Bartaman Logo
৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাড়বাড়ন্ত হবে ‘মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট’ ব্যাকটেরিয়ার! নেপাল বিপর্যয়ের আবহে ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক গবেষণায়

নেপালে হড়পা বানে অসংখ্য প্রাণ ও সম্পত্তিহানি ঘটেছে। তবে এতেই বিপদের শেষ হচ্ছে না! এই ধরনের বিপর্যয়ের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড়ো বিপদ।

বাড়বাড়ন্ত হবে ‘মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট’ ব্যাকটেরিয়ার! নেপাল বিপর্যয়ের আবহে ইঙ্গিত আন্তর্জাতিক গবেষণায়
  • ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: নেপালে হড়পা বানে অসংখ্য প্রাণ ও সম্পত্তিহানি ঘটেছে। তবে এতেই বিপদের শেষ হচ্ছে না! এই ধরনের বিপর্যয়ের পিছনে লুকিয়ে রয়েছে আরও বড়ো বিপদ। আন্তর্জাতিক একটি গবেষণায় জানা গিয়েছে, ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ার বাড়বাড়ন্তের পিছনে রয়েছে ভূমিক্ষয়ের মতো ঘটনা। এরকম বিপর্যয় সেই আশঙ্কা বহু গুন বাড়িয়ে দেয়। বিশ্বখ্যাত ‘জার্নাল অব হ্যাজার্ডাস মেটেরিয়ালস’-এ প্রকাশিত হয়েছে গবেষণাপত্রটি। নেতৃত্ব দিয়েছেন ইম্পিরিয়াল কলেজ অব লন্ডনের লাইফ সায়েন্স বিভাগের বিজ্ঞানী অর্ণব মজুমদার। গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল ইনস্টিটিউট অব অ্যাকোয়াটিক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির বিজ্ঞানী ডেভিড আর জনসন এবং জার্মানির লিবনিজ সেন্টার ফর এগ্রিকালচারাল ল্যান্ডস্কেপ রিসার্চের স্টেফেন কোল্ব।

Advertisement

বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, ভূমির উচ্চতা সেই অঞ্চলের ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ এবং সেগুলির চরিত্র অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করে। মাটির উপরের স্তরগুলিতেই থাকে সিংহভাগ ব্যাকটেরিয়া। জলবায়ুজনিত ক্ষয়ের ফলে সেই ব্যাকটেরিয়া ভেসে বা ধুয়ে নীচু এলাকা বা জলাশয়ে পলির সঙ্গে মেশে। ফলে উঁচু এলাকার ব্যাকটেরিয়া কমে যায়। আর নীচু এলাকায় এর প্রভাব বাড়ে। আর স্বাভাবিকভাবেই সমতল বা নীচু এলাকায় মানুষের ক্রিয়াকলাপের জন্য ভারী ধাতুর উপস্থিতি বেশি থাকে। সেগুলির সংস্পর্শে এসে ব্যাকটেরিয়া ধীরে ধীরে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়ায় পরিণত হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, যে অঞ্চলের মাটির ক্ষয় হয়, সেখানে ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য ১৫ থেকে ৩০ শতাংশ কমে যায়। সেই পরিমাণটিই কয়েকগুন বেড়ে যায় নীচু এলাকায়।
তবে ব্যাকটেরিয়ার চরিত্র বদলের প্রক্রিয়াটি একটু জটিল। নীচু এলাকায় ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বেড়ে যায়, সেগুলি ড্রাগ প্রতিরোধী হয়ে পড়ে—এই তথ্যে মনে হতে পারে উঁচু এলাকা অনেক বেশি নিরাপদ। কিন্তু বিজ্ঞানীদের দাবি, উঁচু পার্বত্য অঞ্চলে এমন ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান মিলেছে, যেগুলি মাল্টিড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট অর্থাৎ একাধিক ধরনের (বিএলএ-এনডিএম, এমসিআর-১ এবং বিএলএ-এনডিএম, এমসিআর-১ এবং ভ্যানকোমাইসিন প্রতিরোধী জিন) অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধও হজম করে ফেলতে পারে। সেখানকার জলাশয়, এমনকি মেঘের মধ্যেও রয়েছে এমন ব্যাকটেরিয়া। মনুষ্যবর্জিত এলাকায় এমন ব্যাকটেরিয়ার সন্ধান পেয়ে বিজ্ঞানীরা আরও তলিয়ে দেখার চেষ্টা করেন। তাতে তাঁরা বুঝতে পারেন, নীচু এলাকা থেকে হাওয়াবাহিত ধুলিকণার সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াগুলি ‘ঊর্ধ্বগামী’ হয়েছে। অর্থাৎ এখানেও জড়িত সেই ভূমিক্ষয়ের ঘটনা।
উঁচু এলাকার ব্যাকটেরিয়া মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট কেন? উঁচু এলাকা ব্যাকটেরিয়ার বেঁচে থাকার জন্য অনুকূল নয়। উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্যাকটেরিয়া বিভিন্ন প্রতিযোগিতার মধ্যে পড়ে। ফলে এমন ব্যাকটেরিয়াই বেঁচে থাকে, যেগুলি বিভিন্ন বাহ্যিক প্রভাব সহ্য করতে পারে। সেই প্রভাবের মধ্যে পড়ে ওষুধও। দেখা গিয়েছে, উঁচু এলাকায় ৬৬ শতাংশ ব্যাকটেরিয়াই মাল্টি ড্রাগ রেজিস্ট্যান্ট। কারণ প্রতিকূলতার সঙ্গে লড়াই করে এরাই বেঁচে থাকে। বিজ্ঞানীদের দাবি, ২০৭০ সালের মধ্যে ভূমিক্ষয় ৩০ থেকে ৬৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে। তাই আগামী যে সুখকর নয়, বলাই যায়!

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ