Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ কনকনে ঠান্ডায় খোলা আকাশের নীচেই রাত কাটে রোগীর আত্মীয়দের

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ কনকনে ঠান্ডায় খোলা আকাশের নীচেই রাত কাটে রোগীর আত্মীয়দের
  • ৭ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, বহরমপুর: পৌষমাসের কনকনে ঠান্ডার সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে ঘন কুয়াশা। সেই ঠান্ডাতেই মাথার উপর পলিথিন টাঙিয়ে রাত জাগছেন মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজের মাতৃ মা বিভাগে ভর্তি প্রসূতি ও রোগীদের পরিজনরা। সংখ্যায় তাঁরা কয়েক ’শ। কুকুর, ইঁদুর, শিয়াল ও চোরের উপদ্রব ঠেকাতে পালা করে রাত জাগেন তাঁরা। এইভাবেই কাটছে সপ্তাহ-দু’ সপ্তাহ বা তারও বেশি। রোগীর পরিজনদের অভিযোগ, পুলিসের টহল দেওয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু রাতের মেডিক্যালে চত্বরে পুলিসের দেখা মেলে না। উপায় নেই, তাই বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নীচেই রাত কাটাতে হচ্ছে। সর্দি, জ্বর বা ভাইরাল কোনও রোগের উপসর্গ নিয়ে হয়তো বাড়ি ফিরতে হবে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবশ্য দাবি, মাতৃ মা বিভাগের মূল গেটের পাশেই ছাউনি দেওয়া শেড রয়েছে। ইমারজেন্সির সামনে রোগীর পরিজনদের থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে। রোগীর পরিজনদের পাল্টা অভিযোগ, সেই জায়গা যথেষ্ট নয়। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার কাম ভাইস প্রিন্সিপ্যাল (এমএসভিপি) অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, রোগীর আত্মীয়দের কথা ভেবেই রাত্রিবাসের জন্য শেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু অধিকাংশ মানুষ মাতৃ মা বিভাগের গেটের সামনেই থাকতে পছন্দ করেন। 
Advertisement
জেলার পাঁচটি মহকুমা হাসপাতাল থেকে প্রসূতিদের মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্লক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকেও বহু প্রসূতিকে মাতৃ মা বিভাগে পঠানো হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গিয়েছে, দৈনিক গড়ে ৫০ জন প্রসূতি মেডিক্যাল কলেজের মাতৃ মা বিভাগে ভর্তি হয়। দৈনিক গড়ে কমবেশি একই সংখ্যক রোগীকে ডিসচার্জ করা হয়। ১৮০-২২০ জন প্রসূতি ভর্তি থাকেন। সঙ্গে তাঁদের সদ্যোজাতদের রাখা হয়। চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে আপাতত কোন রোগী অভিযোগের আঙুল তোলেননি। তবে তাঁদের অভিযোগ, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মতো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে রোগীর পরিজনদের থাকার ও নিরাপত্তার অভাব রয়েছে। এরজন্য কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা রয়েছে।
খড়গ্রাম ব্লকের আমজুয়া থেকে গত শনিবার নাতনি সরবানু খাতুনকে ভর্তি করেছেন লালবানু বিবি। সঙ্গে রয়েছেন পরিবারের আরও দুজন। লালবানু বিবি বলেন, তিনদিন থেকে ঠান্ডা, মশার কামড় সহ্য করে পড়ে রয়েছি। নদীয়ার দেবগ্রামের বাসিন্দা সালমা সুলতানা ১৮ দিন ধরে সদ্যোজাতকে নিয়ে ভর্তি। সালমা সুলতানার মা রশিদা বিবি বলেন, রাত বাড়লেই ঠান্ডার দাপট বাড়ে। কাঁপুনি আসে। রাত কাটে জেগে। দিনে ঘুমের জের কাটাতে হয়। নওদা ব্লকের বান্দায়নগরের বাসিন্দা লালন শেখ বলেন, রাতে ঠান্ডার পাশাপাশি কুকুর, শিয়াল, ইঁদুরের সঙ্গে পাল্লা দিতে হয়। চুরির আতঙ্কও রয়েছে। বছর বছর ধরে একই অব্যবস্থা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নজর দেওয়া উচিত।
সম্পর্কিত সংবাদ