নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ২০২৪-’২৫ অর্থবর্ষের প্রথম ষান্মাসিকের (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) তুলনায় চলতি আর্থিক বছরের এই সময়কালে সম্পত্তি কর খাতে ২৮ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকার বেশি আদায় করেছে কলকাতা পুরসভা। এই সাফল্যকে নজির বলেই মনে করছেন পুরকর্তারা। গতবারের রেকর্ড ভেঙে এবার ফের রেকর্ড রাজস্ব এসেছে। চলতি বছরে ১ এপ্রিল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সম্পত্তি কর খাতে রাজস্ব এসেছে ৮৪৮ কোটি ৯৭ লক্ষ ৭৩ হাজার ৮৫৪ টাকা। করখেলাপিদের লাগাতার তাগাদা, মিউটেশনে বাড়তি জোর সহ নানাবিধ চেষ্টার ফলেই রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে মনে করছে পুর কর্তৃপক্ষ। ফলে এই টাকায় একদিকে যেমন বিভিন্ন পরিষেবার কাজ গতি পাবে, তেমনই অবসরপ্রাপ্ত পুরকর্মীদের বকেয়া মেটানো সহ বিভিন্ন খাতে আর্থিক টানাপোড়েনের সমস্যা কিছুটা হলেও দূর হবে বলে ধারণা পুরকর্তাদের।
পুরসভার তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই খাতে আয় হয়েছিল ৮০৯ কোটি ২৮ লক্ষ ৩০ হাজার ৪০৮ টাকার কিছু বেশি। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয় ৮২০ কোটি ৪০ লক্ষ ৬১ হাজার ৫৭৭ টাকা। অর্থাৎ, সেবার বাড়তি আদায় হয়েছিল ১১ কোটি টাকার কিছু বেশি। চলতি আর্থিক বছরে এই খাতে আয় ২৮ কোটি ৫৭ লক্ষ টাকা বেড়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, প্রথম ছ’মাসে সম্পত্তি কর খাতে আয় বৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি।
কয়েক মাস আগে মেয়র ফিরহাদ হাকিম টাউন হলে আধিকারিকদের সঙ্গে একটি সভা করেছিলেন। সেখানে তিনি সম্পত্তি কর বিভাগের কাজের প্রশংসা করে টার্গেট বেঁধে দিয়েছিলেন। সম্পত্তি কর থেকে শুরু করে বিল্ডিং— প্রতিটি বিভাগকে বলা হয়েছিল, শহরে কোনও সম্পত্তি যেন আন-অ্যাসেসড না থাকে। একইসঙ্গে মিউটেশনেও জোর দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি। সেই মতো, শহরের বিভিন্ন প্রান্তে শিবির করে সম্পত্তি কর বিভাগ নাগরিকদের মিউটেশন থেকে শুরু করে কর সংক্রান্ত যাবতীয় জটিলতা কাটানোর উদ্যোগ নেয়। সব মিলিয়েই এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করছেন পুরকর্তারা।
যদিও, রাজস্ব বৃদ্ধির এই পরিসংখ্যান নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে আধিকারিকদের একাংশের মনে। তাঁদের বক্তব্য, প্রথম ছ’মাসে কোষাগারে ভালো টাকা জমা পড়লেও বছর শেষে এই হার ধরে রাখা যাবে তো! তাছাড়া, এত টাকা আদায় হওয়ার মানে হচ্ছে, খেলাপিরা বকেয়া মেটাচ্ছেন। শুধুমাত্র রেগুলার ট্যাক্স জমা করলে এত টাকা আসত না। কিন্তু, এভাবে আর কতদিন? এক পুরকর্তা বলেন, ২০১৭ সালের পর জেনারেল রিভ্যালুয়েশন (জিআর) হয়নি। ফলে মূল কর বাড়েনি। নিয়ম অনুসারে, প্রতি ছ’বছর অন্তর জিআর করে ১০ শতাংশ হারে কর বাড়ানোর কথা। কিন্তু, গত আট বছর ধরে পুরনো হারেই সম্পত্তি কর নেওয়া হচ্ছে। ফলে, করের পরিমাণ না বাড়ালে আশানুরূপ আয় বৃদ্ধি সম্ভব নয়।