নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের দায়িত্ব থেকে সম্প্রতি ইস্তফা দিয়েছেন ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। একইসঙ্গে ভেঙে গিয়েছে প্রশাসকমণ্ডলীর বোর্ড। শহরের পুর পরিষেবা কার নেতৃত্বে নিয়ন্ত্রিত হবে, তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে হাওড়া পুরসভার মুখ্য প্রশাসকের দায়িত্ব পেতে চলেছেন পুর কমিশনার বন্দনা পোখরিয়াল। উৎসব মরশুম শেষ হতেই বুধবার থেকে হাওড়া পুরসভার স্বাভাবিক কাজকর্ম শুরু হয়। সরকারিভাবে পুর দপ্তরের নির্দেশ হাতে পেলেই মুখ্য প্রশাসকের দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে জানিয়েছেন পুর কমিশনার। শহরের জঞ্জাল সাফাইয়ের উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
রবিবার রাতে মুখ্য প্রশাসকের পদ থেকে ইস্তফা দেন ডাঃ সুজয় চক্রবর্তী। রাজ্যের পুরমন্ত্রীর কাছে ইস্তফাপত্র পাঠান তিনি। দিন0কয়েক আগে ভাইস চেয়ারপার্সনের পদ থেকেও ইস্তফা দেন সৈকত চৌধুরী। মুখ্য প্রশাসকের ইস্তফার সঙ্গে সঙ্গেই হাওড়া পুরসভার ১০ সদস্যের প্রশাসকমণ্ডলীও নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের নির্দেশে নতুন প্রশাসকমণ্ডলী দায়িত্ব না পাওয়া পর্যন্ত এখন থেকে পুর কমিশনারকে মুখ্য প্রশাসকের ভূমিকা পালন করতে হবে। পুর কমিশনার বন্দনা পোখরিয়াল বলেন, ‘দপ্তরের নির্দেশনামা হাতে পেলেই দায়িত্বভার নেব। পুর পরিষেবার কাজ যেভাবে চলছিল, সেভাবেই আগামী দিনে জারি থাকবে।’ এদিকে শহরজুড়ে ভ্যাটগুলিতে জঞ্জাল সমস্যা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। বড় ভ্যাটগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না বলে অভিযোগ তুলছেন বাসিন্দারা। ছটপুজো চলাকালীন গঙ্গার ঘাটগুলি নিয়মিত পরিষ্কার করা হলেও বিভিন্ন রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তূপ বেড়েই চলেছে। যদিও কয়েক ঘণ্টা অন্তর ভ্যাটগুলি লাগাতার পরিষ্কার করা হয় বলে দাবি পুর কমিশনারের। শহরের জঞ্জাল সাফাইয়ের ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। বিশেষ করে পঞ্চায়েত লাগোয়া পুর এলাকার জঞ্জাল সমস্যাও মেটানো হবে।
হাওড়া পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর দুই সদস্য এদিন পুর কমিশনারের হাতে নিজ নিজ দপ্তরের চাবি তুলে দেন। নির্বাচিত পুরবোর্ড না থাকলেও গত সাড়ে চার বছর ধরে মুখ্য প্রশাসকের নেতৃত্বে প্রশাসকমণ্ডলী যেভাবে ধারাবাহিক পরিষেবা দিয়ে আসছিল, তা ব্যাহত হতে পারে বলে আশঙ্কা করেন অনেকেই। পূর্বতন প্রশাসকমণ্ডলীর সদস্যদের কয়েকজন বলেন, ‘মুখ্য প্রশাসকের পদত্যাগের বিষয়টি শহরবাসীর অনেকে এখনও জানেন না। এতদিন পাড়ার জঞ্জাল সাফাই কিংবা নিকাশি পরিষ্কারের জন্য বাসিন্দারা সরাসরি আমাদের কাছেই অভিযোগ জানাতেন। এখনও লাগাতার তাঁদের ফোন এসেই চলেছে। কিন্তু দায়িত্ব না থাকায় সেই কাজ আমরা করতে পারছি না।’ বিভিন্ন ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যা সংক্রান্ত বিষয় তাঁরা লাগাতার পুরসভার নজরে আনছেন। নিজস্ব চিত্র