Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ফাঁকিবাজি রুখতে হাজিরা খাতা হাতে পুর চেয়ারম্যান, বেলা ১২টায় চেয়ার ফাঁকা মেদিনীপুর পুরসভায়

ঘড়ির কাঁটা তখন দুপুর ১২টার ঘরে। হেলতে দুলতে পুরসভায় ঢুকছেন কর্মীরা।

ফাঁকিবাজি রুখতে হাজিরা খাতা হাতে পুর চেয়ারম্যান, বেলা ১২টায় চেয়ার ফাঁকা মেদিনীপুর পুরসভায়
  • ৩০ আগস্ট, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: ঘড়ির কাঁটা তখন দুপুর ১২টার ঘরে। হেলতে দুলতে পুরসভায় ঢুকছেন কর্মীরা। কখনও কখনও সাড়ে ১২টা বেজে গেলেও কর্মীদের দেখা মেলে না। সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। শুক্রবার আচমকা হাজিরা খাতা নিয়ে পুরসভার দুয়ারে বসলেন খোদ চেয়ারম্যান। মেদিনীপুর পুরসভার চেয়াম্যানের এই ভূমিকায় খুশি সাধারণ মানুষ। পুরসভার জন প্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন, সামনের সপ্তাহ থেকে পুরসভায় আসতে দেরি করলেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এমনকি, অফিসে ঢুকতে দেরি করলে ওই দিন ছুটি নিয়েই বাড়িতে থাকতে হবে কর্মীদের। গোটা প্রক্রিয়াটা মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই শুরু হয়েছে। তবে, শুধু সময়ে আসা নয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহারও করতে হবে। এদিন মেদিনীপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সৌমেন খান বলেন, ‘মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার জন্যই পুরসভা। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই লক্ষ্য করে দেখা যায় পুরসভার অনেক কর্মীই দেরিতে আসছেন। এর ফলে সমস্যায় পড়তে হচ্ছিল সাধারণ মানুষকে। অফিসে দেরিতে আসা আর বরদাস্ত করা হবে না। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ রয়েছে , সকলকে সঠিকভাবে পরিষেবা দিতে হবে। সকলকে সাড়ে দশটা থেকে এগারোটার মধ্যে অফিসে আসতেই হবে।

Advertisement

পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে পুরসভায় পৌঁছে যান চেয়ারম্যান। এরপর প্রথমে তিনি হাজিরা খাতা খতিয়ে দেখেন। সকাল সাড়ে দশটার পর তিনি পুরসভার সদর দরজায় বসেন। কোনও কর্মী পুরসভায় আসতে দেরি করলেই চেয়াম্যান প্রশ্ন করেন, কি কারণে দেরি হল? এমনকি অফিসে ঢোকার সঠিক সময় তিনি জানতে চান। এরফলে বেশ অপ্রস্তুতে পড়েন কর্মীদের একাংশ। একইসঙ্গে অফিসে দেরিতে আসার জন্য চিঠি লিখতেও বাধ্য করেন সৌমেনবাবু। জানা গিয়েছে, মেদিনীপুর পুরসভায় স্থায়ী ও অস্থায়ী মিলিয়ে কর্মীর সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ২০০ জন। তাঁদের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি অফিসে দেরিতে আসেন। 
 এদিন পুরসভায় আসা এক শহরবাসীর কথায়, পুরসভায় কোনও কাজ থাকলে সারা দিনের সময় চলে যায়। সকাল ১১টায় কাজ নিয়ে গেলে ফিরতে ১টা তো বাজেই। ১৩৮ জন স্থায়ী কর্মী রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই সময়ের মধ্যে আসেন না। মাথার উপর পাখা ও এসি ঘুরলেও চেয়ার ফাঁকা থাকে।
মেদিনীপুর পুরসভার এক কর্মী বলেন, জনপ্রতিনিধিরাও নিয়মিত আসেন না। অফিসের ওয়ার্ক কালচারের অবস্থাও ঠিক নেই। সব কিছুতেই রাজনীতিকে সামনে আনা হয়। এক জন কর্মী দেরিতে এলে তাঁকে দেখে আরও ১০ জন দেরি করে অফিসে আসছেন। এনিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিজেপিও। এদিন জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, ‘পুরসভা থেকে মানুষ পরিষেবা পান না। পুরসভায় কাজের থেকে দুর্নীতি বেশি হয়। এটা নাটক করা হচ্ছে। দু›দিন পর থেকে সকলে দেরিতেই আসবেন।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ