Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বর্ধমান শহরে বিপজ্জনক পুরনো বাড়ি ভাঙার পরিকল্পনা পুরসভার

বর্ধমান শহরে বিপজ্জনক পুরনো বাড়ি ভাঙার পরিকল্পনা পুরসভার
  • ১৭ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান শহরে এখনও বেশকিছু পুরনো বাড়ি বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে। সেই বাড়ির মালিকদের নোটিস পাঠাবে পুরসভা। তাঁদের সেগুলি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাঁরা তা না ভাঙলে পুরসভা পদক্ষেপ নেবে। প্রয়োজনে পুরকর্তৃপক্ষ বুলডোজার চালাবে। পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, পুরনো বাড়িগুলি ভেঙে পড়লে যে কোনও সময় বিপদ হতে পারে। তাই বাড়ির মালিকদের সেগুলি দ্রুত ভেঙে ফেলার জন্য বলা হবে। তা না হলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করা হবে। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পর পুরসভা সেগুলি ভেঙে ফেলবে। কিছু দিনের মধ্যেই এই প্রক্রিয়ায় শুরু হবে। 

Advertisement

পুরসভা সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, পুকুর ভরাট বন্ধ করতেও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বাড়ির মালিকদের নোটিস পাঠিয়েছে তারা। ভরাট হওয়া অংশ থেকে মাটি তোলার নির্দেশ দিচ্ছে। নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলে পুরকর্তৃপক্ষ নিজেরাই পুকুর থেকে মাটি তুলে ফেলছে। পুকুর মালিকের বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একইভাবে পুরনো বাড়ি ভাঙার দিকেও তারা এগবে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, বর্ধমানে ফ্ল্যাটের রমরমা বাড়লেও এখনও বহু প্রাচীন বাড়ি রয়েছে। বনেদিবাড়িগুলি সংস্কার হয়। কিন্তু, বেশকিছু পুরনো বাড়ি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সেগুলি যেকোনও সময় ভেঙে পড়তে পারে। সেই কারণে শহরের বাসিন্দারা পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
শহরের বাসিন্দা শম্ভু ঘোষ বলেন, বহু পুরনো বাড়িতে কেউ থাকে না। দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকায় সেগুলি ভঙ্গুর হয়ে গিয়েছে। টানা ভারী বৃষ্টি হলে সেগুলি ভেঙে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুরসভার অনেক আগেই পদক্ষেপ নেওয়া দরকার ছিল। কিন্তু, তারা ধীর গতিতে চলছে। ভবিষ্যতেও পুরনো বাড়িগুলি ভাঙা হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। চেয়ারম্যান বলেন, বেশ কয়েকজন বাড়ি মালিককে অনেক আগেই সতর্ক করা হয়েছে। তাঁদের আরও একবার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বলা হবে। তাতে কর্ণপাত না করলে পুরসভা ব্যবস্থা নেবে। 
শহরের বাসিন্দারা আরও বলেন, সম্প্রতি তৈরি হওয়া বেশকিছু আবাসনও আগামী দিনে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। জলাশয় ভরাট করে ওই নির্মাণগুলি হয়েছে। অনেক জায়গায় উন্নতমানের নির্মাণ সামগ্রীও দেওয়া হয়নি। নজরদারির অভাব থাকায় একশ্রেণির প্রোমোটাররা ফায়দা তুলেছে। তার খেসারত  ফ্ল্যাটের মালিকদের আগামী দিনে দিতে হতে পারে। পুর কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, অবৈধ নির্মাণের অভিযোগ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সম্প্রতি দু’টি বহুতল ভাঙার সিদ্ধান্ত হয়েছে। আইনি বাধা না থাকলে চলতি মাসেই সেগুলি ভাঙা হতে পারে। সেইমতো নির্মাণকারীদের নোটিস পাঠানো হয়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ