Bartaman Logo
১০ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

রাজারহাটে আবাসনের জলে সংক্রমণ অসুস্থ একাধিক বাসিন্দা, থানায় অভিযোগ

নিউটাউন-রাজারহাটে আগাছার মতো গজিয়ে উঠছে গগনচুম্বী আবাসন। হাইরাইজে থাকতে গেলে গুনতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এর আগেও একটি নামী আবাসনে জলদূষণের অভিযোগ উঠেছিল।

রাজারহাটে আবাসনের জলে সংক্রমণ অসুস্থ একাধিক বাসিন্দা, থানায় অভিযোগ
  • ১০ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: নিউটাউন-রাজারহাটে আগাছার মতো গজিয়ে উঠছে গগনচুম্বী আবাসন। হাইরাইজে থাকতে গেলে গুনতে হচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা। এর আগেও একটি নামী আবাসনে জলদূষণের অভিযোগ উঠেছিল। এবার রাজারহাটে একটি নামকরা আবাসনে জলদূষণের অভিযোগ উঠল। সংক্রমণে ২০-২৫ জন বাসিন্দা অসুস্থ হয়েছেন। একজনকে ভরতি করা হয়েছে হাসপাতালে। রবিবার সকালে এর প্রতিবাদে আবাসন কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান সেখানকার বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সঠিক নজরদারি ও রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়াতেই এই অবস্থা। এ ব্যাপারে আবাসনের বাসিন্দারা রাজারহাট থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন। অস্থায়ীভাবে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে। আবাসনে গিয়েছে স্বাস্থ্যদপ্তরের টিমও।

Advertisement

বাসিন্দাদের কথায়, রাজারহাট চৌমাথা সংলগ্ন এই আবাসনে ৯টি টাওয়ার রয়েছে। এক-একটি টাওয়ার ১৯তলার। প্রতিটি ফ্লোরে আটটি করে ফ্ল্যাট। আরও একটি নতুন টাওয়ার তৈরি হচ্ছে। নামী সংস্থার আবাসন দেখেই তাঁরা এখানে ফ্ল্যাট কিনেছেন। কিন্তু পানীয় জলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবাতেই গাফিলতি? অনেকে বলছেন, নামী সংস্থার তৈরি আবাসন মানেই ভালো নয়। যেখানে নাগরিক পরিষেবা উন্নত ও আধুনিক, সেই আবাসনই ভালো। এই আবাসনে মাটির নীচ থেকেই পানীয় জল তোলা হয়। কয়েক মাস আগে নিউটাউনের একটি অভিজাত আবাসন নিজেরাই পানীয় জলের নমুনা পরীক্ষা করিয়ে ব্যাকটেরিয়া পেয়েছিল। তারপরই পরিস্রুত পানীয় জলের দাবি উঠেছিল। কিন্তু সেখানে পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা নেই। এখানেও নেই।
আবাসনের বাসিন্দারা এদিন সকালে গেটের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। বিক্ষোভ চলাকালীন এক তরুণী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ঘটনাস্থলে আসে রাজারহাট থানার পুলিশ। বিকল্প ব্যবস্থা হিসাবে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হয়। দুপুরের পর ঘটনাস্থলে যান রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়া। বিকালের দিকে স্বাস্থ্যদপ্তরের টিমও পৌঁছায়। আবাসন কর্তৃপক্ষ বাদেও বাসিন্দারাও জলের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠিয়েছেন। প্রশাসন থেকে পিএইচই কর্তৃপক্ষকে জল পরীক্ষা করতে বলা হয়েছে।
স্বপনকুমার মিত্র নামে আবাসনের এক বাসিন্দা বলেন, ‘এর আগে কালো, হলুদ জল দেখা গিয়েছে। এখন জল থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সেই জল খেয়ে ২০-২৫টি শিশু অসুস্থ। কারও পেট ব্যথা, কারও বমি। এক বয়স্ক ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিজার্ভারের অবস্থা বেহাল। তার উপর নির্মাণসামগ্রী রাখা। পিট গ্রাউন্ড লেভেলে রয়েছে। একটির আবার ঢাকনা খোলা। আমরা চাই নাগরিকদের কথা ভেবে অবিলম্বে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।’ তিনি আরও বলেন, ‘ট্যাঙ্কে জল এনেছে এখন। আমাদের বালতি করে ফ্ল্যাটে জল বয়ে নিয়ে যেতে হচ্ছে। আমরা কি এটাই চেয়েছিলাম!’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ