Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মূর্তি নদীর উপর সামসিং লালিগুরাসে কটেজ, প্রশাসনকে না জানিয়েই ছাড়পত্র পঞ্চায়েতের!

মূর্তি নদীর উপর সামসিং লালিগুরাসে কটেজ, প্রশাসনকে না জানিয়েই ছাড়পত্র পঞ্চায়েতের!
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: প্রশাসনকে কিছু না জানিয়েই সামসিং লালিগুরাসে মূর্তি নদীর উপর কটেজ তৈরির ছাড়পত্র দিয়েছে স্থানীয় পঞ্চায়েত। অভিযোগ, জেলা প্রশাসনকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে সেখানে পরিবেশবিধি এবং সুরক্ষার তোয়াক্কা না করেই একাধিক কটেজের পাশাপাশি তৈরি হয়েছে রেস্টুরেন্ট। এমন জায়গায় ওই কটেজ ও রেস্টুরেন্ট তৈরি হয়েছে, আচমকা নদীর জল বাড়লে মারাত্মক বিপদ ঘটতে পারে। তাছাড়া রেস্টুরেন্টের বর্জ্য, নোংরা জল এসে পড়ছে নদীতে। ফলে দূষিত হচ্ছে পাহাড়ি নদী। এনিয়ে বৃহস্পতিবার বৈঠকে মাটিয়ালিহাট পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্ট তলব করেন জলপাইগুড়ির জেলাশাসক শমা পারভীন।
Advertisement
জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, পঞ্চায়েতের তরফে বার্ষিক ৩৬ হাজার টাকা লিজে দেওয়া হয়েছে ওই কটেজ ও রেস্টুরেন্ট। এত কম টাকায় কেন ওই লিজ দিল পঞ্চায়েত, এক্ষেত্রে আদৌ স্থানীয় বিডিও কিংবা ভূমিদপ্তরের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কি না তা জানতে চেয়েছেন জেলাশাসক। নদীতে আচমকা জল বেড়ে গিয়ে যদি কোনও দুর্ঘটনা ঘটে, সেক্ষেত্রে তার দায় কে নেবে, সেটাও জানতে চাওয়া হয় পঞ্চায়েতের কাছে। রেস্টুরেন্টের বর্জ্য ও নোংরা জল নদীতে পড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আধিকারিকদের ব্যবস্থা নেওয়ারও নির্দেশ দেন ডিএম।
মাটিয়ালিহাট পঞ্চায়েতের প্রধান অলকা নায়েক বলেন, আগের বোর্ড ওই অনুমতি দিয়েছিল। আমাদের এক্ষেত্রে কিছু করার নেই। কটেজ ও রেস্টুরেন্ট মিলিয়ে এখন বছরে ৪০ হাজার টাকা লিজ রয়েছে। যদিও পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষের এমন বক্তব্যে মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারেননি জেলাশাসক। বৈঠকে জেলাশাসক প্রশ্ন করেন, পঞ্চায়েতের আগের বোর্ড যদি নদীর উপর কটেজ ও রেস্টুরেন্ট করার জন্য ছাড়পত্র দিয়ে থাকে, তাহলে তা রিনিউ করার সময় বর্তমান বোর্ড বিষয়টি খতিয়ে দেখল না কেন? একইসঙ্গে জেলাশাসক বলেন, গত এক বছরে আমি ওই এলাকায় চার বার ভিজিট করেছি। আগে ওখানে কোনও কটেজ ছিল না। যা হয়েছে শেষ চার-পাঁচ মাসের মধ্যে হয়েছে। সেক্ষেত্রে বর্তমান পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষ কী করছিল?
লালিগুরাসে কার্যত নদীর উপর কটেজের প্রসঙ্গ তুলে ধরে এদিনের বৈঠকে জেলাশাসক সাফ জানিয়ে দেন, নিজস্ব আয়ের পথ খুঁজতে কোনও পঞ্চায়েত যদি প্রকল্প গড়ে, তা ভালো। কিন্তু এমন কোনও প্রকল্প গড়া যাবে না, যা বিপদের কারণ হতে পারে। নদীর উপর যে কটেজ তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে অবশ্যই ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলার দরকার ছিল পঞ্চায়েতের। বিষয়টি নিয়ে ভূমিদপ্তরের সঙ্গেও কথা বলার প্রয়োজন ছিল। কোনও প্রকল্প গড়লে হবে না, পরিবেশের কথাও মাথায় রাখতে হবে। বছরে যে টাকায় লিজ দেওয়া হয়েছে, একদিনেই সেখানে ওই টাকার ব্যবসা হয়। ফলে সবটা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নিতে হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ