Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাথাভাঙায় তৃণমূল যুব নেতার এপিক নম্বরে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দার নাম

মাথাভাঙায় তৃণমূল যুব নেতার এপিক নম্বরে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দার নাম
  • ১ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, মাথাভাঙা ও শীতলকুচি: ভোটার তালিকায় অনিয়ম ঘিরে ব্যাপক আলোড়ন শুরু হয়েছে মাথাভাঙা মহকুমায়। খোদ তৃণমূল নেতার এপিক নম্বরেই উত্তরপ্রদেশের এক ব্যক্তির নাম দেখা যাচ্ছে। আবার, পরিবার নিয়ে বাংলাদেশে চলে গেলেও ভোটার তালিকায় থেকে গিয়েছে নাম। শীতলকুচিতে এমনই পাঁচ ভূতুড়ে ভোটারের অস্তিত্ব মিলেছে। 
Advertisement
মাথাভাঙা-২ ব্লকের তৃণমূল যুব কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি ধনিরাম বর্মনের নামের এপিক নম্বরে বড় অসঙ্গতি দেখা দিয়েছে। ধনিরামের বাড়ি বড় শৌলমারিতে। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোটার তালিকা নিয়ে সর্তক করার পরই দলের কোচবিহার জেলা সভাপতি অভিজিৎ দে ভৌমিক ফুলবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার বাসিন্দা আরতি সরকারের এপিক নম্বর নিয়ে অসঙ্গতি সামনে আনেন। সাধারণ ভোটার নন, খোদ টিএমওয়াইসি নেতার নামে এমনটা হওয়ায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে।  অভিজিৎবাবু বলেন, ভিনরাজ্যের বিএলআরও’দের দিয়েই এখানকার এপিক নম্বরে ভোটার কার্ড ইস্যু হচ্ছে। ওখানে অভিযোগ জানিয়ে এখানকার ভোটারদের নাম বাতিল করা হবে। প্রতিটি বুথে ১০ জনের নাম বাতিল করলে ৩০০ বুথ বিশিষ্ট বিধানসভা এলাকায় তিন হাজার ভোটার দিতে পারবেন না ভোটই। 
এনিয়ে ধনিরামবাবু বলেন, আমি বড় শৌলমারির বাসিন্দা। আমার বুথ পূর্ব মুকুলডাঙা-১ নম্বর গভর্নমেন্ট প্রাইমারি স্কুল। কিন্তু আমার এপিক নম্বরে উত্তরপ্রদেশের দিদারগঞ্জের জনৈক জনার্দনকে দেখাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী বলার পর অনলাইনে এপিক নম্বর চেক করতে গিয়ে বিষয়টি দেখি। এসবই বিজেপির ষড়যন্ত্র। যদিও এ নিয়ে তাঁদের কোনও ভূমিকা নেই বলেই দাবি বিজেপির মাথাভাঙার বিধায়ক সুশীল বর্মনের। তিনি বলেন, তৃণমূল বুঝতে পারছে ভোটে জিততে পারবে না। তাই ভিত্তিহীন অভিযোগ করছে। 
শীতলকুচি ব্লকের বড় কৈমারি পঞ্চায়েতের নলগ্রামের ১৬৩ নম্বর অংশে পাঁচ ভুয়ো ভোটারের অস্তিত্ব মিলেছে। এদেশের ভোটার তালিকায় নাম থাকা সফিকুল মিয়াঁ বাংলাদেশের বাসিন্দা। সফিকুলের ভাইপো মহাবুল হোসেন বলেন, জন্মসূত্রে কাকু ভারতের বাসিন্দা। পড়াশোনা শেষে ছিটমহল বিনিময়ের আগেই বাংলাদেশে চলে যান। সেখানে চাকরি পেলে বাবা-মা ও ভাইকেও নিয়ে গিয়েছেন। এখন বাংলাদেশেরই বাসিন্দা। আমরা ভোটার তালিকা থেকে নাম কাটার আবেদন করেছিলাম, কিন্তু নাম কাটেনি। অপরদিকে, ভোটার তালিকায় থাকা একই পরিবারের নাজির হোসেন, নাজিরা বিবি, রুহুল আমিন মিয়াঁ, সোহেল রানা মিয়াঁ বেশ কয়েক বছর আগেই বাংলাদেশে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। কয়েকবছর কেটে গেলেও এখানকার ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম কী করে রয়েছে সেবিষয়ে প্রশ্ন উঠছে। গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য কবির হোসেন বলেন, ওই পাঁচজনই বাংলাদেশে থাকেন। নতুন ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম এখনও রয়েছে। এনিয়ে গ্রামের বিএলও’র কাছে রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছে প্রশাসন। বিএলও রবিউল মিয়াঁ জানান, তাঁদের আত্মীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। কেউ জানিয়েছেন তাঁরা কাজের সূত্রে বাইরে থাকেন। আবার কেউ বলেছেন তাঁরা বাংলাদেশের বাসিন্দা। এঁরা ঠিক কোথাকার বাসিন্দা সেবিষয়ে ধন্দ থাকায় নাম কাটা হয়নি। শীতলকুচির বিডিও সোফিয়া আব্বাস বলেন, খোঁজ নিয়ে গ্রামের বিএলও’কে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ