Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে নিউমেনিয়ায় সংক্রামিত ১৫০ শিশু ভর্তি, আতঙ্ক

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে নিউমেনিয়ায় সংক্রামিত ১৫০ শিশু ভর্তি, আতঙ্ক
  • ১৫ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মেডিক্যালের পেডিয়াট্রিক বিভাগে ৬০টি বেডে ভর্তি প্রায় ১৫০ জন শিশু। মেঝেতেও শিশুদের রেখে চিকিৎসা চলছে। নিউমোনিয়া ও ফুসফুস ইনফেকশন নিয়ে প্রতিদিনই বহু শিশুকে মেডিক্যাল কলেজের শিশু বিভাগে ভর্তি করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার মোট ১৪০জন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। যার মধ্যে অধিকাংশই ভাইরাল নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এনিয়ে উদ্বিগ্ন চিকিৎসকরা। একই বেডে দু’- তিনজন করে শিশুদের রেখে চিকিৎসা করাতে সংক্রমণ আরও ছড়িয়ে পড়ছে বলে মত চিকিৎসকদের। এক মাস থেকে ১২ বছর পর্যন্ত শিশুদের এখানে ভর্তি করা হচ্ছে। নিরুপায় মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন জায়গা থেকে শিশুদের মেডিক্যালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া ছাড়া কাউকে ফিরিয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। পাঁচ বছরের নীচে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার হার সব থেকে বেশি। সাধারণ হাঁচি-কাশি থেকেই এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। 
Advertisement
মেডিক্যালের পরিসংখ্যান বলছে, বুধবার ১৫০জন শিশু ভর্তি ছিল। এদিন সকালের পর কয়েকজনকে ছুটি দেওয়া হয়। দুপুরে আরও ১৫জন ভর্তি হয়েছে পেডিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগে। রোগীর চাপে রীতিমতো দিশেহারা চিকিৎসকরা। জঙ্গিপুর, লালবাগ, ডোমকল ও কান্দি মহকুমা থেকে শিশুদের লাইন লেগে আছে মেডিক্যালে। শিশু বিভাগের এক চিকিৎসক বলেন, প্রতিদিনই রোগীর চাপ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিশুদের এখানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। চিকিৎসা করা ছাড়া আমাদের তো কোনও উপায় নেই। এই মরশুমে আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় মারাত্মকভাবে ফুসফুস সংক্রমণ হচ্ছে শিশুদের। বেশকিছু শিশুকে আমরা খুব ক্রিটিকাল অবস্থায় পাচ্ছি। নিউমোনিয়া হলে শিশুদের স্বাভাবিক শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি অনেকটা বেড়ে যায়। নিউমোনিয়ার প্রধান উপসর্গ হল কাশি এবং রেসপিরেটরি রেট বেড়ে যাওয়া। এই অবস্থায় তাদের অক্সিজেন দিয়ে রাখতে হচ্ছে। পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। 
মেডিক্যালের অধ্যক্ষ অমিতকুমার দাঁ বলেন, আমাদের তো কিছু করার নেই। বিভিন্ন জায়গা থেকে মেডিক্যালে রেফার করে দেওয়া হয়। আমরা সবাইকে ভর্তি নিতে বাধ্য। চিকিৎসা করতেও বাধ্য। এই মরশুমে শিশুদের ভাইরাল নিউমোনিয়া হচ্ছে। আগামী দু’সপ্তাহ খুব ক্রিটিকাল। মেডিক্যালে আমাদের ৬০টি মাত্র বেড আছে। সেখানে ১৪০জন শিশুর চিকিৎসার ব্যবস্থা আমরা করছি। ব্লক থেকে শিশুদের এমন ভাবে আনা হচ্ছে যে তাদের অবস্থা অত্যন্ত সঙ্কটজনক। গায়ে গায়ে রেখে শিশুদের চিকিৎসা করাতে এই নিউমেনিয়া আরও সংক্রামিত হচ্ছে। সেজন্য শিশুদের মেঝেয় রেখেও ট্রিটমেন্ট করতে হচ্ছে। বহু শিশুর ইউআরআইটি ইনফেকশন আছে। এমনকী শ্বাসনালিতেও সংক্রমণ আছে। আমরা সবাইকে সুস্থ করে বাড়ি পাঠানোর চেষ্টা করছি। প্রতিদিনই ২৫-২৬টি করে শিশু ভর্তি হচ্ছে। আমাদের চিকিৎসকরা রাতদিন অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। 
নওদার আমতলার বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, আমার বাচ্চার বয়স ৪৯ দিন। আমতলা গ্রামীণ হাসপাতাল থেকে মেডিক্যালে রেফার করেন চিকিৎসকরা। ওর জ্বর হয়েছে। সেই সঙ্গে কাশি ও শ্বাসকষ্টর উপসর্গ রয়েছে। এখানে চিকিৎসকরা বেশকিছু পরীক্ষা করার জন্য দিয়েছেন। তারপর হয়তো ভর্তি নিতে পারে।  এখানে প্রচুর শিশু ভর্তি রয়েছে।
সম্পর্কিত সংবাদ