Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাঠেই পড়ে ধান, গোয়ালেই রইল গবাদি পশু জিনাতের আতঙ্কে অনিদ্রার রাত বান্দোয়ানে

মাঠেই পড়ে ধান, গোয়ালেই রইল গবাদি পশু জিনাতের আতঙ্কে অনিদ্রার রাত বান্দোয়ানে
  • ২৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বান্দোয়ান: মাঠেই পড়ে থাকল ধান। গোয়াল, খোঁয়ারেই রইল গোরু, মোষ, ছাগল। বাঘের আতঙ্কে সোমবার মাঠে ধান তুলতে গেলেন না রাইকার জঙ্গল লাগোয়া এলাকার বাসিন্দারা। বাঘিনির পেটে চলে যাওয়ার আশঙ্কায় তাঁরা মাঠে গবাদি পশু চরাতেও নিয়ে গেলেন না। 
Advertisement
রবিবার বান্দোয়ানের রাইকার জঙ্গলে বাঘিনির উপস্থিতির খবর পেতেই জঙ্গল লাগোয়া এলাকার গ্রামগুলিতে সতর্কতা জারি করেছে বনদপ্তর। রবিবার থেকেই শুরু হয় মাইকিং। সোমবারও মাইকিং করেছে বনদপ্তর। পাশাপাশি, পুলিসের তরফেও বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের অনুরোধ করা হচ্ছে, যাতে তাঁরা অহেতুক বাড়ির বাইরে বের না হন। বাসিন্দাদের মাঠে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। জঙ্গলে কাঠ পাতা কুড়াতে, গবাদি পশু চড়াতে যেতে নিষেধ করা হয়েছে। বাসিন্দারাও নিষেধাজ্ঞা মেনে চলছেন। 
বনদপ্তর সূত্রের খবর, রাইকার জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় কেশরা, বারুডি, উদলবনি, লেদাশাল, রাহামদা সহ একাধিক গ্রাম রয়েছে। গ্রামগুলিতে অধিকাংশই আদিবাসী মানুষের বসবাস। বারুডির বাসিন্দা মালাবতী মুর্মু, কেশরার তিলগা মুর্মু বললেন, পাছে গবাদি পশু বাঘিনির পেটে যায়, তাই আমরা গবাদি পশু জঙ্গলে পাঠাচ্ছি না। গোয়ালে, গাছ তলায় রেখেই পরিচর্যা করতে হচ্ছে। আর তো কোনও উপায় নেই। 
তবে বাসিন্দারা বেশি সমস্যায় পড়েছেন মাঠের ধান তুলতে না পেরে। বাসিন্দাদের দাবি, বর্তমানে মাঠ থেকে ধান তোলা ও ঝাড়াইয়ের কাজ চলছে। কিন্তু রবিবার থেকে তাঁদের সেই কাজে বাধা পড়েছে। কারণ জিনাত ঘাঁটি গেড়েছে রাইকার জঙ্গলে। সে কবে ধরা পড়বে সেব্যাপারে নিশ্চয়তা দিতে পারছে না বনদপ্তরের আধিকারিকরা। রাইকার জঙ্গল ছেড়ে অন্যত্র যাবে কি না সেই ব্যাপারেও কিছু বলতে পারছেন না আধিকারিকরা। ফলে, কতদিন এভাবে ধান মাঠে পড়ে থাকবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি হয়েছে বাসিন্দাদের।
উদলবনীর তপন মাণ্ডি, বারুডির গুরুপদ টুডু বলেন, ধান তোলা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। বনদপ্তরের আধিকারিকরা জঙ্গলে যেতে দিচ্ছেন না। পুরুলিয়ার ডিএফও বলেন, বাঘিনিকে ধরার সবরকম চেষ্টাই আমরা করছি। বাসিন্দাদের অহেতুক আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেব। 
কংসবতী দক্ষিণের ডিএফও পূরবী মাহাত বলেন, কেউ যাতে জঙ্গলে প্রবেশ না করে তারজন্য কড়া নজরদারি রয়েছে বনদপ্তরের। প্রতি বিট অফিসার, রেঞ্জ অফিসারের নেতৃত্বে একাধিক পয়েন্টে বনকর্মীদের মোতায়েন করা হয়েছে। রাতে পাহারা আরও জোরদার করা হচ্ছে। বাসিন্দাদের নিরাপত্তার পাশাপাশি বাঘের নিরাপত্তাও আমাদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটুক, আমরা চাইছি না। 
জেলার পুলিস সুপার অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ওড়িশা সিমলিপাল থেকে বনদপ্তরের আধিকারিকরা এসেছেন। আমরা তাঁদের সবরকম সহযোগিতা করছি। পাশাপাশি বাসিন্দাদের নিরাপত্তার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
সম্পর্কিত সংবাদ