নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: মাসিকে শ্বাসরোধ করে খুনের পর খোশমেজাজে রিলস দেখে মহুয়া। রান্নাঘরে মাসি ছবিরানি যশকে খুনের পর সে পাশের বেডরুমে চলে আসে। সেখানে বসে সে মেসো অভিজিৎ যশের জন্য অপেক্ষা করতে থাকে। অভিজিৎবাবু সেই সময় বাজারে গিয়েছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টা পর তিনি ভাতারের রবীন্দ্রপল্লির বাড়িতে ফেরেন। তাঁকে খুন করার জন্য মহুয়া এক ঘণ্টা ধরে অপেক্ষা করতে থাকে। অভিজিৎবাবু ঘরে ঢোকার পরই সে তাঁকে ধাক্কা দেয়। খাটে ধাক্কা লেগে তাঁর কপালে চোট লাগে। তিনি মাটিতে পড়ে যান। তারপরই মুখে বালিশ চেপে ধরে মহুয়া তাঁর শ্বাসরোধ করে। ‘অপারেশন’ শেষ করার পর দুই ছেলেকে নিয়ে সে লুটপাট শুরু করে। নগদ টাকা এবং গয়না হাতিয়ে চম্পট দেয়।অভিজিৎবাবু তাকে বহুবার টাকা দিয়েছে। কিন্তু, তারপরও তাকে সে খুন করল কেন? মহুয়া পুলিসকে জেরায় জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে অভিজিৎবাবু তাকে টাকা না দিয়ে ফিরিয়ে দিচ্ছিল। মাঝে কয়েকবার তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয়। মহুয়ার ধারণা ছিল, মেসো এবং মাসি অন্য কাউকে টাকা দিচ্ছে। বিপুল সম্পত্তিও তাঁরা অন্য কাউকে লিখে দিতে পারেন। সেই আশঙ্কাতেই সে তাদের খুনের ছক কষে। বাড়ি থেকে সমস্ত টাকা এবং দলিল লুট করাই তাদের পরিকল্পনা ছিল। সেটা করেছে। তাদের ধারণা ছিল দলিল তাদের কব্জায় থাকলে সম্পত্তিও তাদেরই দখলে থাকবে। জেরায় মহুয়া আরও জানিয়েছে, তাদের উপর পুলিস সন্দেহ করতে পারে, এমনটা তাদের মনে হয়নি। দুষ্কৃতীরা ডাকাতি করতে এসে লুট করেছে। এমনটা ধরে নিয়ে পুলিস তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে তাদের অনুমান ছিল। কিন্তু, অভিজিৎবাবুর এক আত্মীয়া পর্দা ফাঁস করে দেন। তিনি পুলিসকে জানান, মহুয়া মাসিকে এর আগেও মারধর করেছিল। তার উপর সন্দেহ রয়েছে। পুলিস এমন ইনপুট পেয়ে বর্ধমানের মিঠাপুকুরে মহুয়ার আবাসনে চলে আসে। তাকে দীর্ঘক্ষণ ধরে জেরা করতেই সে ভেঙে পড়ে। তারপরই সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পুলিসের কাছে চলে আসায় খুনিকে চিহ্নিত করতে আর তদন্তকারীদের দেরি হয়নি। সে পুরো বিষয়টি পুলিসকে জানায়।
Advertisement
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছে, অভিজিৎবাবুর বিপুল সম্পত্তি রয়েছে। একাধিক বাড়িও রয়েছে। তাঁদের ছেলে মেয়ে নেই। সেই কারণেই তাঁদের সম্পত্তির উপর মহুয়ার নজর পড়েছিল। এক আধিকারিক বলেন, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় ওই দম্পত্তিকে খুন করা হয়। একজন সাধারণ বধূ এমনটা করতে পারে বলে ভাবাই যায় না। দু’টি খুন করার পরও তার মধ্যে কোনও অস্বাভাবিকতা নেই। নিজের দুই ছেলেকেও বিপদে ফেলতে সে একবারও ভাবেনি। খুন করার উদ্দেশ্যই সে দুই ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে বর্ধমান থেকে ভাতারে গিয়েছিল।



