নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: আজ, বৃহস্পতিবার থেকে জলপাইগুড়ি শহরে ‘অনুমোদনহীন’ টোটো ধরপাকড় অভিযানে নামতে চলেছে পুরসভা। এনিয়ে সহযোগিতা চেয়ে পুলিসকে চিঠি দেওয়া হয়েছে পুর কর্তৃপক্ষের তরফে। ২ এপ্রিল, বুধবার থেকে টোটো নিয়ন্ত্রণ শুরুর কথা ঘোষণা করেছিল জলপাইগুড়ি পুরসভা। কিন্তু এদিন সেই উদ্যোগ কার্যকর করতে পুর কর্তৃপক্ষকে রাস্তায় নামতে দেখা যায়নি। এদিন বিকেলে অবশ্য পুর চেয়ারপার্সন পাপিয়া পাল বলেন, কয়েকদিন ছুটির কারণে কাজে একটু অসুবিধা হয়েছে। তবে ৩ এপ্রিল থেকে আমরা টোটো ধরপাকড় শুরু করছি। পুরসভা যেসব টোটোর ক্ষেত্রে টেম্পোরারি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিন) দিয়েছে, শুধুমাত্র সেগুলি শহরের রাস্তায় চলতে পারবে। ট্রাফিক পুলিসের জলপাইগুড়ি সদরের আইসি অমিতাভ দাস বলেন, পুরসভার একটি চিঠি পেয়েছি। তাতে বৃহস্পতিবার থেকে টোটো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আমাদের সাহায্য চাওয়া হয়েছে।
এদিকে, পুরসভার এই পদক্ষেপ ঘিরে ঝামেলার আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছে না ওয়াকিবহাল মহল। কারণ, খোদ রাজ্যের শাসকদলের শ্রমিক সংগঠন টোটো নিয়ে পুরসভার সিদ্ধান্তের ঘুরিয়ে বিরোধিতা করেছে। টোটো নিয়ে যে পুরসভা আজ, বৃহস্পতিবার থেকে ধরপাকড় শুরু করতে চলেছে, সে ব্যাপারে তাঁদের কিছু জানা নেই বলে দাবি আইএনটিটিইউসি’র জলপাইগুড়ি টাউন সভাপতি পুণ্যব্রত মিত্রের। তিনি বলেন, শহরে টোটোর কারণে যানজট রুখতে আমরা বিকল্প প্রস্তাব সহ পুরসভাকে চিঠি দিয়েছিলাম। সেই চিঠির এখনও কোনও উত্তর পাইনি। তাঁর দাবি, পুরসভা যদি শহর-গ্রামের টোটো ভাগ করতে যায়, সেক্ষেত্রে উত্তেজনা ছড়াতে পারে। এর চেয়ে শহরে ওয়ানওয়ে চালু করে যানজট সমস্যার সমাধান করা যেত। শহর ও গ্রামের টোটো ভাগ করা যাবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস-সিপিএমও। টোটোচালকদের রুজি-রুটিতে টান পড়লে রাস্তায় নেমে আন্দোলনের হুমকিও দিয়েছে তারা।
পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সৈকত চট্টোপাধ্যায়ের অবশ্য বক্তব্য, আমরা মোটেই শহর-গ্রামের টোটো ভাগ করতে চাইছি না। শুধুমাত্র টোটোর রুট নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছি। তিনি বলেন, শহর এবং লাগোয়া চারটি পঞ্চায়েত এলাকার টোটোকে পুরসভার তরফে টেম্পোরারি আইডেন্টিফিকেশন নম্বর দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে যেসব পঞ্চায়েত এলাকা রয়েছে, সেখানকার টোটো শহরের এন্ট্রি পয়েন্ট পর্যন্ত আসতে পারবে। তারপর যাত্রীদের অন্য টোটো ধরে শহরে গন্তব্যে পৌঁছতে হবে। শহর থেকে কেউ টোটোতে ওইসব পঞ্চায়েত এলাকায় যেতে চাইলে তাঁদেরও একইভাবে টোটো বদলাতে হবে। এখানেই প্রশ্ন তুলেছেন আইএনটিটিইউসি’র জলপাইগুড়ি টাউন সভাপতি। তাঁর কথায়, যেসব টোটোয় রোগী কিংবা ছাত্রছাত্রীরা আসবে, তাদের ক্ষেত্রে কী হবে? তাদেরও কি বারবার টোটো বদলাতে হবে?