সংবাদদাতা, বোলপুর: দূর থেকে শুনে মনে হতে পারে কোনও পণ্ডিত গীতাপাঠ করে চলেছেন। কিন্তু না তিনি পণ্ডিত, না ব্রাহ্মণ। একজন ফেরিওয়ালা। রাস্তায় কাপড় ফেরি করতে করতে গীতার শ্লোক আওড়াচ্ছেন। কীর্ণাহার গেলেই দেখা পাওয়া যাবে রাজীব সিংহের। ছাপোষা পরিবারের সন্তান। পেশায় কাপড়ের ফেরিওয়ালা। ভালোবাসেন গীতা পাঠ করতে। গীতার মর্মার্থ হিন্দুদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতেই এই উদ্যোগ তাঁর। গত ন’ বছর ধরে তিনি ফেরি করার পাশাপাশি মানুষের মধ্যে হিন্দুধর্মের বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন। লক্ষ্য একটাই, হিন্দু ধর্মের প্রচার ও প্রসার। তার এই কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
Advertisement
রাজীব সিংহের বাড়ি কীর্নাহার থানার দাসকলগ্রাম-কড়েয়া দু’ নম্বর পঞ্চায়েতের দেবগ্রাম সংলগ্ন আনাইপুরে। তিনি স্থানীয় যুবুটিয়া জপেশ্বর বিদ্যামন্দির থেকে দশম শ্রেণি অবধি পড়েছেন। দারিদ্রের কারণে কাপড় ফেরি করার পেশা বেছে নেন। ১৩ বছর ধরে কীর্ণাহার পার্শ্ববর্তী কড়েয়া, শিবনগর, গোমাই, চারকলগ্রাম, খালা প্রভৃতি গ্রামে কাপড় ফেরি করে সংসার চালাচ্ছেন। রাজীব বরাবরই ধার্মিক। প্রতিবেশী দাদু, পেশায় শিক্ষক নন্দদুলাল রায়ের দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়ে গীতাপাঠ শুরু করেন। ধীরে ধীরে শ্রীকৃষ্ণের ভক্ত হয়ে ওঠেন। জীবিকা নির্বাহের পাশাপাশি যখনই সুযোগ পেতেন গীতাপাঠ করতেন। যা ক্রমে অভ্যাসে দাঁড়ায়। এরপর ব্যবসার ফাঁকেও গুনগুন করে শ্লোক আওড়াতে শুরু করেন। যা দেখে অনেকেই কৌতূহলী হন। শ্লোক শুনতে উৎসাহী ক্রেতাদের গীতার বিভিন্ন শ্লোক ও তার সারমর্ম বোঝাতে শুরু করেন রাজীব। গীতায় ১৮টি অধ্যায়ে ৭০০ শ্লোক রয়েছে। সেগুলি তিনি অনর্গল বলতে পারেন। তাঁর বাড়িতে রয়েছেন বাবা বিপদতারণ সিংহ, মা রানু সিংহ ও স্ত্রী নিবেদিতা সিংহ। তাঁর দুই কন্যা অষ্টম ও দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। ধর্মের বাণী প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শ্রেয়ান স্বধর্মো বিগুণঃ পরধর্মাৎ স্বনুষ্ঠিতাৎ স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়ঃ পরধর্মো ভয়াবহঃ’। অর্থাৎ ‘পরধর্ম যদি ভালোভাবে অনুষ্ঠিত হয় তাহলেও তার চেয়ে নিজের ধর্ম ভালো। নিজের ধর্মে মৃত্যুও শ্রেয়, কিন্তু পরধর্ম ভয়াবহ।’ আধুনিক যুবসমাজের সোশ্যাল মিডিয়ায় আসক্তি তাঁকে যন্ত্রণা দেয়। তিনি বলেন, ‘ব্যভিচার, আসক্তি থেকে মুক্তি পেতে প্রত্যেকের গীতাপাঠ করা উচিত। গীতাপাঠ করলে জীবনের আসল উদ্দেশ্য বোঝা যাবে।



