নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কারখানার ভেতরেই ডিএসপি আধিকারিক সমিত ভট্টাচার্যের মৃত্যুর তদন্তে গতি বাড়াল পুলিস। পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্গাপুর থানার পুলিস ইতিমধ্যেই খুনের ধারায় মামলা রুজু করেছে। মঙ্গলবার আধিকারিকের সিটি সেন্টারের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। সমিতবাবুর সঙ্গে কার কার শত্রুতা রয়েছে, কর্মক্ষেত্রে কোনও টানাপোড়েন ছিল কিনা, এই ঘটনার পিছনে তাঁদের কাউকে সন্দেহ হয় কিনা, এসব নিয়ে মৃতের স্ত্রী ও ছেলের সঙ্গে কথা বলেন দুর্গাপুরের এসিপি সুবীর রায়। সঙ্গে ছিলেন সিটি সেন্টার ফাঁড়ির আইসি ও দুর্গাপুর মহিলা থানার ওসি। উল্লেখ্য, আধিকারিকের মৃত্যু রহস্যের কিনারা হওয়ার আগেই ডিএসপির এক শ্রমিকও রহস্যজনক ভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। তাঁর নাম শের বাহাদুর। সোমবার তিনি চণ্ডীদাস বাজারে বাজার করতে গিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি। পুলিস তাঁর নিখোঁজ হওয়ারও তদন্ত শুরু করেছে। ডিসি অভিষেক গুপ্তা বলেন, খুনের ধারা যুক্ত করে আমরা তদন্ত করছি। এদিন পরিবারের লোকের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ কর্মীর খোঁজ চলছে।
Advertisement
২৭ অক্টোবর দুপুর এগারোটা নাগাদ নিখোঁজ হয়ে যান ডিএসপির র মেটেরিয়ার হ্যাডেলিং প্ল্যান্টের জিএম সমিত ভট্টাচার্য। দুপুরে অফিসে কাজে আসার পর তাঁর গায়েব হয়ে যাওয়া নিয়ে চূড়ান্ত চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। পুলিস কুকুর এনেও তাঁর হদিশ মেলেনি। পরে ১৬ ঘণ্টা পর একটি লিফটের নীচ থেকে দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের পরিবার খুনের অভিযোগ তুলে কোনও মেডিক্যাল কলেজ থেকে ময়নাতদন্ত করানোর দাবি জানায়। সেই মতো পুলিস দেহ ম্যাজিস্ট্রেট দিয়ে ইনকোয়েস্ট করিয়ে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। সোমবার হঠাৎ একটি সূত্র থেকে দাবি ওঠে, ময়নাতদন্তে প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে। তারপরই মঙ্গলবার মৃতের পরিবারের সঙ্গে উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা দেখা করায় সেই জল্পনা আরও বাড়ে। যদিও পুলিসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে, সমিত ভট্টাচার্যর মৃত্যুর পর পরিবারের লোকজন তাঁর দেহ নিয়ে তাঁদের আদি বাড়ি কলকাতায় চলে যান। শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করার পর সোমবারই তাঁরা দুর্গাপুরে ফিরেছেন। তাই এদিন বাড়ি গিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথাবার্তা বলা হয়েছে। সাম্প্রতিককালে ডিএসপির একাধিক বেনিয়ম সামনে এসেছে। পেনশনারদের টাকা তছরুপের অভিযোগে দুজন আধিকারিক পুলিসের হাতে গ্রেপ্তারও হয়েছে। সমিতবাবু যেহেতু র মেটিরিয়াল বিভাগের প্রধান ছিলেন, তাই এই মৃত্যুর পিছনেও কোনও অসাধু চক্র রয়েছে কিনা তা নিয়ে দুর্গাপুরজুড়ে চর্চা চলছে। অন্যদিকে সোমবার থেকে ডিএসপি কর্মীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় স্টিল সিটিতে আরও চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। তিনি মার্কনি অ্যাভেনিউতেই থাকেন। কোয়ার্টারে স্ত্রী থাকেন, বাকি পরিবার নেপালে থাকেন। তিনি লটারি কাটতেন নিয়মিত। তাঁর নিখোঁজ হওয়ার পিছনে কোনও রহস্য আছে কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিস।



