Bartaman Logo
৬ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

যান্ত্রিক গোলযোগে ২ ঘণ্টা আটকে একাধিক ট্রেন, তীব্র ভোগান্তি দমদমে

বুধবার অফিস টাইমে দমদমে সিগন্যাল বিভ্রাট। সে কারণে দাঁড়িয়ে গেল একাধিক ট্রেন। চূড়ান্ত দুর্ভোগে পড়লেন বারাসত-বনগাঁ লাইনের যাত্রীরা

যান্ত্রিক গোলযোগে ২ ঘণ্টা আটকে একাধিক ট্রেন, তীব্র ভোগান্তি দমদমে
  • ১৪ মে, ২০২৬ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বুধবার অফিস টাইমে দমদমে সিগন্যাল বিভ্রাট। সে কারণে দাঁড়িয়ে গেল একাধিক ট্রেন। চূড়ান্ত দুর্ভোগে পড়লেন বারাসত-বনগাঁ লাইনের যাত্রীরা। 

Advertisement

এদিন সকালে আপ ও ডাউন লাইনে সমস্যা দেখা দেয়। রেল জানিয়েছে, দমদম ক্যান্টনমেন্টের দিক থেকে দমদম জংশনে ঢোকার মুখে রেল লাইনে পয়েন্ট ফেল ধরা পড়েছে। একটি লাইন বা ট্র্যাক থেকে ট্রেন যখন অন্য লাইন বা ট্র্যাকে যাচ্ছে সেই সংযোগস্থলে ধরা পড়েছে যান্ত্রিক ত্রুটি। তার জেরেই ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল। এই সমস্যার ফলে প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে সমস্যা চলে। গোটা রুটে ট্রেন পরিষেবায় বিঘ্ন ঘটে। বেলা সাড়ে ১০টার পর পরিষেবা কিছুটা সচল হয়। পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে দুপুর গড়িয়ে যায় বলে অভিযোগ। 
যাত্রীদের বক্তব্য, এদিন সকালে বনগাঁ-শিয়ালদহ লোকাল বিরাটি থেকে দমদম ক্যান্টনমেন্ট পর্যন্ত আসার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা দেখা যায়নি। কিন্তু দমদম জংশনে ঢোকার মুখে সমস্যায় পড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকে ট্রেন। দীর্ঘসময় অপেক্ষা করতে করতে ধৈর্যচ্যুতি ঘটে যাত্রীদের। বহু যাত্রী ট্রেন থেকে নেমে প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে লাইন ধরে হেঁটে দমদম স্টেশনের দিকে এগতে থাকেন। ট্রেনটি ছাড়তে আরও দেড়ঘণ্টা সময় লাগে। তখনও লাইন ধরে হেঁটে চলতে দেখা যায় অনেক যাত্রীকে। কারণ ততক্ষণে লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে গিয়েছে একাধিক লোকাল। বনগাঁ, বারাসত ও হাসনাবাদ লাইনের যাত্রীদের এর ফলে প্রবল সমস্যায় পড়তে হয়। রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, দমদমের লাইনে যান্ত্রিক গোলযোগের ফলে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সকাল ৮টা ২৪ মিনিট থেকে ১০টা ২০ মিনিট পর্যন্ত সমস্যা চলেছে। 
এই ঘটনায় দমদম-বনগাঁ লাইনে পরপর দাঁড়িয়ে পড়ে ট্রেন। রেলের যদিও দাবি, সমস্যার কারণে কোনো লোকাল ট্রেন বাতিল করতে হয়নি। তবে দেরিতে চলেছে অনেক ট্রেন। প্রায় ২ ঘণ্টা পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। এই যান্ত্রিক গোলযোগের প্রভাব থাকে দুপুর পর্যন্ত। দীর্ঘ সময় ধরে নিত্যযাত্রীদের সমস্যা পোহাতে হয়। বিভিন্ন স্টেশনে পরপর ট্রেন দাঁড়িয়ে যাওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যাত্রীদের। তাঁদের অনেকে লাইন ধরে হেঁটে দমদম ক্যান্টনমেন্টে নেমে মেট্রো ধরেন। অনেকে যশোর রোডে গিয়ে অন্য যান ধরেন। দত্তপুকুরের বাসিন্দা শেখর ভদ্র বারাসত লাইনের নিত্যযাত্রী। তিনি বলেন, ‘দমদমে ঢোকার আগে আচমকা দাঁড়িয়ে গেল ট্রেন। অপেক্ষার পর বহু মানুষ লাইনে নেমে পড়েন। শুনলাম ট্রেনের চালক বলেছেন, সিগন্যাল কাজ করছে না। আমাদের পিছনে আরও অনেক ট্রেন দাঁড়িয়ে আছে।’ বারাসতের বাসিন্দা অমর চক্রবর্তী বলেন, ‘সকাল থেকেই এমন পরিস্থিতি হয়ে রয়েছে। অথচ কোনো স্টেশনেই অপেক্ষারত যাত্রীদের সে কথা জানানো হয়নি। অনেকে হেঁটেছেন লাইন ধরে। প্রবীণ এবং মহিলা যাত্রীরা বাধ্য হয়ে ট্রেনের মধ্যেই বসেছিলেন। সবাই ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।’

সম্পর্কিত সংবাদ