Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বেলগাছিয়ায় বেদখল সরকারি জমি হাতে এল পুরসভার, ভাঙা হল বেআইনি নির্মাণ

দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বেলগাছিয়া এলাকায় প্রায় ১৬ কাঠা একটি সরকারি জমি দখল হয়ে পড়েছিল

বেলগাছিয়ায় বেদখল সরকারি জমি হাতে  এল পুরসভার, ভাঙা হল বেআইনি নির্মাণ
  • ১৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে বেলগাছিয়া এলাকায় প্রায় ১৬ কাঠা একটি সরকারি জমি দখল হয়ে পড়েছিল। সেখানে গজিয়ে উঠেছিল ক্লাব, চা-খাবারের দোকান। বুধবার সেখানেই বেআইনি নির্মাণ ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের হাতে থাকা সেই জমি বর্তমানে কলকাতা পুরসভার আওতায় এসেছে। সেখানে দখলদার সরিয়ে আধুনিক একটি কমিউনিটি সেন্টার তৈরি হবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ হতে চলেছে, জানিয়েছেন কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক তথা কলকাতা পুরসভার ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ।

Advertisement

জানা গিয়েছে, এই জায়গাটি মূলত মাইনরিটি ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন বা সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের আওতায় ছিল। বেলগাছিয়া বস্তি (উত্তরণ) অঞ্চলের (ঠিকানা-১/৮/১ এ, জে কে ঘোষ রোড, লাল ময়দান) এই সরকারি জমি কার্যত হাতছাড়া হয়ে গিয়েছিল প্রশাসনের। স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, এলাকায় একটি কমিউনিটি সেন্টার করা হোক। কিন্তু, জমি মিলছিল না। অবশেষে এই জায়গাটির খোঁজ মেলে। তারপর জমিটি পুরসভার হাতে হস্তান্তর করে সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদ। বুধবার সেখানেই দখলদার হটানোর কাজ শুরু হয়। রীতিমতো পে লোডার দিয়ে বেআইনি নির্মাণ ভাঙা হচ্ছে। কমিউনিটি সেন্টার তৈরির কাজে বিশেষ ভাবে উদ্যোগী হয়েছেন স্থানীয় কাশীপুর-বেলগাছিয়া কেন্দ্রের বিধায়ক অতীন ঘোষ। তিনি বলেন, ২০২১ সালে ভোট প্রচারের সময় যখন এই অঞ্চলে এসেছিলাম, তখন এখানকার বাসিন্দারা বেলগাছিয়া বস্তির ভিতরেই আলাদা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং কমিউনিটি সেন্টারের দাবি জানিয়েছিলেন। কারণ, স্থানীয় স্কুলগুলিকে নানা অনুষ্ঠানে ব্যবহার করা হতো। ইতিমধ্যেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চালু করে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কমিউনিটি সেন্টারের জন্য জমির প্রয়োজন ছিল। তখন ওই জমিটি সম্পর্কে জানা যায়। অতীন ঘোষ আরও বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছিলাম। উনি সহযোগিতা করেছেন। সংখ্যালঘু উন্নয়ন পর্ষদের এই জমি পুর ও নগর উন্নয়ন দপ্তরের মাধ্যমে পুরসভার হাতে এসেছে। এদিন জায়গাটিকে দখলদার মুক্ত করা হল। সেখানে আপাতত ৪৮০০ বর্গফুটের একটি কমিউনিটি সেন্টারের বিল্ডিং তৈরি হবে। ভবিষ্যতে সেখানে আরও কয়েকটি তলা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি, সেখানে প্রায় ৬০-৭০টি গাড়ি রাখার জন্যও পার্কিং লট তৈরি হবে।  
স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার দেবিকা চক্রবর্তী বলেন, ওই অঞ্চলে একটাও কমিউনিটি সেন্টার ছিল না। সরকারি জমি এভাবে দখল হয়ে গিয়েছিল। সেখানে দু’তিনটি ক্লাব, চায়ের দোকান চলছিল। বিধায়ক উদ্যোগী হয়েছেন। সবটা ভেঙে জায়গাটি খালি করা হচ্ছে। কমিউনিটি সেন্টার তৈরি হলে এলাকার মানুষ যথেষ্ট উপকৃত হবেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ