নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ফুটপাত দখলমুক্ত করতে কেবল উচ্ছেদই যথেষ্ট নয়। তাই আগে ব্যবসায়ীদের বিকল্প ব্যবস্থা করে দিয়ে তারপর নেওয়া হল পদক্ষেপ। রাজ্য সরকারের কর্মতীর্থ প্রকল্পের টাকায় ন’টি পাকা দোকানঘর বানিয়ে দিল রানাঘাট পুরসভা। এই কাজে সব মিলিয়ে খরচ হয়েছে প্রায় ১৩ লক্ষ টাকা। বৃহস্পতিবার দোকানঘরগুলি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবসায়ীদের হস্তান্তর করা হয়। ফলে ফুটপাত দখল কমে গিয়ে অনেকটাই জায়গা বাড়ল সঙ্কীর্ণ ডিসপেনসারি লেনে।
রানাঘাট পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর কয়েক আগে কর্মতীর্থ প্রকল্পের টাকা বরাদ্দ হয়েছিল। সেই সময় প্রায় ৯০ লক্ষ টাকা খরচ করে রানাঘাট পুরসভার কাছেই তৈরি হয়েছিল ৪৩টি দোকানঘর। বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখল করে থাকা ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল সেই পাকা ছাদসহ দোকানগুলি। সুফল হিসেবে একদিকে যেমন কিছু মানুষ স্থায়ী দোকান পেয়েছেন, তেমনই ব্যস্ত সুভাষ অ্যাভেনিউ খানিকটা চওড়া হয়েছে। স্বামী বিবেকানন্দ সরণির সঙ্গে সংযোগকারী ডিসপেনসারি লেনের পাশে ফুটপাত দখল করে থাকা অস্থায়ী দোকানগুলির জন্য অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়েছিল রাস্তাটি। ফলে প্রতিদিন যানজট সমস্যা লেগেই থাকত। তবে এবার দখলমুক্ত রাস্তার কারণে অনেকটাই খোলামেলা হবে সেই জায়গা।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই রাস্তার ধারে মোট ন’টি পাকা দোকানঘর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার পুরভবনে একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দোকানগুলির উদ্বোধন এবং ব্যবসায়ীদের হস্তান্তর করা হয়। চেয়ারম্যান কোশলদেব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সরকার এই দোকানগুলি তৈরি করে দিয়েছে। ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর কর্মতীর্থ প্রকল্পে আমরা আগেই ৪৩টি দোকানঘর তৈরি করে দিয়েছিলাম। সেই দফায় ১৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ ছিল। পরবর্তীতে আমরা আরও ন’টি দখল সরিয়ে সেই সমস্ত দখলদারদের হাতে ওই টাকায় তৈরি দোকান তুলে দিচ্ছি। অস্থায়ী দখলদাররা বিনা পয়সায় পাকা দোকানঘর পাচ্ছেন।
এদিকে, ফুটপাত দখলমুক্ত হলেও পরবর্তীতে তা আবার নতুন করে দখল হবে না তো? আশঙ্কায় শহরবাসীরা। কেউ বলছেন, অনেক সময় দখলদাররা পাকা দোকান পেয়ে সেটিকে ভাড়ায় খাটায়। আর দখলের জায়গা ছাড়তেই চায় না। অনেকক্ষেত্রে আবার একজন দখলদার সরলে সেখানে পরবর্তীতে অন্যজন এসে বসে পড়ে। তখন তাকে উচ্ছেদ করতে গেলে সেও ক্ষতিপূরণ হিসেবে পাকা দোকানের দাবি করে। এই প্রবণতা ঠেকাতে পুরসভা আগে কড়া পদক্ষেপ নিক। যত্রতত্র ফুটপাত দখল শুরুতেই আটকাতে আলাদা টিম তৈরি করুক পুরবোর্ড। পুরসভা সূত্রের খবর, টাউন আউটডোর মাঠে আরও একটি কর্মতীর্থ প্রকল্পের জন্য ইতিমধ্যেই রাজ্য প্রশাসনের কাছে ডিপিআর পাঠানো হয়েছে। সব মিলিয়ে ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকার সেই ডিপিআর রাজ্য সরকারের ছাড়পত্র পেলেই আরও ১৪৪টি দোকানঘর তৈরি করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে, জিএনপিসি রোডের মতো দখলের নাগপাশে জড়িয়ে যাওয়া রাস্তাকেও খানিকটা মুক্ত করে চলাচলের উপযোগী করা সম্ভব।