Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

মুরারইয়ে বিডিওর সামনেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ

মুরারইয়ে বিডিওর সামনেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ
  • ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: দু’দিন আগেই মুরারইয়ের আব্দুল্লাপুরে বাংলার বাড়ি প্রকল্পের রিভিউ সার্ভে চলাকালীন বিডিওর সামনেই তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এলাকা। এবার মুরারইয়ের রাজগ্রামে গ্রামসভার মিটিং চলাকালীন ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদের ঘিরে বিক্ষোভ দেখালেন একাংশ তৃণমূল কর্মী। তাঁদের দাবি, অভিযোগ জানানোর পরও  বাংলার বাড়ি প্রকল্পের রিভিউ সার্ভেতে আসেননি প্রশাসনের কেউই। এই অবস্থায় গ্রামসভার মিটিং করে তালিকা চূড়ান্ত করতে চাইছে প্রশাসনের কর্তারা। তাই এদিনের বিক্ষোভ।
Advertisement
বাংলার বাড়ি প্রকল্পের সার্ভের তালিকা ধরে গ্রাম ঘুরে ঘুরে তদন্ত করে দেখেছেন ব্লক প্রশাসনের কর্তারা। গত ২৭ নভেম্বর সমস্ত ব্লক অফিসে খসড়া তালিকা প্রকাশ হয়। এরপরই ব্লক অফিসগুলিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। অনেকে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ জানান। যার জন্য রিভিউ সার্ভে শুরু হয়েছে। এরপর গ্রামসভা থেকে পাশ হয়ে আসবে এই তালিকা। সেই মতো বুধবার বিকেলে মুরারইয়ের রাজগ্রামে গ্রামসভার বৈঠক হয়। সেখানে ব্লক প্রশাসনের পাশাপাশি রাজগ্রাম পঞ্চায়েতের জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ হাজির হয়েছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৈঠক চলাকালীন তালিকা থেকে বাদ পড়া সন্তোষপুর গ্রামের মানুষজন বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। 
বিক্ষোভকারী জাহিদুল শেখ বলেন, সার্ভের তালিকায় নাম থাকলেও আমার নাম বাদ পড়েছে। বর্তমানে আমি বোনের ইন্দিরা আবাস যোজনায় পাওয়া বাড়িতে বাস করছি। বিডিও কার নির্দেশে রাজনীতি করছে। আরেক বিক্ষোভকারী বাসার শেখ বলেন, আমার পাকাবাড়ি হলেও ছেলে কাঁচাবাড়িতে বাস করে। বিডিও ছেলের নাম বাদ দিয়েছে। কেন এটা হবে। 
তৃণমূলের এই অঞ্চলের সভাপতি গাউস সাহেব বলেন, সন্তোষপুরে ৯৮ জনের নাম সার্ভের তালিকায় ছিল। সেখানে ২৭ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁদের অনেকের কাঁচাবাড়ি রয়েছে। রিভিউ সার্ভের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সেই সার্ভে না করেই গ্রামসভায় তালিকা পাশ করছিল ব্লকের লোকজন। তাতেই বঞ্চিতরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আমরা চাই, রিভিউ সার্ভের পরই চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হোক।
যদিও মুরারই-১ ব্লকের বিডিও বীরেন্দর অধিকারী বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে সুপার চেকিং করেই নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তাঁদের কারোর পাকাবাড়ি আছে, কেউ আবার ডাম্পারের মালিক। আশেপাশের কাঁচাবাড়ি দেখিয়ে তাঁরা নাম পাশ করার চেষ্টা করেছিল। সেটা না করায় এখনও উল্টোপাল্টা বলা হচ্ছে। আমি সেই তালিকাও তুলে দিতে রাজি। যে কেউ সেই তালিকা ধরে গ্রামে ঘুরলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, দু’দিন আগেই রিভিউ সার্ভেকে কেন্দ্র করে বিডিওর সামনে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ সামনে এসেছে। যার জেরে পুলিস চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। প্রশাসনিক এক কর্তা বলেন, প্রশাসনের লোকজনকে চমকে ধমকে এক শ্রেণির মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও প্রকল্পে স্বচ্ছতা আনতে মরিয়া জেলা প্রশাসন।  
সম্পর্কিত সংবাদ