Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাঠের পেরেক খুঁজতে লাঠির ডগায় চুম্বক বেঁধে হাজির প্রশাসনের লোকজন

মাঠের পেরেক খুঁজতে লাঠির ডগায় চুম্বক বেঁধে হাজির প্রশাসনের লোকজন
  • ১১ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: বর্তমানের খবরের জেরে শুক্রবার সকাল থেকেই বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের মাঠে পেরেক খুঁজতে ম্যাগনেট দিয়ে চিরুনি তল্লাশি শুরু করল মহকুমা প্রশাসন। প্রশাসনের নির্দেশে এদিন তিনজন শ্রমিক তিনটি চুম্বক বাঁশের লাঠিতে বেঁধে মাঠে নামেন। পুলিস কর্মীরা মেটাল ডিটেক্টর দিয়ে যেমন বোমা খোঁজেন সেরকমই তাঁরা মাঠজুড়ে চুম্বক ঘুরিয়ে পেরেক তোলার কাজ করেন। তা দেখতে অনেকেই ভিড় জমান। প্রশাসনের ওই উদ্যোগকে তাঁরা স্বাগত জানিয়েছেন। বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক প্রসেনজিৎ ঘোষ বলেন, বিষ্ণুপুর হাইস্কুলের একটি মাঠে সবলা মেলার শতাধিক স্টল হয়েছিল। মেলা শেষে স্টল খোলার সময়ে মাঠেই পেরেক ফেলে যায়। ওই মাঠে অনেকেই খেলাধুলো করেন। শিশুরাও সেখানে খেলতে আসে। তাঁদের পায়ে পেরেক ফোটার খবর পেয়ে এদিন ম্যাগনেট ব্যবহার করে মাঠ থেকে পেরেক তোলার ব্যবস্থা করা হয়।    প্রসঙ্গত, গত ২৯ ডিসেম্বর বিষ্ণুপুর মেলা শেষ হয়। পরের দিনই মেলার সমস্ত স্টল উঠে যায়। কিন্তু মাঠজুড়ে পড়ে থাকে হাজার হাজার পেরেক। মেলা শেষ হওয়ার পরের দিনই পুরসভা থেকে মেলায় জমে থাকা আবর্জনা তুলে ফেলা হয়। ঝাড়ু দিয়ে পরিষ্কারও করা হয়। পেরেক তোলা হয়নি। এদিকে ওই মাঠে অনেকেই নিয়মিত খেলতে আসেন, হাঁটতে আসেন। তাঁদের অনেকেই পায়ে পেরেক ফুটে জখম হচ্ছিলেন। কয়েকজন যুবক পরিস্থিতি দেখে নিজেরাই হাতে করে পেরেক কুড়িয়ে ফেলছিলেন। কিন্তু মাঠের ধুলোবালির মধ্যে মিশে থাকা হাজার হাজার পেরেক খুঁজে বের করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।  তা নিয়েই শুক্রবার বর্তমান পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। এরপরেই মহকুমা প্রশাসন চড়েচড়ে বসে। এবং তৎক্ষণাৎ তিনজন কর্মীকে ম্যাগনেট দিয়ে মাঠে পাঠানো হয়। তাঁরা বাঁশের লাঠিতে লাউড স্পিকারের চুম্বক বেঁধে মাঠে নামেন। মেটাল ডিটেক্টরের মতো চুম্বক ঘোরাতেই শ’য়ে শ’য়ে পেরেক তাতে আটকে যায়। এবং ওইসব পেরেক তাঁরা নির্দিষ্ট জায়গায় জমা করেন। পরে তা পুরসভার সাফাই গাড়িতে করে বাইরে নিয়ে যাওয়ায় হয়। ওই মাঠে নিয়মিত খেলতে আসা বিজয় মাঝি বলেন, মেলা শেষ হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঠ পরিষ্কার করা হয়েছে দেখে আমরা খেলতে নামি।  কিন্তু দৌড়নোর সময় অনেকের পায়ে পেরেক ফুটে যায়। প্রথমে আমরা কয়েকজন মিলে যতটা সম্ভব পেরেক খুঁজে খুঁজে ফেলেছি। কিন্তু ধুলোবালির মধ্যে মিশে থাকা সমস্ত পেরেক তুলে ফেলা সম্ভব হয়নি। এদিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে ম্যাগনেট ব্যবহার করে পেরেক তোলা হয়। এতে আমরা খুশি।      
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ