Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

নার্সিংহোম সহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আবর্জনার জন্যও কর নেবে পুরসভা

শহর পরিষ্কার রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিল বর্ধমান পুরসভা। নার্সিংহোম, বিভিন্ন ধরনের দোকান, রেস্তরাঁ বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আবর্জনা এতদিন পুরকর্মীরা নিয়ে যেতেন।

নার্সিংহোম সহ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আবর্জনার জন্যও কর নেবে পুরসভা
  • ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: শহর পরিষ্কার রাখতে কড়া পদক্ষেপ নিল বর্ধমান পুরসভা। নার্সিংহোম, বিভিন্ন ধরনের দোকান, রেস্তরাঁ বা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের আবর্জনা এতদিন পুরকর্মীরা নিয়ে যেতেন। তারজন্য ব্যবসায়ীদের অর্থ ব্যয় করতে হত না। এবার থেকে আর তা হবে না। আবর্জনা সংগ্রহের জন্য টাকা নেওয়া হবে। সেই মর্মে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং নার্সিংহোমগুলিকে নোটিস পাঠানো হচ্ছে। নিয়ম না মেনে কোনো প্রতিষ্ঠান রাস্তার উপর আবর্জনা ফেলে রাখলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, নার্সিংহোম বা বেসরকারি হাসপাতালগুলির আবর্জনা সব থেকে বেশি দূষিত। সেগুলি অনেক সময় বাঁকা খালে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ব্যবহার হওয়া সিরিঞ্জের সূচও জলে ফেলা হয়। সেক্ষেত্রেও পদক্ষেপ নেওয়া হবে পুর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, শহরের সর্বত্র দোকান তৈরি হচ্ছে। নার্সিংহোমের সংখ্যাও আগের থেকে অনেক বেড়ে গিয়েছে। ব্যবসায়ী লাভ করবে আর আমরা বিনামূল্য আবর্জনা সংগ্রহ করব কেন? অনুষ্ঠান ভবনের মালিকদেরও নোটিস করা হচ্ছে। হল ভাড়া দিয়ে তারা মোটা টাকা লাভ করে। আর্বজনা বাইরে ফেলে রাখে। আমাদের পুরকর্মীরা বিনামূল্য সেগুলি তুলে নিয়ে যেত। কর দেওয়ার জন্য ৭৫টি বিয়েবাড়ি বা অনুষ্ঠান ভবন কর্তৃপক্ষকে নোটিস করা হচ্ছে। 

Advertisement

শহরের বাসিন্দারা বলেন, শহর পরিষ্কার করার জন্য কর্তৃপক্ষকে আরও বেশি জোর দেওয়া দরকার। এখন স্টেশনের বাইরে সহ বিভিন্ন জায়গাতেই আর্বজনা ছড়িয়ে থাকে। শহরের বিভিন্ন জেলার বাসিন্দারা প্রতিদিনই কাজের জন্য আসেন। তাঁদের নাকে রুমাল দিয়ে শহরে ঢুকতে হয়। বেশকিছু দোকান মালিকও দায়িত্বজ্ঞানহীনের মতো কাজ করে। তারা ডাস্টবিনে আবর্জনা না ফেলে রাস্তার উপর ডাঁ‌ই করে রাখে। 
শহরের বাসিন্দা অঞ্জন ঘোষ বলেন, পুরসভা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে, কর নেওয়ার পর যাতে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন নিয়মিতভাবে করা হয় তা দেখতে হবে। শহরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের আবর্জনা রাতের দিকে নিয়ে এসে বাঁকা খালে ফেলা হয়। এমনিতেই খালটি সংকীর্ণ হয়ে গিয়েছে। তারপর আবর্জনা পড়ায় জল দূষিত হচ্ছে। সেই জল চাষের জমিতে যাচ্ছে। তাতে চাষের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাঁকা খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। এর আগে বহুবার সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। বাসিন্দাদের নিয়ে বৈঠক করা হয়। কিন্তু তারপরও খাল সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ