Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মাসি-মেসোকে খুন করতে পাঁচিল টপকে এসেছিল বধূ, খুনে সাহায্য করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া দুই ছেলে

মাসি-মেসোকে খুন করতে পাঁচিল টপকে এসেছিল বধূ, খুনে সাহায্য করে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুয়া দুই ছেলে
  • ১৯ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সুখেন্দু পাল, ভাতার: ভাতারের রবীন্দ্রপল্লিতে প্রাচীর টপকে ঘরে ঢুকে মাসি এবং মেসোকে খুন করে বোনঝি মহুয়া সামন্ত। তার দুই ছেলে অরিত্র এবং অনিকেত খুনে সহযোগিতা করে। দু’জনেই পলিটেকনিকের ছাত্র। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মেসো অভিজিৎ যশের কাছে প্রায়ই টাকা চাইত মহুয়া। বেশির ভাগ সময় তিনি দিয়েও দিতেন। বারবার টাকা চাইতে থাকায় মাসি ছবিরানি যশ বিরক্ত হন। কিছুদিন ধরে তাঁরা টাকা দেওয়া বন্ধ করে দেন। সেই কারণেই তাঁদের দু’জনকে খুনের ছক কষে মহুয়া। সে বর্ধমানের সরকারি কোয়ার্টারে থাকত। তার স্বামী সরকারি চাকরি করেন। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হচ্ছে। তারা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে।
Advertisement
শনিবার মহুয়া দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ভাতারে মেসোর বাড়িতে যায়। বাইরের গেটে তালা দেওয়া ছিল। বছর ৪৫ এর মহুয়া প্রাচীর টপকে ঘরে ঢোকে। সেইসময় মাসি ছবিরানি রান্নাঘরে ছিলেন। মহুয়া ঘরে ঢুকেই তাঁকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেয়। মুখ চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে খুন করে। মৃত্যু নিশ্চিত করতে মোবাইলের চার্জারের তার গলায় জড়িয়ে টান দেয়। সেই সময় তার মেসো ঘরে ছিলেন না। তিনি বাজারে গিয়েছিলেন। মাসিকে খুন করে সেই ঘরেই মেসোর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে মহুয়া। সেইসময় তার দুই ছেলে বাইরে ঘোরাঘুরি করছিল। মেসো চাবি খুলে ভিতরে ঢোকেন। স্ত্রীকে রান্নাঘরে বেঁহুশ অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। মহুয়া তখন বেডরুমে বসেছিল। মেসো আসার পর মহুয়ার দুই ছেলেও ঘরে ঢুকে যায়। তার বড় ছেলে অরিত্র সামন্ত অভিজিৎবাবুকে ধাক্কা মারে। অভিজিৎবাবুর মাথায় খাটে লাগে। সেইসময় মহুয়া বালিশ দিয়ে তাঁর নাক চেপে ধরে। তিনি ছটফট করতে থাকায় অরিত্র তাঁর দুই পা চেপে ধরে। মৃত্যু নিশ্চিত করার পর তারা আলমারিতে থাকা টাকা, সোনার গয়না ও সম্পত্তির দলিল তারা ব্যাগে ভরে নেয়। তারপর ঘরে তালা দিয়ে তিনজনেই বেরিয়ে যায়। সেখান থেকে তারা বর্ধমানের মিঠাপুকুরে সরকারি আবাসনে চলে আসে। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিজিৎবাবুর বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। তিনি একসময় হার্ডওয়ারের বড় ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসা বন্ধ হলেও তাঁর আর্থিক অবস্থা খারাপ হয়নি। প্রায় ৩০বিঘা চাষের জমি রয়েছে। তা থেকে ভালোই আয় হতো। তাঁদের ছেলেমেয়ে ছিল না। সেকারণে প্রথম থেকেই মেসোর বিপুল সম্পত্তির দিকে মহুয়ার নজর পড়ে। সে বেশকিছু সম্পত্তি আগেও তাঁকে লিখে দেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছিল। মহুয়ার দুই ছেলের জন্য তিনি মাঝেমধ্যে টাকা দিলেও সম্পত্তি লিখে দিতে চাননি। সম্প্রতি টাকা না দেওয়ায় সে তাঁদের খুনের ছক কষে। পরিকল্পনা মতোই শনিবার তাঁদের খুন করা হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ