সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: অবৈধ নির্মাণের রমরমা বাড়লেও বর্ধমান শহরের অধিকাংশ কাউন্সিলারই কিছু বলছেন না। যাকে বলে, ‘স্পিকটি নট’ । তাঁদের এই ‘মৌনব্রতে’র পিছনে গভীর রহস্য রয়েছে বলে দাবি শহরবাসীর। হাতে গোনা দু’চারজন বাদ দিলে অধিকাংশ কাউন্সিলারেরই জীবনযাত্রা বদলে গিয়েছে। তাঁদের অর্থনৈতিক পরবর্তনও নজরকাড়ার মতো। দামি চারচাকা গাড়ি, আইফোন, নামী ব্র্যান্ডের পোশাক-জুতো, কী নেই তাঁদের কাছে। ওয়ার্ডে কে কত দামে জমি বিক্রি করবে বা বহুতলের কটা তলা হবে, সেটা তাঁরাই ঠিক করেন। শহরের অনেকেই বলছেন, বেশিরভাগ কাউন্সিলার কোথায় বহুতল হচ্ছে সেই দিকেই নজর দেন। তাই রাস্তার দিকে দৃষ্টি পড়ে না। সেই কারণে শহরের অধিকাংশ রাস্তাই চলাচলের অযোগ্য হয়ে গেলেও জনপ্রতিনিধিদের কোনও হেলদোল নেই।
Advertisement
প্রোমোটারদের মাথার উপর বেশ কয়েকজন কাউন্সিলারের হাত থাকার কারণেই তাঁরা কাউকে তোয়াক্কা করেন না। বিল্ডিং তৈরির জন্য অনুমতি না থাকায় পুরসভা মোটা অঙ্কের টাকা রাজস্ব হারাচ্ছে। তাতে সরকারের ক্ষতি হলেও তাঁদের পকেট ভারী হচ্ছে। বেশ কয়েকজন খাতায়-কলমে নিজেদের ব্যবসা আছে বলে দেখিয়ে রেখেছেন। কিন্তু, বাস্তবে তার অস্তিত্ব চোখে পড়ে না। তারপরও উল্কার গতিতে আর্থিকভাবে তাঁদের উত্থান হয়েছে।
শহরের এক বাসিন্দা বলেন, বাইরে থেকে এসে কেউ সরাসারি মালিকের সঙ্গে কথা বলে জমি বা বাড়ি কিনেছেন, এমন নমুনা কম রয়েছে। হাজির হয়ে যায় দালালরা। তাদের দু’শতাংশ কমিশন দেওয়ার পর মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলে। বাড়ি তৈরি করলে ইমারতি সামগ্রী তাদের লোকজনদের কাছ থেকেই নিতে হয়। এমনকী, কোন মিস্ত্রি কাজ করবেন, সেটাও অনেক সময় তারা ঠিক করে দেয়। এই দালালরাও প্রোমোটারদেরও ঘনিষ্ঠ।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, এমনটা বর্ধমানে আগে ছিল না। কলকাতা, নিউটাউন বা রাজারহাটে সিন্ডিকেটরাজ চলত বলে আমরা খবরে পড়তাম। এখন আমাদের শহরেই তা দেখা যাচ্ছে। এটা সত্যিই লজ্জার। কারণ বর্ধমান রাজ্যের অন্যান্য শহরগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই শহরের আলাদা সংস্কৃতি ছিল। এখানকার পরিবেশও ভালো ছিল। এখন সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। এজন্য শাসকদলই দায়ী। বিরোধীদের দাবি, অবৈধ নির্মাণ হলে সবার আগে এলাকার কাউন্সিলারদের প্রতিবাদ করা দরকার। তাঁদের অধিকাংশই অবৈধ কাজে বাধা না দিয়ে মদত দিচ্ছেন। তবে, একেবারেই বাধা দেওয়া হচ্ছে না, এমনটা নয়। যাঁরা বাঁধা দিচ্ছেন তাঁদের অনেকেরই রফা পছন্দ না হওয়ায় নোটিস পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তারপর সব মিটে যাচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, আমাদের দল কখনই অন্যায় কাজ সমর্থন করে না। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অন্যায় করতে পারে। তার দায় দলের নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানালে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ কাজ নিয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করতে চান। কিন্তু, কয়েকজন কাউন্সিলার অত্যন্ত বেপরোয়া। তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই বিপদ। সেকারণে শহরবাসীকে অনেক অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে। (চলবে)
শহরের এক বাসিন্দা বলেন, বাইরে থেকে এসে কেউ সরাসারি মালিকের সঙ্গে কথা বলে জমি বা বাড়ি কিনেছেন, এমন নমুনা কম রয়েছে। হাজির হয়ে যায় দালালরা। তাদের দু’শতাংশ কমিশন দেওয়ার পর মাথা গোঁজার ঠাঁই মেলে। বাড়ি তৈরি করলে ইমারতি সামগ্রী তাদের লোকজনদের কাছ থেকেই নিতে হয়। এমনকী, কোন মিস্ত্রি কাজ করবেন, সেটাও অনেক সময় তারা ঠিক করে দেয়। এই দালালরাও প্রোমোটারদেরও ঘনিষ্ঠ।
বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, এমনটা বর্ধমানে আগে ছিল না। কলকাতা, নিউটাউন বা রাজারহাটে সিন্ডিকেটরাজ চলত বলে আমরা খবরে পড়তাম। এখন আমাদের শহরেই তা দেখা যাচ্ছে। এটা সত্যিই লজ্জার। কারণ বর্ধমান রাজ্যের অন্যান্য শহরগুলির থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। এই শহরের আলাদা সংস্কৃতি ছিল। এখানকার পরিবেশও ভালো ছিল। এখন সবকিছুই বদলে যাচ্ছে। এজন্য শাসকদলই দায়ী। বিরোধীদের দাবি, অবৈধ নির্মাণ হলে সবার আগে এলাকার কাউন্সিলারদের প্রতিবাদ করা দরকার। তাঁদের অধিকাংশই অবৈধ কাজে বাধা না দিয়ে মদত দিচ্ছেন। তবে, একেবারেই বাধা দেওয়া হচ্ছে না, এমনটা নয়। যাঁরা বাঁধা দিচ্ছেন তাঁদের অনেকেরই রফা পছন্দ না হওয়ায় নোটিস পাঠিয়ে দিচ্ছেন। তারপর সব মিটে যাচ্ছে। এটা দুর্ভাগ্যজনক। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, আমাদের দল কখনই অন্যায় কাজ সমর্থন করে না। কেউ ব্যক্তিগতভাবে অন্যায় করতে পারে। তার দায় দলের নয়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জানালে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শহরের বাসিন্দারা বলেন, অবৈধ কাজ নিয়ে অনেকেই প্রতিবাদ করতে চান। কিন্তু, কয়েকজন কাউন্সিলার অত্যন্ত বেপরোয়া। তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই বিপদ। সেকারণে শহরবাসীকে অনেক অন্যায় মুখ বুজে সহ্য করতে হচ্ছে। (চলবে)



