Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মরুরাজ্যের নারীপাচার চক্র সক্রিয় বাংলাতেও

মরুরাজ্যের নারীপাচার চক্র সক্রিয় বাংলাতেও
  • ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: রাজস্থানের নারী পাচারকারীরা এরাজ্যে নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে রেখেছে। কাজ দেওয়ার নামে নাবালিকাদের সেরাজ্যে নিয়ে গিয়ে তারা ১ লক্ষ ৭০হাজার থেকে দু’লক্ষ টাকায় বিক্রি করছে। সিন্ডিকেটের অন্যতম মাথা রমেশ কুমারকে গ্রেপ্তার করে গলসি থানার পুলিস এমনটাই জানতে পেরেছে। রমেশ রাজস্থানের পালি জেলার নানা থানা এলাকার বাসিন্দা। আসানসোলে তার ডেরা রয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের পুলিস সুপার সায়ক দাস বলেন, ধৃতকে রাজস্থান থেকে আনা হচ্ছে। এই চক্রে আর কারা কারা জড়িত রয়েছে, তা ধৃতকে জেরা করে জানা হবে।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গলসির সাটিনন্দী এলাকার এক নাবালিকা ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়। পরিবারের লোকজন গলসি থানায় নিখোঁজ ডায়েরি করে। পুলিস তদন্তে নেমে জানতে পারে ওই নাবালিকা রাজস্থানে রয়েছে। তারপরই পুলিস সুপার সায়ক দাসের নির্দেশে তদন্তকারীদের একটি টিম মরু রাজ্যে পৌঁছে যায়। কিছুদিন আগে ওই নাবালিকাকে উদ্ধার করে আনা হয়। তাকে আটকে রাখার অভিযোগে পুলিস সেরাজ্যের একজনকে গ্রেপ্তার করে। তাকে জেরা করে পুলিস জানতে পারে সে রমেশের কাছে থেকে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকার বিনিময়ে ওই নাবালিকাকে কিনেছিল। তারপরই রমেশের খোঁজ শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া ওই  নাবালিকা বলে, বর্ধমানের এক যুবকের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। সে কাজ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। একদিন বর্ধমান স্টেশনে সে ডেকে পাঠায়। সেখা঩নে ওই যুবক রমেশের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়। রমেশের একটি সংস্থা রয়েছে। সে অনেককে কাজ দিয়েছে বলে ওই যুবক জানায়। রমেশ স্টেশনে দাঁড়িয়ে বলে, রাজস্থানে গেলে মাসে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা বেতনে কাজ পাওয়া যাবে। সরল বিশ্বাসে সে তার সঙ্গে ট্রেনে চাপে। সেই রাতে তাকে নিয়ে সে আসানসোলে পৌঁছয়। একটি ঘরে তাকে রাখা হয়েছিল। পরের দিন সকাল ৯টা নাগাদ রমেশ আসানসোল স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে। রাজস্থানের নানা থানা এলাকার একটি ঘরে দু’দিন তাকে রাখা হয়েছিল। পরে এক যুবক এসে তাকে নিয়ে যায়। প্রথমে সে তার সঙ্গে যেতে রাজি হয়নি। প্রাণনাশের ভয় দেখানোর পর সে যেতে বাধ্য হয়।
ওই নাবালিকা বলে, রমেশ ওই যুবকের হাতে তুলে দিয়ে চম্পট দেয়। ওখান থেকে বাড়ি ফিরতে চাইছিলাম। ওই যুবক জানায় সে আমাকে কিনে নিয়েছে। কোথাও যেতে পারব না। এরপরই একটি ঘরে আটকে রেখে যৌন অত্যাচার শুরু হয়। কারও সঙ্গে কথা বলতে দিত না। বাড়ির সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগ করতে দিত না। প্রায় এক বছর মা বাবার সঙ্গে কথা বলতে পারিনি। গত বছর নভেম্বর মাসে এক প্রতিবেশীর সহযোগিতায় বাড়িতে ফোন করে বিষয়টি জানাই। 
ওই নাবালিকার পরিবারের এক সদস্য বলেন, মেয়েকে রাজস্থানে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে, এই বিষয়টি জানার পর ফের থানার সঙ্গে যোগাযোগ করি। তারপরই পুলিসের একটি টিম সেখানে পৌঁছে ‘অপারেশন’ শুরু করে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ