নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ক’দিন আগে হাড়োয়ার তৃণমূল বিধায়কের বিরুদ্ধে ভেরির ‘দখলদারি’ নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন জমির মালিকরা। এবার তাঁর বিরুদ্ধেই বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার ও লিফলেটকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তাতে বিধায়ককে ‘তোলাবাজ’ থেকে শুরু করে পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পোস্টারের নীচে লেখা তৃণমূলের নাম। এই ঘটনায় হাড়োয়ায় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
হাড়োয়ার উপ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিধায়ক হয়েছেন শেখ রবিউল ইসলাম। তাঁর বিধানসভা এলাকার দেগঙ্গা ১ নম্বর পঞ্চায়েতের দোগাছিয়া এলাকায় ভেরি দখল নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে চাপানউতোর চলছে। প্রকৃত জমির মালিকরা ‘জাস্টিস’ পাননি বলে অভিযোগ। বিধায়ক রবিউল আশ্বাস দিয়েছিলেন, দ্রুত সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কিন্তু, এখনও এ নিয়ে রফাসূত্র বের হয়নি। কয়েকশো পরিবার বিধায়কের বিরুদ্ধে উদাসীনতার অভিযোগ তুলেছে। এবার সেই আবহে রবিবার দেগঙ্গা, শাসন ও হাড়োয়া এলাকায় তাঁর নামে বিভিন্ন পোস্টার দেখা যায়। এমনকী, কিছু লিফলেটও পড়ে থাকতে দেখা যায় বিভিন্ন গ্রামে। যেখানে দাবি করা হয়েছে, প্রতিটি পঞ্চায়েত থেকেই ‘কাটমানি’ তুলছেন বিধায়ক। পাশাপাশি ইটভাটা, মাটি মাফিয়া বা ভেরি থেকেও টাকা নিচ্ছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়। দলীয় সূত্রে খবর, সাংগঠনিকভাবে জেলা সভাপতিদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আগামী দিনে ব্লক বা অঞ্চলের পদাধিকারীদের নাম ঘোষণা করা হবে। এক্ষেত্রেও বিধায়ক ‘কারসাজি’ করে পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে টাকা তুলছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে পোস্টারে। এই পোস্টারের খবর চাউর হতেই দলের একাংশ তা খুলে ফেলে। স্থানীয় বাসিন্দা কেতাব আলি, শাহাবুদ্দিন খান বলেন, বেলিয়াঘাটা, দেগঙ্গা, দোগাছিয়া, ফলতি সহ বিভিন্ন এলাকায় পোস্টার পড়েছে। কে বা কারা এই পোস্টার সেঁটেছে, জানি না। তবে, এলাকায় বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। বিধায়ক তা মেটানোর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তা আজও বাস্তবায়িত হয়নি। এটা তারই বহিঃপ্রকাশ কি না, তা বলতে পারব না। বিধায়ক রবিউল ইসলাম বলেন, অভিযোগই সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কারও যদি কোনও অভিযোগ থাকে, তাহলে তিনি দলের কাছে এসে বলুন। রাতের অন্ধকারে কাপুরুষের মতো এমন আচরণের কোনও মানে হয় না। আমি টিকিট পাওয়ার পর থেকেই কুৎসা রটানো হচ্ছে। বিজেপির রাজ্যস্তরের নেতা তাপস মিত্র বলেন, যা রটে, তার কিছুটা তো বটে। তৃণমূলের বিধায়ক কী করছেন, তা এলাকায় কানপাতলেই শোনা যায়।-নিজস্ব চিত্র