সংবাদদাতা, কাটোয়া: গুসকরা শহরে কুনুর নদীর তীরে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমছে বর্জ্যের পাহাড়৷ বের হচ্ছে দুর্গন্ধ। পৃথকীকরণের জন্য ইউনিট গড়া হবে রটন্তি কালীতলার কাছেই। রাজ্য নগরন্নোয়ন দপ্তর থেকে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। কাজ শুরুর আগে কয়েক বছরের জমা বর্জ্য সরাতেই হিমশিম খাচ্ছে পুরসভা৷ বর্জ্য না সরালে কাজ শুরু করতে পারছে না সংশ্লিষ্ট এজেন্সি৷
গুসকরা পুরসভার চেয়ারম্যান কুশল মুখোপাধ্যায় বলেন, আসলে ওই এলাকাতেই বর্জ্য পৃথকীকরণের ইউনিটটি গড়া হবে৷ তাই বর্জ্যগুলিকে আগে সরাতে হবে। কিন্তু বর্জ্য রাখা নিয়েই আমাদের চিন্তা হচ্ছে৷ কারণ ওই বর্জ্য পৃথকীকরণ করে কাজ করা হবে৷
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গুসকরা শহরের বর্জ্য ফেলার কোনও নির্দিষ্ট জায়গা ছিল না। শহরের বুক চিরে বয়ে চলা কুনুর নদীর পাড়জুড়েই বর্জ্য ফেলা হতো। খোলা জায়গায় বর্জ্য ফেললে একদিকে যেমন দুর্গন্ধ বের হতো। ঠিক অন্যদিকে আবার প্ল্যাস্টিক সহ যাবতীয় বর্জ্য নদীতে মিশত। বর্ষাকালে বর্জ্য নদীতে মিশে কুনুরের জলকে দূষিত করত। এখন বর্জ্য যাতে নদীতে না পড়ে তারজন্য নদীতীর পাঁচিল দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে৷ এবার গুসকরা শহরে বর্জ্য পৃথকীকরণ করা হবে। এরজন্য একটি শেড তৈরি করে ইউনিট গড়া হবে৷ তাই রাজ্য পুর ও নগরন্নোয়ন দপ্তর থেকে দেড় কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে৷ রাজ্যের পুরসভা এলাকাতে বর্জ্য পৃথকীকরণ ব্যবস্থার উপর জোর দেয় সুডা৷ পাশাপাশি রাজ্যের বেশকিছু গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকাতেও এই ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই এক সংস্থার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে রাজ্য সরকার। ওই সংস্থার আধিকারিকরা রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভাগুলি ঘুরে দেখে গিয়েছেন। তাঁরা সমীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, কোন শহরে কঠিন ও প্ল্যাস্টিক বর্জ্য পদার্থের ব্যবহার কত শতাংশ। আগামী দশ বছরের মধ্যে ওই ধরনের বর্জ্য পদার্থের ব্যবহার হার কতটা বাড়বে। আর তার জন্যই গুসকরা শহরের রটন্তীকালীতলার কাছে পুরসভার জায়গার ওপর তৈরি হবে ডাম্পিং গ্রাউন্ড। সেখানেই কঠিন বর্জ্য পৃথকীকরণ করার ব্যবস্থা থাকবে। আপাতত দীর্ঘ বছরের বর্জ্য সরিয়ে রাখা কোথায় হবে তা নিয়েই মাথাব্যথা পুরসভার৷ পাহাড় সমান বর্জ্য সরানোর কাজ শুরু হয়েছে।