তারক চক্রবর্তী, শিলিগুড়ি: ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি, শিলিগুড়ি বিধানসভা আসনে কী প্রার্থী বদলাতে চলেছে বিজেপি? এক একটি আসন থেকে সম্প্রতি বিজেপির একাধিক প্রার্থীর নাম কর্মীদের তরফে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে যাওয়ার পর এই প্রশ্নই সামনে এসেছে। যদিও সবকটি আসনে জেতা প্রার্থীদের টিকিট না দিয়ে নতুনদের উপর ভরসা রাখা নিয়ে দলেরই একাংশ সন্দিহান। এদিকে ডাবগ্রাম-ফুলবাড়িতে তৃণমূল কোনো খেলোয়াড়কে প্রার্থী করতে পারে বলে জল্পনা ছড়িয়েছে। সেই জায়গায় শিলিগুড়ির দীর্ঘদিন ধরে ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে পরিচিত নান্টু পালকে ওই আসনের প্রার্থী হিসেবে বিজেপির একাংশ চাইছে বলে গেরুয়া শিবির জানিয়েছে। নান্টুবাবু প্রাক্তন নর্থ বেঙ্গল স্পোর্টস বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান, ব্যাডমিন্টেন ও কবাডির সংগঠন সহ ১৫টির বেশি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। সম্প্রতি জাতীয় স্তরের এক বিজেপি নেতার সামনে হওয়া এক সমীক্ষাতেও নান্টুবাবুর নাম গিয়েছে বলে দল সূত্রে জানা গিয়েছে। নান্টুবাবু নিজেও বিষয়টি উড়িয়ে দেননি।
তিনি বলেন, প্রার্থী ঠিক করবে দল। আমি সেই বিষয়ে বলতে চাই না। নাম থাকলে থাকতেও পারে। ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ির বর্তমান বিধায়ক বিজেপির শিখা চট্টোপাধ্যায় বলেন, একই আসনে অনেকের নাম যেতেই পারে। দল যাঁকে টিকিট দেবে আমরা তাঁর হয়েই কাজ করব।
অন্যদিকে বিজেপি সূত্রে জানা গিয়েছে, মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বর্তমান বিধায়ক আনন্দময় বর্মনকে বদলে বর্তমান শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অরুণ মণ্ডলকে টিকিট দেওয়ার জন্য দলের একাংশ দাবি করেছে। এর আগে বিধায়ক হওয়ার পাশাপাশি শিলিগুড়ি সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন আনন্দময়। তাঁর হাত থেকে দায়িত্ব পান অরুণবাবু। এরপরেই আনন্দময় বর্মনের অনুগামী ও অরুণ মণ্ডলের অনুগামীদের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে এসেছিল। লোকসভা নির্বাচনের আগে সেই দ্বন্দ্বের ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে রীতিমতো রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বকে আসরে নামতে হয়েছিল। এরপর বিধানসভার আগে জেতা আসন থেকে ফের অরুণের নাম ওঠায় অস্বস্তি বেড়েছে দলের অন্দরেই। যদিও অরুণবাবু বলেন, প্রার্থীর নাম ঠিক করবে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। নাম অনেকেরই যেতে পারে। তাতে সমস্যার কিছুই নেই।
শিলিগুড়ি আসনে প্রার্থী হিসেবেও একইভাবে পুরানো ও নতুন কর্মীদের চাইছে দলের একাংশ। দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এই আসনে প্রার্থী হিসেবে বহু হিন্দিভাষী ব্যবসায়ীকে পছন্দের তালিকায় রেখেছেন দলের কর্মীদের একাংশ। তবে রাজ্য বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা নেতা তথা বিজেপির বিধায়ক শংকর ঘোষের জায়গায় আর কাউকে টিকিট দেওয়া হবে কি না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে কর্মীদের অন্দরেই। এপ্রসঙ্গে শংকরবাবু বলেন, দল যাকে প্রার্থী করবে আমরা তাঁকে সামনে রেখেই নির্বাচনী লড়াইয়ে নামব।