নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: খুনের মামলায় ৩৩ বছর সাজা খেটে বেরিয়ে এসে জীবিকার খোঁজ করছিলেন হরিদেবপুরের সুব্রত সরকার। কিন্তু তাঁকে কে কাজ দেবে, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। অবশেষে সুব্রতবাবুর সহায় হয়ে দাঁড়াল দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কারা বিভাগ। ওই ব্যক্তিকে অটো কেনার জন্য ঋণের ব্যবস্থা থেকে শুরু করে রুট পারমিট পর্যন্ত বের করতে সাহায্য করেছেন কারা দপ্তরের আধিকারিকরা। শুক্রবার সেই অটোতে যাত্রী তুলে ফের নতুন করে জীবন শুরু করলেন এই প্রৌঢ়। এদিন রাসবিহারী-বেহালা চৌরাস্তা রুটে তাঁর অটো চলতে শুরু করেছে।
জানা গিয়েছে, তাঁর বয়স যখন অল্প, তখন এই সুব্রত সরকারের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। আদালতের রায়ে তাঁর ঠিকানা হয় প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার। তিন দশকেরও বেশি সময় পর ছাড়া পেয়েছেন তিনি। সুব্রতবাবুর পরিবারে এখন আর কেউ নেই। পেট চালাতে পুরনো জীবন ভুলে নতুন করে সব কিছু শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু কীভাবে মিলবে কাজের সুযোগ, সেটাই যেন কুড়ে কুড়ে খাচ্ছিল তাঁকে। সুব্রতবাবুর কথা জানতে পারে জেলা কারা বিভাগের প্রবেশন ও আফটার কেয়ারের আধিকারিক মনোজকুমার রায়। জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় শুরু হয় নতুন লড়াই। তাঁর জন্য কী ধরনের কাজের ব্যবস্থা করা যায়, তা নিয়েই চলছিল খোঁজখবর। অবশেষে তাঁরা জানতে পারেন, সুব্রতবাবু গাড়ি চালাতে পারেন।
প্রশাসন ঠিক করে, তাঁকে অটো কেনার ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। সেইমতো ব্যাংক থেকে ঋণ পাইয়ে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়। পরিবহণ দপ্তর অটো চালানোর পারমিটের ব্যবস্থা করে। তাতেই নতুন করে পথচলা শুরু হল এই প্রৌঢ়র। দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলাশাসক সুমিত গুপ্তা বলেন, নতুন করে যাতে তিনি জীবন শুরু করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই সুব্রতবাবুকে সাহায্য করা হয়েছে। আর পাঁচজনের মতো তিনিও এবার নিজের জীবিকা নির্বাহ করবেন।