নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: পর্যটক টানতে কোনো ট্যুর অপারেটর ২৫০০ টাকায় দু’দিনের প্যাকেজ দিচ্ছে। কেউ আবার একই ট্যুর প্যাকেজ সজিয়েছে তিন হাজার টাকায়। ইলিশ উৎসবে সুন্দরবনে এভাবেই প্রতিযোগিতায় নেমেছেন অনেকে। কিন্তু তাতে খরচে কুলিয়ে উঠতে পারছেন না তাঁরা। ফলে বাধ্য হয়ে খাবারের মানের সঙ্গে আপস করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এমনই অভিযোগ উঠেছে এক ট্যুর অপারেটরের বিরুদ্ধে। কারণ, ওই সংস্থার সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া একাধিক পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। সোমবার বোট মালিক ও ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে পুলিশ, বনবিভাগ ও প্রশাসনের কর্তাদের বৈঠকে এ বিষয়ে উদ্বেগের কথা উঠে এসেছে। বৈঠকে পুলিশের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট মহলকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এই মরশুমে খাবারে বিষক্রিয়ার কারণে বেশ কয়েকজন পর্যটক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমন ঘটনা অন্যান্যবারের তুলনায় এবার বেশি ঘটেছে। সূত্রের খবর, পুলিশ ইতিমধ্যেই এই ধরনের ১৫-২০টি ঘটনার কথা জানতে পেরেছে। এদিনের বৈঠকে গোসাবা থানার পক্ষ থেকে খাবারের মান বজায় রাখার জন্য প্রত্যেক বোট মালিক ও ট্যুর অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বোটে বিশেষ নির্দেশনামা ছাপিয়ে সাঁটানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যেমন, কোনো পর্যটকের যদি চিংড়ি বা কাঁকড়া অথবা অন্য কোনো খাবারে এলার্জি থাকে, তা যেন ট্যুর অপারেটরকে আগাম জানানো হয়। শরীর বুঝে পর্যটকদের খাওয়াদাওয়া করতে হবে। বোটে মদ্যপান নিষিদ্ধ।
সামনেই দুর্গাপুজো। তখন পর্যটকদের ভিড় বাড়বে সুন্দরবনে। তার আগে পর্যটকদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এক গুচ্ছ সতর্কবাণী শুনিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা। তাঁদের কথায়, বোটে খাবার খেয়ে কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তা পর্যটন শিল্পের উপর খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে একথা ছড়িয়ে পড়লে বিপদ বাড়তে পারে। তাই খাবারের মানের সঙ্গে কোনো আপস করা যাবে না। সুন্দরবন ট্যুরিস্ট বোট ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গোলাম রসুল সর্দার বলেন, প্রশাসনের বার্তা পেয়ে আমরা সবাইকে সেসব মেনে চলতে বলেছি। পর্যটকদের স্বাস্থ্যের সঙ্গে আপস করা যাবে না।