Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদে টোটো রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বাড়াল পরিবহণ দপ্তর

মুর্শিদাবাদে টোটো রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা বাড়াল পরিবহণ দপ্তর
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: ৯ নভেম্বর ছিল টোটোর রেজিস্ট্রেশনের শেষদিন। টোটো চালকদের আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে বিষয়টি আন্তরিকতা ও সহানুভূতির সঙ্গে দেখছে মুর্শিদাবাদ জেলা আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর। আগামী সপ্তাহে রোড সেফটি মিটিংয়ের পরই টোটো রেজিস্ট্রেশনের সময়সীমা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। পাশাপাশি আজ থেকেই রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টোটো বিক্রিতে শোরুমগুলির বিরুদ্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে পরিবহণ দপ্তর। মুর্শিদাবাদ জেলা আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক শিবাশিস সরকার বলেন, আমরা টোটো চালকদের আন্তরিকতার সঙ্গে রেজিস্ট্রেশনের জন্য আহ্বান করছি। এরপর যারা বেগড়বাই করবেন, রোড সেফটি মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েই পরিবহণ দপ্তর তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করবে। তবে যে সকল শোরুম রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টোটো বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে আমরা অ্যাকশন নিতে শুরু করেছি। শিবাশিসবাবুর দাবি, নভেম্বরের মধ্যে বহরমপুর এবং লালবাগের একশো শতাংশ টোটোর রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হয়ে যাবে।
Advertisement
চলতি বছরের শুরু থেকেই টোটোর নম্বর প্লেট, বিমা ও চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক ঘোষণা করেছিল পরিবহণ দপ্তর। তাতে বহু টোটো ইউনিয়ন বেঁকে বসেছিল। তবে দফায় দফায় আলোচনায় বসে ইউনিয়নগুলিকে রেজিস্ট্রেশনের কারণ বোঝাতে পেরেছে দপ্তর। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত অত্যন্ত ধীর গতিতেই রেজিস্ট্রেশন হয়েছে। এই সময়ে মাসে ১৮-২০টি টোটো চালক এগিয়ে এসেছিলেন। জুন মাস থেকে এক লাফে রেজিস্ট্রেশন হার মাসে ৬০০-৭০০তে পৌঁছেছে। টোটোর রেজিস্ট্রেশন ছাড়া কোনও টোটো চালককে লার্নার লাইসেন্স দেওয়া হচ্ছে না। এখন টেস্ট ছাড়া কাউকে ডিএল (ড্রাইভিং লাইসেন্স)ও দেওয়া হচ্ছে না। পরিবহণ দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এখন রোজ ১৫-২০ জন টোটো চালক ডিএলের জন্য টেস্ট দিতে আসছেন।
বহরমপুর সদর এবং লালবাগ মহকুমায় প্রায় ৮০ শতাংশ টোটোর রেজিস্ট্রেশনের হয়ে গিয়েছে। ৯ নভেম্বর পরিবহণ দপ্তর রেজিস্ট্রেশনের শেষ সীমা বেঁধে দিয়েছিল। কিন্তু টোটো চালকদের প্রতি সহানুভূতির সঙ্গে বিষয়টি দেখতে গিয়ে পরিবহণ দপ্তর সময়সীমা বাড়িয়েছে। তাতে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলেছে টোটো চালকদের। বহরমপুরের টোটো চালক অর্জুন সরকার বলেন, আমি রেজিস্ট্রেশন করাতে চাই। কিন্তু একসঙ্গে এতগুলো টাকা জোগাড় করতে পারিনি। নভেম্বরের মধ্যেই সরকারি নম্বর প্লেট লাগাব।
টোটো চালকদের প্রতি আন্তরিকতা থাকলেও শোরুম মালিকদের রেয়াত করছে না পরিবহণ দপ্তর। যেসব শোরুম রেজিস্ট্রেশন ছাড়া টোটো বিক্রি করছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া অ্যাকশন নিতে শুরু করেছে মুর্শিদাবাদ জেলা আঞ্চলিক পরিবহণ দপ্তর। বিভিন্ন সংগঠনের টোটো ইউনিয়নগুলিও দপ্তরের দিকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। তৃণমূল টোটো ইউনিয়নের সভাপতি রবিন দে বলেন, আমরা চাই সমস্ত টোটো পরিবহণ দপ্তরের আওতায় আসুক।
 
সম্পর্কিত সংবাদ