দীপন ঘোষাল, রানাঘাট: শিল্পসৃষ্টিতে যাঁরা মগ্ন থাকেন, তাঁরা বুঝি এমনই হন! দেহরক্ষীর গুলিতে ইন্দিরা গান্ধী ঝাঁঝরা হয়ে যাওয়ার পর পরই গান লিখে ফেলেছিলেন গীতিকার পরিতোষ রায়। সেই গানের কথায় রাতারাতি সুরারোপ করে ও গান গেয়ে আম বাঙালির হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন বাউলশিল্পী গোষ্ঠগোপাল দাস। ‘একত্রিশে অক্টোবর...১৯৮৪’—এখনও প্রয়াত প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুদিবসকে স্মরণ করিয়ে দেয় কংগ্রেসের নেতা-কর্মীদের। গতকাল প্রয়াত হয়েছেন কংগ্রেসের আর এক প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিং। মৃত্যুর খবর পাওয়ার মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই মাটির আবক্ষমূর্তি গড়ে তাক লাকিয়ে দিলেন শান্তিপুরের মৃৎশিল্পী সৌরাজ বিশ্বাস। দেশের সফল প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তাঁর এই সৃষ্টি। শুক্রবার সেই মাটির মনমোহন নিয়ে মাতোয়ারা ছিল শান্তিপুরের শ্যামবাজার পাড়া। পথ চলতে চলতে থমকে দাঁড়িয়ে পড়েছেন মূর্তির সামনে। অবাক নয়নে দেখতে দেখতে কেউ কেউ নিজেই নিজেকে প্রশ্ন করেছে—‘এটাও কী সম্ভব? একেবারে অবিকল!’ বিস্ময়ের ঘোর যেন কিছুতেই কাটছে না দর্শকদের।
Advertisement
শান্তিপুরের সাধারণ দরিদ্র পরিবারে জন্ম সৌরাজের। পড়াশোনা বলতে মাধ্যমিক। কিন্তু শিল্প তাঁকে টেনেছে ছোটবেলা থেকেই। শান্তিপুরের বিভিন্ন পটুয়াপাড়ায় ঘুরে ঘুরে রপ্ত করে নিয়েছিলেন মৃৎশিল্পের বেসিক শিক্ষা। মাটি নিয়ে খেলাধুলা একসময় বদলে যায় পেশায়। একাগ্রতা আর ইচ্ছে শক্তির উপর দাঁড়িয়ে আজ বছর তেত্রিশের সৌরাজ শান্তিপুরের অন্যতম সফল মৃৎশিল্পী। শ্যামবাজার পাড়ায় তার গোলায় তৈরি ঠাকুর নিয়ে রীতিমতো চর্চা হয় প্রতিবছর।
অভাবের পরিবারে এক সময়ে ভাত জুটিয়েছিল ১০০ দিনের কাজ। সেই প্রকল্পের স্রষ্টা ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সেটা সৌরাজ জেনেছিলেন এক প্রতিবেশীর থেকে। সেই মানুষটার মৃত্যুতে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করাকে কর্তব্য বলে মনে করেন সৌরাজ। তাই আর দেরি করেননি তিনি। মৃত্যুর খবর পেয়েই মাটি নিয়ে গড়তে বসে যান মনমোহনের আবক্ষ মূর্তি। তখন বেলা বারোটা। মাত্র চার ঘন্টায় নিপুণভাবে মাটির উপর ফুটিয়ে তোলেন ভারতীয় অর্থনীতির অন্যতম স্থপতি মনমোহনকে। সৌরাজ বলছিলেন, ‘আমার মতো সাধারণ মানুষ কীভাবেই বা এরকম এক মহীরুহকে শ্রদ্ধা জানাবে। তাই আমার যে হাতের কাজ তার মাধ্যমেই ওঁর মুখ, চেহারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমি আশা রাখব, কোনও ক্লাব বা সংগঠন এই মূর্তি নিয়ে গিয়ে যোগ্য মর্যাদা দেবে। শ্রদ্ধেয় মনমোহন সিং এবং তার যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ বছরের পর বছর ধরে গেঁথে থাকবে মানুষের মনে।
সৌরাজের গোলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সরিৎ চৌধুরী। মূর্তিটি দেখে থমকে যান তিনি। মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকেন মূর্তিটির দিকে। ঘোর কাটিয়ে বলছিলেন, ‘ছেলেটি অত্যন্ত ভালো কাজ করে জানতাম। সকালবেলা যখন এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছি তখন ও মাটি নিয়ে বসছে দেখেছি। কিন্তু কি বানাবে জানতাম না। আমার ফিরে আসতে বড়জোর তিন থেকে চার ঘন্টা লেগেছে। ততক্ষণে দেখি মূর্তি তৈরির কাজ শেষ।
ভাবা যায়!’ শিল্পীরা আসলে এমনই হয়।
অভাবের পরিবারে এক সময়ে ভাত জুটিয়েছিল ১০০ দিনের কাজ। সেই প্রকল্পের স্রষ্টা ছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং। সেটা সৌরাজ জেনেছিলেন এক প্রতিবেশীর থেকে। সেই মানুষটার মৃত্যুতে বিশেষ শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করাকে কর্তব্য বলে মনে করেন সৌরাজ। তাই আর দেরি করেননি তিনি। মৃত্যুর খবর পেয়েই মাটি নিয়ে গড়তে বসে যান মনমোহনের আবক্ষ মূর্তি। তখন বেলা বারোটা। মাত্র চার ঘন্টায় নিপুণভাবে মাটির উপর ফুটিয়ে তোলেন ভারতীয় অর্থনীতির অন্যতম স্থপতি মনমোহনকে। সৌরাজ বলছিলেন, ‘আমার মতো সাধারণ মানুষ কীভাবেই বা এরকম এক মহীরুহকে শ্রদ্ধা জানাবে। তাই আমার যে হাতের কাজ তার মাধ্যমেই ওঁর মুখ, চেহারা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। আমি আশা রাখব, কোনও ক্লাব বা সংগঠন এই মূর্তি নিয়ে গিয়ে যোগ্য মর্যাদা দেবে। শ্রদ্ধেয় মনমোহন সিং এবং তার যুগান্তকারী কিছু পদক্ষেপ বছরের পর বছর ধরে গেঁথে থাকবে মানুষের মনে।
সৌরাজের গোলার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন সরিৎ চৌধুরী। মূর্তিটি দেখে থমকে যান তিনি। মন্ত্রমুগ্ধের মতো তাকিয়ে থাকেন মূর্তিটির দিকে। ঘোর কাটিয়ে বলছিলেন, ‘ছেলেটি অত্যন্ত ভালো কাজ করে জানতাম। সকালবেলা যখন এই রাস্তা দিয়ে গিয়েছি তখন ও মাটি নিয়ে বসছে দেখেছি। কিন্তু কি বানাবে জানতাম না। আমার ফিরে আসতে বড়জোর তিন থেকে চার ঘন্টা লেগেছে। ততক্ষণে দেখি মূর্তি তৈরির কাজ শেষ।
ভাবা যায়!’ শিল্পীরা আসলে এমনই হয়।



