সংবাদদাতা, কাটোয়া: শহরে বাড়ছে নির্মাণ। একের পর তৈরি হচ্ছে বহুতল, শপিংমল। উন্নয়ন করতে চওড়া করা হচ্ছে রাস্তা। আর এসব করতে গিয়ে কাটা পড়ছে একের পর এক গাছ। শহরে ক্রমশ কমছে সবুজের পরিমাণ। গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের প্রভাবে বাড়ছে গরম। তাই কাটোয়া শহরে সবুজায়নে জোর দিচ্ছে পুরসভা। শহরজুড়ে রোপণ করা হবে প্রচুর গাছ। তবে, গাছ লাগানো হলেও অনেক সময় তা দেখভালোর অভাবে মরে যায়। সেই সমস্যার সমাধান করতে গাছের পরিচর্যা করতে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। তাঁরা ঘুরে ঘুরে প্রতিটি গাছে জল, সার দিয়ে বড় করে তুলবেন। মঙ্গলবার থেকে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা সদস্যদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল পূর্ব বর্ধমান জেলা উদ্যান পালন দপ্তর।
কাটোয়া পুরসভার চেয়ারম্যান সমীর সাহা বলেন, গাছ প্রতিবছর লাগানো হয়। কিন্তু, শেষে দেখা যায়, যে পরিমাণ গাছ লাগানো হয়েছে তার অর্ধেক দেখভালোর অভাবে মরে গিয়েছে। তাই এবার গাছের পরিচর্যার ভার দেওয়া হয়েছে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের। তাঁরাই দু’বেলা গাছের পরিচর্যা করবেন। এজন্য মহিলাদের পারিশ্রমিক দেওয়া হবে।
পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া শহরে সবুজায়নের জন্য আড়াই হাজার গাছ লাগানো হবে। ফল, ফুল ছাড়াও শাল, সেগুন গাছও লাগানো হবে। সৌন্দার্যায়নের জন্য দু’টি পুকুরকে বেছে নেওয়া হয়েছে। কাটোয়া স্টেডিয়াম ও পুরসভার পিছনে দু’টি জলাশয়ের চারিদিকে গাছ লাগানো হবে। অম্রুত প্রকল্প ও এনইউএলএম এর যৌথ উদ্যোগে বৃক্ষরোপণ করবে পুরসভা। তারজন্য শহরের চারটি স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের বেছে নেওয়া হয়েছে। এদিন জেলার উদ্যানপালন দপ্তরের অতিরিক্ত ডিরেক্টর সোনালি দে মহিলাদের প্রশিক্ষণ দেন। কীভাবে গাছের যত্ন নিতে হবে। একটা গাছকে রোগ পোকার হাত থেকে কীভাবে বাঁচানো হবে। সবই তাঁদের শেখানো হয়।
পরিবেশ দূষণ, বিশ্ব উষ্ণায়ন বৃদ্ধি পেয়েছে। যে কারণে তাপমাত্রাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বেশি সংখ্যায় গাছ লাগানোর চিন্তা ভাবনা করা হয়েছে। গ্রামীণ এলাকায় গাছ কাটার অভিযোগ প্রায়ই উঠছে। তাছাড়া গাছ প্রতি বছর বসানো হলেও তার পরিচর্যায় খুব একটা জোর দেওয়া হয় না। ফলে যা গাছ লাগানো হয় তার একটা বড় অংশ মরে যায়। নতুন চারা গাছগুলি যাতে মারা না যায় সেদিকে নজর দিতেই স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের বেছে নেওয়া হয়েছে। পুরসভার সিটি মিশন এনইউএলএম বিভাগের আধিকারিক প্রীতম কোলে বলেন, শহরকে ধীরে ধীরে সবুজায়ন করে সাজিয়ে তোলা হবে। বিভিন্ন জাতের গাছ লাগানো হবে। এবার গাছ যাতে নষ্ট না হয়ে যায়, তারজন্যই স্বনির্ভর গোষ্ঠী মহিলাদের বেছে নেওয়া হয়েছে। তাঁরা শহরের পার্ক, জলাশয়গুলিতেও গাছের পরিচর্যা করবেন। ফলে চারা গাছগুলি বেঁচে থাকবে।



