নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইতিমধ্যেই শহরের বেশ কিছু রাস্তায় গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছে কলকাতা পুরসভা। তারপর ২১০টির মতো গাছের অসুখ ধরা পড়ে। গাছগুলি নিয়ে কী করা উচিত, তা জানতে বনদপ্তরকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এরপর চলতি সপ্তাহে পুরসভা এবং বনদপ্তর যৌথভাবে পরিদর্শনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তারপর কতগুলি গাছ কাটা হবে এবং কতগুলি ছাঁটা হবে বা পোকা ধরা গাছকে কি ভাবে বাঁচানো যাবে, তা নিয়ে হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।
পুরসভায় জানিয়েছে, কোনও গাছ বিপজ্জনকভাবে হেলে আছে। কোনওটির শিকড় মাটি থেকে আলগা হয়ে রয়েছে, কোথাও পোকা ধরে বা পচে গিয়ে নষ্ট হয়েছে কাণ্ড। এই গাছের জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন, পুরসভার বটানিস্টরা সেই সংক্রান্ত প্রস্তাব রিপোর্টে দেন। কিন্তু বনদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া গাছ কাটার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়। তাই বনদপ্তরকে জানানো হয় এবং তাদের মতামত নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সম্প্রতি হাওড়া পুরভবন চত্বরে একটি গাছ ভেঙে পড়ে দুই শ্রমিকের মৃত্যু হয়। তার আগে রবীন্দ্র সরোবরে দুপুরবেলা গাছের ছায়ায় শুয়ে থাকা এক ব্যক্তির উপর গাছ ভেঙে পড়ে। তাঁর মৃত্যু হয়। এই পরিস্থিতিতে শহরের বিভিন্ন রাস্তা ও উদ্যানের পাশাপাশি রবীন্দ্র সরোবর ও সুভাষ সরোবরে গাছের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে বলে জানিয়েছিলেন কলকাতার মেয়র এবং রাজের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। সেই মতো গাছের ‘হেলথ অডিট’ শুরু হয়। পুরসভার উদ্যান বিভাগ সূত্রে খবর, ইতিমধ্যেই আশুতোষ মুখার্জি রোড, হাজরা রোড, আলিপুর রোড, বিবেকানন্দ রোড, লেনিন সরণি, এস এন ব্যানার্জি রোড সহ শহরের পাঁচ থেকে ছ’টি বরো এলাকার ১৫টি রাস্তায় এই সার্ভের কাজ শেষ হয়েছে। তাতে ২১০টির বেশি বড় গাছের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। দেখা গিয়েছে, এর মধ্যে ১৭০টি গাছ ঝুলে রয়েছে, ২৮টি মারা গিয়েছে এবং ১২টি গাছ নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এর বাইরেও বেশ কিছু গাছ রয়েছে যেগুলি রোগগ্রস্ত। যাবতীয় রিপোর্ট বিস্তারিতভাবে বনদপ্তরকে পাঠানো হয়। পুরসভার উদ্যান বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, বনদপ্তরের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খুব শীঘ্রই যৌথভাবে পরিদর্শন হবে। যে গাছগুলি ইতিমধ্যেই মারা গিয়েছে সেগুলি কেটে ফেলা হবে। কিন্তু বাকিগুলি নিয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে তা বনদপ্তরের পরামর্শ মেনেই হবে।
পুরসভা সূত্রে খবর, মাঝারি ও বড় মিলিয়ে কলকাতায় প্রায় আড়াই লক্ষ গাছ রয়েছে। সব গাছেরই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতে বলেছেন মেয়র। ফিরহাদ বলেন, ‘অনেক জায়গাতেই গাছের গোড়া মাটি থেকে আলগা হয়ে রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় সেগুলি ভেঙে বিপদ ঘটতে পারে। তাই উদ্যান বিভাগকে সার্ভে করে গাছগুলির অবস্থা খতিয়ে দেখতে বলেছি।’ জানা গিয়েছে, আশুতোষ মুখার্জি রোড, এপিসি রায় রোড এবং হরিশ মুখার্জি রোডে সব থেকে বেশি গাছের অসুখ ধরা পড়েছে।