নয়াদিল্লি ও পাটনা: ফুটব্রিজের সিঁড়ি পেরিয়ে ট্রেনে উঠতে পারলেই পৌঁছে যেতে পারতেন পূর্ণকুম্ভে। কিন্তু শনিবার রাতে নিউদিল্লি স্টেশনে পদপিষ্ট হয়ে ১৮ জনের মৃত্যুর পর বদলে গিয়েছে অনেকের জীবনই। কেউ হারিয়েছেন প্রিয়জনকে। কেউ কোনওমতে সেই অস্বাভাবিক ভিড় থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। আতঙ্ক এখনও তাড়া করছে সকলকে।
Advertisement
ওই রাতে সাত বছরের মেয়ে রিয়াকে হারিয়েছেন ওপিল সিং। পরিবারকে নিয়ে কুম্ভে যাচ্ছিলেন। জনস্রোতের মধ্যে কীভাবে মেয়ের মাথায় লোহার রড ঢুকে গেল, তা এখনও বুঝেই উঠতে পারছেন না। ওই অস্বাভাবিক ভিড় ঠেলেই মেয়েকে অটোরিকশতে চাপিয়ে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন ওপিল। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। মেয়ের মৃত্যুর জন্য রেল ও প্রশাসনের ব্যর্থতাকেই দায়ী করছেন তিনি। কান্নায় ভেঙে পড়ে ওপিল জানান, প্ল্যাটফর্মে যেভাবে হাজারে হাজারে মানুষ দাঁড়িয়েছিলেন, তাতে যে কোনও সময়ই দুর্ঘটনা ঘটত।
দিদি পিঙ্কি দেবীকে দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন সঞ্জয়। তিনি জানান, পরিবারের ১২ জন কুম্ভে যাওয়ার ট্রেনে উঠতে নয়াদিল্লি স্টেশনে এসেছিলেন। ফুটব্রিজ দিয়ে যখন ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামছিলেন, তখনই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সঞ্জয়ের ১১ বছরের মেয়েও কার্যত চাপা পড়ে গিয়েছিল। কোনওমতে তাকে বাঁচাতে সক্ষম হন সঞ্জয়। তবে দিদিকে আর রক্ষা করতে পারেননি। এলএনজেপি হাসপাতালের বাইরে কোনওমতে পিলারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিকরি এলাকার বাসিন্দা মনোজ শাহ। পদপিষ্টের ঘটনা কেড়ে নিয়েছে বাবা-মা ও মেয়ে সুরুচিকে। পরের মাসেই ১২ বছরে পা দিত সুরুচি। তার আগে ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে কুম্ভে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার কথা মনোজকে জানান তাঁর ভাই। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই সব শেষ। দুর্ঘটনার জন্য পরিকল্পনার অভাবকেই দায়ী করছেন পেশায় গাড়িচালক মনোজ। তাঁর থেকে একটু দূরেই দাঁড়িয়েছিলেন কবিতা সেহগাল। তাঁর আত্মীয় সঙ্গীতা মল্লিক প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার দিন মগধ এক্সপ্রেসে নিউদিল্লি স্টেশন থেকে পাটনায় ফিরছিলেন প্রভাসকুমার রামন। ট্রেন থেকে নেমে প্রভাস বলেন, ‘প্ল্যাটফর্মে প্রচুর মানুষ দাঁড়িয়েছিল। প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্য মেলেনি। কোনও পুলিসকর্মীকে দেখতে পাইনি। মানুষ কোনওমতে দাঁড়ানোর জন্য একে অপরকে ঠেলছিল।’ আর এক প্রত্যক্ষদর্শী হাসিবুর রহমান জানান, ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার সিঁড়ি বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেক পরে সিঁড়িগুলি খুলে দেওয়া হয়। সবাই সিঁড়ি দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল। আর তাতেই একজন অন্যজনের উপর পড়ে যেতে শুরু করে। আমি অন্তত ১০-১২টি দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি।’
দিদি পিঙ্কি দেবীকে দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন সঞ্জয়। তিনি জানান, পরিবারের ১২ জন কুম্ভে যাওয়ার ট্রেনে উঠতে নয়াদিল্লি স্টেশনে এসেছিলেন। ফুটব্রিজ দিয়ে যখন ১৪ নম্বর প্ল্যাটফর্মে নামছিলেন, তখনই হুড়োহুড়ি শুরু হয়। সঞ্জয়ের ১১ বছরের মেয়েও কার্যত চাপা পড়ে গিয়েছিল। কোনওমতে তাকে বাঁচাতে সক্ষম হন সঞ্জয়। তবে দিদিকে আর রক্ষা করতে পারেননি। এলএনজেপি হাসপাতালের বাইরে কোনওমতে পিলারে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলেন তিকরি এলাকার বাসিন্দা মনোজ শাহ। পদপিষ্টের ঘটনা কেড়ে নিয়েছে বাবা-মা ও মেয়ে সুরুচিকে। পরের মাসেই ১২ বছরে পা দিত সুরুচি। তার আগে ঠাকুরদা-ঠাকুমার সঙ্গে কুম্ভে যাচ্ছিল। দুর্ঘটনার কথা মনোজকে জানান তাঁর ভাই। হাসপাতালে যাওয়ার আগেই সব শেষ। দুর্ঘটনার জন্য পরিকল্পনার অভাবকেই দায়ী করছেন পেশায় গাড়িচালক মনোজ। তাঁর থেকে একটু দূরেই দাঁড়িয়েছিলেন কবিতা সেহগাল। তাঁর আত্মীয় সঙ্গীতা মল্লিক প্রাণ হারিয়েছেন।
দুর্ঘটনার দিন মগধ এক্সপ্রেসে নিউদিল্লি স্টেশন থেকে পাটনায় ফিরছিলেন প্রভাসকুমার রামন। ট্রেন থেকে নেমে প্রভাস বলেন, ‘প্ল্যাটফর্মে প্রচুর মানুষ দাঁড়িয়েছিল। প্রশাসনের তরফে কোনও সাহায্য মেলেনি। কোনও পুলিসকর্মীকে দেখতে পাইনি। মানুষ কোনওমতে দাঁড়ানোর জন্য একে অপরকে ঠেলছিল।’ আর এক প্রত্যক্ষদর্শী হাসিবুর রহমান জানান, ১৪ ও ১৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাওয়ার সিঁড়ি বন্ধ করে দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। অনেক পরে সিঁড়িগুলি খুলে দেওয়া হয়। সবাই সিঁড়ি দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছিল। আর তাতেই একজন অন্যজনের উপর পড়ে যেতে শুরু করে। আমি অন্তত ১০-১২টি দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি।’



