেকে পুণ্যার্থীরাও ওই ঘাটগুলিতে যাতায়াত করেন। শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারের সহায়তায় আমরা কাজে নামতে পারছি। নাগরিক মহল দ্রুত ওই ঘাটগুলিকে নিরাপদে ব্যবহার করতে পারবেন। কেএমডিএ-র মাধ্যমে সংস্কার কাজ করা হচ্ছে। আমাদের বিধায়কও ওই কাজে পুরসভাকে যথেষ্ট সাহায্য করেছেন।
হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি তথা স্থানীয় বিধায়ক অরিন্দম গুঁই বলেন, পুরসভার পরিচালকরা নাগরিকদের ভাবাবেগকে গুরুত্ব দিয়েও নানা পরিকল্পনা করছেন। শহরের ঐতিহ্যবাহী ঘাটগুলি সংস্কার করার পরিকল্পনা তারই অন্যতম। বৈদ্যবাটি শহরে অনেক মন্দির আছে। সেখানে মানুষ নিয়মিত যাতায়ত করে। সেই কারণে গঙ্গার জল নিতে নিয়মিত ঘাটগুলি ব্যবহার হয়। তাই ঘাটের সংস্কার অত্যন্ত প্রয়োজনীয় ছিল। জানা গিয়েছে, বৈদ্যবাটির নির্মাইতীর্থ ঘাট হুগলি জেলাজুড়েই জনপ্রিয়। জনশ্রুতি, একদা সেখানে চৈতন্যদেবের পদধূলি পড়েছিল। পাশাপাশি, বৈদ্যবাটিতে আরও অনেকগুলি গঙ্গার ঘাট আছে যেগুলি স্থানীয়ভাবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। ছাতুগঞ্জ বাজার এলাকার কারণেই সেখানকার ঘাটটি জনপ্রিয়। তেমনই উল্লেখযোগ্য রাজবংশী ঘাট। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ঘাটগুলি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল। সেই ঘাটগুলিকেই এবার সংস্কার করবে পুরসভা।