নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: বেতনের দাবিতে ফের কর্মবিরতি শুরু করলেন পুরুলিয়া পুরসভার সাফাই কর্মীরা। বুধবার থেকে তাঁদের ধর্মঘট শুরু হয়েছে। যার জেরে শহরের আবর্জনা সাফাই বন্ধ হয়ে গিয়েছে। রাস্তার ধারের প্রায় সমস্ত ভ্যাট ভর্তি হয়ে গিয়েছে। আবর্জনা রাস্তায় এসে পড়ছে। বাজারগুলি সাফাই না হওয়ার কারণে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এমনকী বাড়ির আবর্জনা জড়ো করার বালতিও উপচে পড়ছে।
বুধবার পুরুলিয়া পুরসভার সাফাই কর্মীরা সাফাই বিভাগের গাড়িখানা শেডে এলেও কেউ কাজে বের হননি। সাফাই কর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন পুরসভার আধিকারিকরা। সাফাই কর্মীদের দাবি, ফেব্রুয়ারির বেতন হয়েছে এপ্রিলে। মার্চ মাসের বেতন এখনও বকেয়া রয়েছে। সেই বেতন মিটিয়ে দিলে তবেই কাজে যোগ দেবেন তাঁরা। বার বার সাফাই কর্মীদের ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছে পুরসভা। এর আগে ডিসেম্বরেও ধর্মঘট করেছিলেন সাফাই কর্মীরা। কর্মীদের অবশ্য দাবি, অধিকাংশেরই ন্যূনতম বেতন দৈনিক মাত্র ১২০ টাকা। অর্থাৎ মাসে ৩৬০০ টাকায় চালাতে হয় সংসার। অথচ, তাঁরাই প্রতিদিন শহরের ঘুম ভাঙার আগে ঘুম থেকে ওঠেন। শহরের জঞ্জাল অপসারণ করেন। খালি পায়ে ড্রেনের পাঁকে নেমে সেখান থেকে ময়লা তুলে নিকাশি ব্যবস্থাকে সচল রাখার চেষ্টা করেন। তাঁদের বেলায় এত বৈষম্য কেন? প্রতি মাসের শেষে বেতনের দাবি কি অনৈতিক?
পুরসভা সূত্রের খবর, পুরুলিয়া পুরসভায় সাফাই বিভাগে মোট প্রায় ৯৭২ জন কর্মী রয়েছেন। তাঁদের বেতন বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা খরচ হয় পুরসভার। চেয়ারম্যানের নব্যেন্দু মাহালির দাবি, এই বিপুল পরিমাণ টাকা জোগাড় করতে হিমশিম অবস্থা পুরসভার। পুরসভার নিজস্ব তহবিলের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। গত পয়লা এপ্রিলেই ওদের বেতন দিয়েছি। শুধু মার্চ মাসের বেতন বকেয়া আছে। এরইমধ্যে ধর্মঘট করলে কীভাবে পুরসভা চলবে? ওঁদেরও তো বুঝতে হবে। তবে, নিয়মিত ও ন্যায্য বেতন পেতে সাফাই কর্মীদের এজেন্সির অধীনস্ত করার পরিকল্পনাও শুরু করেছেন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, কোনও ঠিকাদার সংস্থাকে জঞ্জাল সাফাইয়ের দায়িত্ব দিতে চাইছি। তাতে সাফাই কর্মীরা পিএফ, মেডিক্যাল সহ অন্যান্য সুবিধাও পাবেন। মাসের শেষে ভালো বেতনও পাবেন। যদিও তাতে রাজি নন সাফাই কর্মীরা।
কেন রাজি নন তাঁরা? পুরসভা সূত্রের খবর, পুরসভার সাফাই বিভাগে অকাজের কর্মীই বেশি। যখন যে ক্ষমতায় থেকেছেন, নিজের ইচ্ছামতো মতো নিয়োগ করেছেন। ওইসব কর্মীরা কাজে ফাঁকি দেন। অথচ মাসের শেষে মাইনেটা গুনে নেন। তাঁদের জন্যই বিপাকে পড়ছে পুরসভা। চেয়ারম্যানের দাবি, অকাজের কর্মীদের ছাঁটাই করা খুবই প্রয়োজন হয়ে দাঁড়িয়েছে এই মুহূর্তে। আমরা শীঘ্রই এনিয়ে পদক্ষেপ করব। - নিজস্ব চিত্র