নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সাফল্যের ইঙ্গিত মিলছিল কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই। অর্থবর্ষ শেষে স্পষ্ট হল, রাজস্ব আদায়ে এবার রেকর্ড সাফল্য লাভ করেছে কলকাতা পুরসভা। সদ্যসমাপ্ত ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে পুরসভার সার্বির রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ১৮৫০ কোটির সীমা। ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে বিভিন্ন খাত থেকে রাজস্ব বাবদ পুরসভার আয় হয়েছিল ১৭৭৯ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা। সদ্যসমাপ্ত অর্থবর্ষে সেই পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৫৩ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা। এর ফলে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কাজের পাশাপাশি কর্মীদের পেনশন, প্রভিডেন্ট ফান্ডের খরচ সামলাতেও পুরসভার অনেকটাই সুবিধা হবে বলে মনে করা হচ্ছে। চলতি অর্থবর্ষ (২০২৫-২৬) শেষে রাজস্ব আদায় যাকে ২০০০ কোটির গণ্ডি ছোঁয়ার লক্ষ্য সামনে রেখে এগচ্ছে পুর কর্তৃপক্ষ। শুধু সম্পত্তি কর খাতেই এবার ৪৭ কোটি টাকার বেশি (৪৭ কোটি ৩৯ লক্ষ) বাড়তি রাজস্ব আদায় হয়েছে বলে খবর।
সম্পত্তি কর থেকেই পুরসভার সিংহভাগ রাজস্ব আদায় হয়। এর বাইরে বিল্ডিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ট্রেড লাইসেন্স, বিজ্ঞাপন, পার্কিং, বিনোদন সহ মোট ১৩টি ক্ষেত্র থেকে পুরসভার রাজস্ব আদায় হয়। সম্পত্তি কর মূল্যায়ন এবং রাজস্ব আদায় বিভাগ মূলত আটটি ভাগে বিভক্ত। গত অর্থবর্ষে সব থেকে বেশি সম্পত্তি কর সংগ্রহ হয়েছে সাউথ ডিভিশন থেকে। আদায় হয়েছে ৫২৭ কোটি ৬০ লক্ষের কিছু বেশি টাকা। এরপরেই রয়েছে নর্থ ডিভিশন। সেখান থেকে ৩০৩ কোটি ৪৭ লক্ষের কিছু বেশি টাকা উঠে এসেছে। তবে সম্পত্তি কর খাতে রাজস্ব বৃদ্ধির নিরিখে সবথেকে উপরে রয়েছে জোকা ডিভিশন। গত এক বছরে এই অঞ্চল থেকে আয় বেড়েছে ১৫.২৩ শতাংশ। তারপর রয়েছে বেহালা (১০.৯৮ শতাংশ বৃদ্ধি) এবং নর্থ ডিভিশন (৯.৩৪ শতাংশ বৃদ্ধি)। টলি ট্যাক্স ডিভিশনের আয়ও চোখে পড়ার মতো। কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, যেখানে কয়েক বছর আগেও এই অঞ্চল থেকে ১০০ কোটি টাকা সম্পত্তি কর সংগ্রহও দুষ্কর ছিল, সেখানে ২০২৩-২৪ আর্থিক বছরে ১৫১ কোটির বেশি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ১৫৫ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব এসেছে। গত বছরের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত সম্পত্তি কর থেকে আয়ে ঘাটতি চলছিল। তাই ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ শেষে এসে এই সাফল্যে স্বাভাবিকভাবেই খুশি কর্তৃপক্ষ। তাই সম্পত্তি কর বিভাগের কর্মী-আধিকারিকদের অ্যাপ্রিসিয়েশন লেটার বা শংসাপত্র দেওয়ার উদ্যোগ শুরু হয়েছে বলে খবর। তবে এই আয় আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে বলেই মত কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিমের। শহরের যাবতীয় সম্পত্তি করের আওতাভুক্ত করতে পারলেই এই খাতে আয় আরও বাড়বে বলে নিশ্চিত তিনি। ফিরহাদ বলেন, ‘পুরসভার আয় আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। কিন্তু শহরের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে সংযুক্ত অঞ্চলে (যাদবপুর, টালিগঞ্জ, কসবা, গরফা, বেহালা, ঠাকুরপুকুর, জোকা) এমন অনেক সম্পত্তি এখনও রয়েছে, যেগুলি করের আওতাভুক্ত নয়। মিউটেশনই হয়নি। তাতে কলকাতা পুরসভার আয় ধাক্কা খাচ্ছে। সমস্ত সম্পত্তি ট্যাক্সের আওতাভুক্ত করতে পারলে আরও অন্তত ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ রাজস্ব বৃদ্ধি হবে।’