নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: এ যেন বারুদের ঢিবির উপর বসে দেশলাই জ্বালানোর মতো পরিস্থিতি! যখন তখন বিধ্বংসী অগ্নিকাণ্ডে ছাই হয়ে যেতে পারে উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন নিউ জলপাইগুড়ির গরিমা। দীর্ঘদিন ধরে একটু একটু করে এলাকায় গুন্ডাগিরি, সিন্ডিকেট দখল, অবৈধভাবে মজুত করা তেল বিক্রি চক্রের রমরমা বাড়ছে। তাতে যেকোনও দিন এনজেপি স্টেশন এলাকার দখল কার হাতে থাকবে তা নিয়ে বড়সড় গণ্ডগোলের আশঙ্কা করছেন অনেকে। তাঁদের ধারণা যে মোটেও ফেলে দেওয়ার মতো নয়, তা সাম্প্রতিক বেশকিছু ঘটনার দিকে চোখ রাখলেই স্পষ্ট হয়।
এলাকায় জুয়া ও তেলের সিন্ডিকেট নিয়ে দুই গোষ্ঠীর গণ্ডগোল হামেশাই লক্ষ্য করা যায়। তবে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাত হলেই স্টেশন এলাকায় দুষ্কৃতী তাণ্ডব। গত সোমবার রাতে এক নববধূ সহ তাঁর পরিবারের লোকেদের উপর হামলা ও সোনার চেন ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনায় তিন অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এনজেপি থানার পুলিস। তবে শুধু এই একটি ঘটনাই নয়, লাগাতার রাতে মদ্যপদের তাণ্ডব চরমে ওঠে বলে অভিযোগ।
ওয়াকিবহাল মহলের দাবি, এনজেপি এলাকায় প্রচুর বাইরের মানুষ কাজের সন্ধানে আসেন। ধীরে ধীরে তাঁরা এলাকার সিন্ডিকেটরাজের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পড়ে। এরপরেই একে একে তৈরি হয় দুষ্কৃতীদের দল। যারা এলাকায় অশান্তি ছড়াতে পারদর্শী। পুলিস বারবার চেষ্টা করেও এদের দৌরাত্ম্য কমাতে পারছে না। এ প্রসঙ্গে নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা তথা শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় নেতা জয়দীপ নন্দী বলেন, আমরা চাই এনজেপি স্টেশনে যাতে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য না হয়। সেই কারণেই বাড়তি পুলিসি নজরদারির দাবি জানাচ্ছি।
সিন্ডিকেট রাশ কার হাতে থাকবে, সেই দ্বন্দ্বের জেরে গত বছর জুন মাসে এক ব্যক্তিকে খুন হতে হয়েছিল। পুলিসের একটি অংশের দাবি, এই সিন্ডিকেটগুলিতে বাইরে থেকে কাজের সন্ধানে আসা বিহার, উত্তরপ্রদেশ সহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ রয়েছে। ফলে শহর শিলিগুড়ির প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা নেই। উত্তর-পূর্ব ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শহরের এই স্টেশনের গরিমা রক্ষার মাথাব্যথা নেই তাদের। ফলে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য বেড়েই চলেছে। প্রশাসনের একটা অংশ এই দাপট কমাতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত পারিপার্শ্বিক একাধিক চাপে সেই কাজ ঠিকমতো করতে পারছে না বলেও মনে করছেন অনেকে।
শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা ওই এলাকায় পেট্রলিং বাড়াচ্ছি। এছাড়াও একাধিক উপায়ে নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে।