সুখেন্দু পাল, ইলামবাজার: কবি কুমুদরঞ্জন মল্লিক লিখেছিলেন, ‘বাড়ি আমার ভাঙন ধরা অজয় নদীর বাঁকে। জল যেখানে সোহাগ করে স্থলকে ঘিরে রাখে।’ অজয়ের পাড়ের অনেকেই মজা করে বলেন, এখন অজয়কে ঘিরে রাখে মাফিয়ারা। তাদের সীমাহীন লালসার জেরে আজ অজয়ের দফারফা অবস্থা। স্থানীয়রা বলছেন, একসময় কোদাল-বেলচা করে চর থেকে বালি তোলা হতো। অনেকে অবৈধভাবেও এই কাজ করত। তাতে সরকারের রাজস্ব ক্ষতি হলেও অজয়ের তেমন কিছু এসে যেত না। কিন্তু বিগত বেশ কয়েক বছর ধরে মেশিন নামিয়ে নদের দফারফা করে দেওয়া হয়েছে। ইলামবাজার এলাকায় নদীর বহু জায়গাতেই মাটি বেড়ে গিয়েছে। অজয়ে আর আর আগের মতো জল থাকে না। তবে প্রতিশোধ নিতে প্রায় প্রতি বর্ষায় এই নদ ফুঁসে উঠছে। অজয়ের বালি তুলে মাফিয়ারা ফুলেফেঁপে উঠেছে। তাতে এই নদ তার গৌরব হারাচ্ছে।
Advertisement
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এখন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ রয়েছে। তাই মাফিয়ারা দিনেরবেলা অজয়ে নামার সাহস দেখাচ্ছে না। কিন্তু গত বছরও অজয়ে নেমেছে বড় মেশিন। এমনকী জলের তলা থেকেও বালি তোলার জন্য অত্যাধুনিক মেশিন ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই মেশিনে জল আর বালি আলাদা হয়ে যায়। নদীগর্ভে ভারী ট্রাক, ট্রাক্টর সবই নেমেছে। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে এক শ্রমিক আক্ষেপ করছিলেন। তিনি বলেন, আগে বালি কারবারিরা আমাদের কাজে লাগাত। দিনভর বালি তুলে ৩০০-৪০০টাকা আয় হয়েছে। কে বৈধ, আর কে অবৈধভাবে বালি তুলত, তা আমাদের জানা থাকত না। কিন্তু আয় হতো। সংসার ভালোভাবে চলে যেত। এখন আর কাজ পাওয়া যায় না। বালি কারবারিরা নদীতে মেশিন নামায়। সেই মেশিন দিয়ে সরাসরি ট্রাক বা ট্রাক্টরে বালি ভর্তি করা হয়। চোখের সামনে অনেককে আঙুল ফুলে কলাগাছ হতে দেখলাম। কিন্তু আমাদের কিছুই হল না।
অবৈধভাবে বালি তুললে এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন না কেন? প্রশ্নটা শুনেই কেমন যেন ঘাবড়ে গেলেন ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, আপনি কি বাইরে থেকে আসছেন? প্রতিবাদ করলে কী হতে পারে, তা কি আপনার জানা নেই? কথা না বাড়িয়ে তিনি হাঁটা শুরু করলেন। অনেকেই বলছেন, চোখের সামনে অজয় থেকে বেআইনিভাবে দেদার বালি তোলা হচ্ছে। কিন্তু, কারও কিছু করার নেই। কারণ মাফিয়াদের হাত বহুদূর লম্বা। সবকিছুই ‘সেটিং’য়ে চলে। এক আধিকারিক বলেন, নদে কখনোই মেশিন নামানো যায় না। ছাঁকনিও ব্যবহার করাও যায় না। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার মতো কেউ ছিল না। সেকারণে অজয়ে অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। উপর থেকে এখন কড়া নির্দেশ আসায় আপাতত অজয় মাফিয়াদের হাত থেকে কিছুটা রেহাই পেয়েছে। কিন্তু সেটা কতদিন? সেই প্রশ্নই এখন ইলামবাজার থেকে জয়দেব সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে।
(চলবে)।
অবৈধভাবে বালি তুললে এলাকার বাসিন্দারা প্রতিবাদ করেন না কেন? প্রশ্নটা শুনেই কেমন যেন ঘাবড়ে গেলেন ৬৫ বছরের এক বৃদ্ধ। তাঁর পাল্টা প্রশ্ন, আপনি কি বাইরে থেকে আসছেন? প্রতিবাদ করলে কী হতে পারে, তা কি আপনার জানা নেই? কথা না বাড়িয়ে তিনি হাঁটা শুরু করলেন। অনেকেই বলছেন, চোখের সামনে অজয় থেকে বেআইনিভাবে দেদার বালি তোলা হচ্ছে। কিন্তু, কারও কিছু করার নেই। কারণ মাফিয়াদের হাত বহুদূর লম্বা। সবকিছুই ‘সেটিং’য়ে চলে। এক আধিকারিক বলেন, নদে কখনোই মেশিন নামানো যায় না। ছাঁকনিও ব্যবহার করাও যায় না। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধার মতো কেউ ছিল না। সেকারণে অজয়ে অনিয়মটাই নিয়ম হয়ে গিয়েছিল। উপর থেকে এখন কড়া নির্দেশ আসায় আপাতত অজয় মাফিয়াদের হাত থেকে কিছুটা রেহাই পেয়েছে। কিন্তু সেটা কতদিন? সেই প্রশ্নই এখন ইলামবাজার থেকে জয়দেব সর্বত্র ঘুরপাক খাচ্ছে।
(চলবে)।



