নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: দিল্লির মতো স্কুল বন্ধের পরিস্থিতি হতে পারে শিল্পাঞ্চলে! দূষণ রোধে সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করে কড়া হুঁশিয়ারি দিলেন জেলাশাসক। দূষণ বিধি মেনেই কারখানাগুলি চালাতে হবে। মঙ্গলবার বৈঠকে বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে বার্তা দিয়েছেন জেলাশাসক। প্রয়োজনে দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যা গাইডলাইন রয়েছে তা আরও কঠোর করতে হবে। দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকদের জেলাশাসক জানিয়েছেন, রাতেও কারখানায় গিয়ে তদন্ত করতে হবে। যদি কোনও কারখানা দূষণ নিয়ন্ত্রণের মেশিন ব্যবহার না করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকায় পাতা পোড়ানো বন্ধ করতে পুরসভাগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়। কয়লা পুড়িয়ে রান্না করা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এসব আলোচনার মাঝেই উঠে আসে, পরিস্থিতি যেদিকে যাচ্ছে দ্রুত দূষণ নিয়ন্ত্রণ না হলে দিল্লির মতো এখানেও স্কুল বন্ধ করার পরিস্থিতি তৈরি হবে। শুধু মানুষ নয়, দূষণের জেরে শিল্পাঞ্চল থেকে মুখ ফেরাচ্ছে পরিযায়ী পাখিরাও। ডিসেম্বর মাস চলছে। এখনও চিত্তরঞ্জনের বিশাল জলাধারগুলিতে বেশি সংখ্যক পাখি আসেনি। দূষণের জন্য পাখিরাও মুখ ফেরাচ্ছে কিনা সেই প্রশ্নও উঠছে।
Advertisement
নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে আসানসোল, দুর্গাপুরের দূষণ সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। টানা কয়েকদিন আসানসোল ও দুর্গাপুরের দূষণ রাজধানী দিল্লির দূষণকেও হার মনিয়েছিল। সর্বস্তরে সমালোচনার ঝড় ওঠে। প্রশাসনিক স্তরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন রানিগঞ্জের তৃণমূল বিধায়ক তাপস বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে সিটুর জেলা সম্পাদক বংশগোপাল চৌধুরী। তড়িঘড়ি সব পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসা হয়। মঙ্গলবার জেলাশাসকের অফিসের এডিডিএ কনফারেন্স হলে সেই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের পাশাপাশি আসানসোল, দুর্গাপুর পুরসভার আধিকারিকদের ডাকা হয়। ডিএসপি, ডিটিপিএস, ইস্কো, ইসিএল সহ একাধিক কেন্দ্রীয় সংস্থাকেও বৈঠকে তলব করা হয়। বৈঠকে হাজির ছিলেন দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের আধিকারিকরা। বৈঠকে আগাগোড়াই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। জেলাশাসক আরটিওকে নির্দেশ দেন, গাড়িগুলি থেকে যে ধোঁয়া বের হচ্ছে তা নজরদারি করতে হবে। সেই প্রসঙ্গেই কারখানা কর্তৃপক্ষ ও ইসিএলকে জানিয়ে দেওয়া হয়, তাদের পরিবহণে ব্যবহার করা গাড়িগুলিকে দূষণ বিধি মানতে হবে। শিল্পাঞ্চলজুড়ে কয়লার উনুন রয়েছে। সস্তার কয়লা জ্বালিয়ে হোটেল ও বাড়িতে রান্না করা হয়। যার ফলে বায়ুদূষণ বেড়েই চলেছে। বড় হোটেলগুলিতে বিশাল কয়লার উনুন দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় ঝরে পড়া পাতা জড়ো করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খোদ আসানসোলের কালিপাহাড়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডেও এই ঘটনা দেখা যায়। জেলাশাসক সেব্যাপারে পুরসভাগুলিকে সতর্ক করেন। পক্ষীপ্রেমীদেরও মুখ ভার। প্রতি বছর শীতে পরিযায়ী পাখি দেখতে চিত্তরঞ্জনে বহু মানুষ ভিড় করেন। শহরের সাতটি বিশাল জলাধার সাতটি লেক নামেই পরিচিত। সেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি আসে। এবার মাত্র একটি জলাশয়ে কিছু পাখি এসেছে।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, কারখানাগুলিতে গিয়ে রাতেও দেখতে হবে তারা দূষণ নিয়ন্ত্রণকারী মেশিন চালাচ্ছে কি না। যানবাহন ও সামগ্রী পরিবহণ, নির্মাণ কাজে যতটা কম সম্ভব ধুলিকণা ওড়ে তার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়মের অন্যথা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, নির্মাণকাজ বা কোনও নির্মাণ ভাঙা হলে তা ঢেকে করতে হবে। যাতে ধুলো বাইরের পরিবেশ দূষিত না করে। এছাড়া কয়লার উনুন না ব্যবহার করা ও পাতা না পোড়ানোর জন্য শহরে মাইকিং করা হবে।
জেলাশাসক পোন্নমবলম এস বলেন, কারখানাগুলিতে গিয়ে রাতেও দেখতে হবে তারা দূষণ নিয়ন্ত্রণকারী মেশিন চালাচ্ছে কি না। যানবাহন ও সামগ্রী পরিবহণ, নির্মাণ কাজে যতটা কম সম্ভব ধুলিকণা ওড়ে তার ব্যবস্থা করতে হবে। নিয়মের অন্যথা হলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্গাপুর পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, নির্মাণকাজ বা কোনও নির্মাণ ভাঙা হলে তা ঢেকে করতে হবে। যাতে ধুলো বাইরের পরিবেশ দূষিত না করে। এছাড়া কয়লার উনুন না ব্যবহার করা ও পাতা না পোড়ানোর জন্য শহরে মাইকিং করা হবে।



