নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ৪ মে বিধানসভা ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকে বঙ্গ বিজেপির সংগঠন কার্যত লাটে উঠেছে। এমনটাই দাবি পার্টির একাংশের। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্য-জেলা-মণ্ডল স্তরে গত দু’মাসে সংগঠন নিয়ে তেমন গুরুত্বপূর্ণ কোনো বৈঠক হয়নি। সবাই সরকার নিয়েই ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে রাজ্যজুড়ে পার্টির বিস্তার রীতিমতো থমকে রয়েছে। সূত্রের দাবি, চলতি মাসেই রাজ্য-জেলা-মণ্ডল পর্যায়ে সংগঠনে বড়োসড়ো পরিবর্তন হবে। রাজ্য কিংবা জেলা কমিটিতে বহু পদাধিকারী রয়েছেন, যাঁরা বর্তমানে দলের বিধায়ক। ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি মেনে তাঁদের সংগঠনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে। বয়স কম নতুন একগুচ্ছ মুখকে দলের সামনের সারিতে তুলে আনা হতে পারে। শনিবার রাজ্যে আসছেন অমিত শাহ। এই সফরে বঙ্গ বিজেপির অভ্যন্তরে এই নয়া ‘রক্ত আমদানি’র ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হতে পারে। পার্টির এক নেতার কথায়, সদস্যতা অভিযান কিংবা দলীয় স্তরে প্রশিক্ষণ পর্ব হচ্ছে না বললেই চলে। পার্টির নেতাদের মধ্যে অদ্ভুত এক ক্ষমতার নেশা মাথাচাড়া দিয়েছে। দলের ঘরোয়া বৈঠকে একে অপরের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সিন্ডিকেটরাজ কিংবা তৃণমূল নেতাদের সঙ্গ সখ্যের অভিযোগ, পালটা অভিযোগেই সময় চলে যাচ্ছে। বাড়তি দায়িত্ব নিতে গিয়ে অন্য দলের পার্টি অফিস বন্ধ করা কিংবা স্থানীয় পুরসভা-থানায় গিয়ে ক্ষমতা দেখানোর প্রবণতা বাড়ছে। তাই এখনই কড়া হাতে সংগঠনকে নতুন করে ঢেলে না সাজলে রাশ আলগা হয়ে যেতে পারে। সেই সূত্রেই স্বয়ং অমিত শাহের পরামর্শ মেনে রদবলের প্রাথমিক প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে পার্টির বঙ্গ ইউনিট। এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাশাপাশি শাহ ভারত সরকারের সমবায় মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁর হাত ধরেই এশিয়ার বৃহত্তম দুগ্ধ সমবায় সংস্থা আমুল পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ করতে চলেছে। গুজরাতের এই দুগ্ধ উৎপাদনকারী সংস্থা বড়ো অঙ্কের লগ্নি করতে চলেছে হাওড়ার সাঁকরাইলে। প্রকল্পের শিলান্যাস করতে শনিবার শহরে আসছেন তিনি।



