Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাথাভাঙা মহকুমাজুড়ে বিভিন্ন নদীর ভাঙন সমস্যা ভাবাচ্ছে সেচদপ্তরকে

মাথাভাঙা মহকুমাজুড়ে বিভিন্ন নদীর ভাঙন সমস্যা ভাবাচ্ছে সেচদপ্তরকে
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, মাথাভাঙা: ভাঙন প্রবণ এলাকায় পাড়বাঁধ নির্মাণের জন্য মাথাভাঙা মহকুমা সেচদপ্তর রাজ্যে প্ল্যান এস্টিমেট পাঠিয়েছে। অথচ গত একবছরে কোনও বরাদ্দই আসেনি। ইতিমধ্যে কিছু ভাঙন প্রবণ এলাকার জন্য নতুন প্ল্যান এস্টিমেট তৈরির কাজ চলছে। কিন্তু আদৌ এই বছরে বাঁধ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ মিলবে কি না, তা নিয়ে আধিকারিকরা সংশয়ে পড়েছেন। শুখা মরশুম শুরু হওয়ার পরও বরাদ্দ না মেলায় চিন্তায় আধিকারিকরা। এই মরশুমে বাঁধ নির্মাণ না হলে আগামী বর্ষায় ঘোর বিপদে পড়তে হবে নদী পারের বাসিন্দাদের। 
Advertisement
সেচদপ্তর সূত্রে খবর, প্রায় সাড়ে সাত কিমি পাড়বাঁধের জন্য প্রায় সাড়ে পঁয়ত্রিশ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে পাঠানো হয়েছে। এবছরের শুরুতে সিতাই ব্লকের ব্রহ্মোত্তরচাত্রা গ্রামে সিঙিমারি নদীর ২৭০০মিটার ভাঙনপ্রবণ এলাকার জন্য প্ল্যান এস্টিমেট পাঠানো হয়েছে। মাথাভাঙা-১ ব্লকের জোরপাটকি গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার পানাগুড়ি, নগর গোপালগঞ্জ ধরলা ও মানসাই নদীর ভাঙনপ্রবণ দুই কিমি এলাকায় পাড়বাঁধ তৈরির এস্টিমেট পাঠানো হয়েছে। এছাড়াও নিশিগঞ্জ-২ গ্রামপঞ্চায়েতের কোদালধোঁয় ও গোপালপুর গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার ধানধুনিয়ায় প্রায় এক কিমি বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা হয়েছে। মাথাভাঙা শহর সংলগ্ন হাজরাহাট-২ গ্রামপঞ্চায়েত এলাকার পূর্বখাটেরবাড়ি এলাকায় ২২৫মিটার পাড়বাঁধ তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। শীতলকুচি ব্লকের মহিষমুড়ি গ্রামের সীমান্তবর্তী শালবাড়ি এলাকায় ১৪০০মিটার, বড় খলিসামারিতে ৮৭৫মিটার, ভুরঙ্গামারি ৪০০মিটার এবং হাজরাহাট-২ গ্রামপঞ্চায়েতের আমবাড়িতে ৭০০মিটার বাঁধের জন্য প্ল্যান এস্টিমেট তৈরি চলছে।
মাথাভাঙা মহকুমা সহ পাশ্ববর্তী সিতাই ব্লকের একাধিক নদী বয়ে গিয়েছে। প্রতিবছর বর্ষা সহ শুকনো মরশুমেও নদীভাঙনে চরম সমস্যায় পড়েন নদী তীরবর্তী মানুষজন। প্রতিবছর প্রচুর চাষের জমি নদীগর্ভে চলে যায়। ভিটেছাড়া হতে হয় অনেককে। একাধিক এলাকায় পাড়বাঁধ তৈরির দাবি থাকলেও অতি ভাঙন প্রবণ এলাকায় পাড়বাঁধের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী প্ল্যান এস্টিমেট করে পাড়বাঁধ তৈরির প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বাকি ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোর জন্যও প্ল্যান এস্টিমেট তৈরি চলছে।
এব্যাপারে মাথাভাঙা সেচদপ্তরের বাস্তুকার শ্রীবাস ঘোষ বলেন, আমরা ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলো পরিদর্শন করেছি। জরুরিভিত্তিতে কয়েকটি জায়গায় পাড়বাঁধ তৈরি করা দরকার। সেগুলোর প্ল্যান এস্টিমেট করে পাঠানো হয়েছিল। এখনও কোনও বরাদ্দ আমরা পাইনি। আশা করছি, দ্রুত বরাদ্দ এসে যাবে। এবারের শুখা মরশুমে এই পাড়বাঁধ তৈরির কাজ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে রয়েছি। বাকি এলাকাগুলোর জন্য আমরা প্ল্যান এস্টিমেট তৈরি শুরু করেছি। প্রথম ধাপের কাজ শেষ হলে এই এস্টিমেটড পাঠানো হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ