নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রাপকদের অ্যাকাউন্ট নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রকৃত উপভোক্তাদের টাকা হাতিয়ে নেওয়া চলছিল। খোদ কলকাতা পুরসভার এক কর্মী বরো অফিসে বসে এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ। প্রাপকদের টাকা ওই কর্মীর অ্যাকাউন্টে ঢুকছিল ঘুরপথে। টাকা না পেয়ে প্রতারিতরা মুচিপাড়া থানায় অভিযোগ করলে পুলিস উমেশকুমার দাস ওরফে সৌরভ নামে ওই পুরকর্মীকে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করে। তাঁর বিরুদ্ধে জালিয়াতি, প্রতারণা সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। গিরিশ পার্ক থানায়ও এ সংক্রান্ত অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিস হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, কলকাতা পুরসভার ৫ নম্বর বরো এলাকায় বিভিন্ন সময় আয়োজিত ‘দুয়ারে সরকার’ শিবিরে বহু মহিলা ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর জন্য আবেদন করেন। এই ফর্ম সংগ্রহের দায়িত্ব ছিলেন ওই পুরকর্মী। সেই সঙ্গে বরো অফিসে ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এ আবেদনের নথি তিনি জমা নিতেন। প্রকল্পের সুবিধা পেতে মহিলাদের আধার, প্যান, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি ও মোবাইল নম্বর দিতে হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, ওই নথির ভিত্তিতে আবেদনকারীর নামে একটি অ্যাকাউন্ট খোলা হতো। উপভোক্তা অ্যাকাউন্ট খোলার মেসেজও পেতেন। এরপর শুরু হতো জালিয়াতি। অভিযুক্ত একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে আরও একটি অ্যাকাউন্ট খুলতেন। ওই অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করিয়ে দিতেন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সঙ্গে। মেসেজ পাওয়ার জন্য দিতেন নিজের মোবাইল নম্বর। ওই অ্যাকাউন্টেরই কেওয়াইসি করানো হতো। ফলে প্রকল্পে বরাদ্দ টাকা আসল গ্রাহকের কাছে না গিয়ে জমা পড়ত অভিযুক্তের অ্যাকাউন্টে। কখনও আবার আবেদনকারীর নামে খোলা অ্যাকাউন্টে যে মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেটি ব্যাঙ্ক কর্তৃক্ষকে ফোন করে বদলে দিতে বলতেন সৌরভ। সেখানে টাকা জমা পড়া মাত্র নিজের অ্যাকাউন্টে তা সরিয়ে ফেলতেন।
মুচিপাড়া থানায় মাসখানেক আগে দুই মহিলা অভিযোগ করেন, তাঁদের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-এর টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে যাচ্ছে। সরকারের কাছে এ সংক্রান্ত নথি চেয়ে পাঠায় পুলিস। জানা যায়, ওই দুই মহিলা প্রকল্পের প্রকৃত উপভোক্তা। কোন অ্যাকাউন্টে তাঁদের টাকা জমা পড়ছে, সেই তথ্যও সরকারের তরফে দেওয়া হয়। সেখানে থাকা মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে জানা যায়, অ্যাকাউন্ট নিয়ন্ত্রণ করছেন উমেশ। তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিসের দাবি, অভিযুক্ত জেরায় অপরাধ স্বীকার করেছেন। ধৃত ব্যক্তি কতজনের টাকা তুলেছেন, জিজ্ঞাসাবাদ করে তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিস। সেই সঙ্গে ব্যাঙ্কের কোন কোন কর্মী এই অসাধু কারবাড়ে জড়িত, তাও খোঁজা হচ্ছে।